চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে বাজেট ঘোষণা করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য। নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার পাশাপাশি নগরীর হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নগরবাসীর অভিযোগ ও সেবা সহজ করতে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।
মেয়র জানান, বিএফআইডিসি রোডে চসিকের ৮ একর জমিতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চসিকের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২২৬ জন, যা প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, এতে অনিয়ম কমবে এবং নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এই সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে কাজ করছে চসিক।
স্মার্ট সিটি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট, ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বাজেটে তুলে ধরা হয়।
পরিচ্ছন্নতা খাতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন মেয়র। তিনি জানান, নগরীতে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
চসিকের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন এবং অবসরপ্রাপ্তদের আনুতোষিকও নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতার শেষাংশে তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে একটি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 





















