সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩৬টি। এরমধ্যে ৩০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে বিদ্যালয় গুলোতে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকদের চাকরি থেকে অবসর এবং মৃত্যুজনিত কারণে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য হয়। যা আর পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষককের পদে নিয়োগ না হওয়ায় আর প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ হয়নি। এতে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানসহ দাফতরিক নানা কাজে সমস্যাসহ সার্বিক শিক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে।
অন্যদিকে, ওইসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদেরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তারাই প্রধান শিক্ষকের পদ সামলাচ্ছেন।
জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের দাফরিক কাজ করতে গিয়ে শ্রেণি কক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে পারছেন না। আবার প্রধান শিক্ষকের একটি পদ শূণ্য থাকার মানে বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক কম থাকা। এ ছাড়া নিয়মিত একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যেভাবে দক্ষতার সাথে দাফতরিক কাজসহ বিদ্যালয় পরিচালনা করতে পারেন, তা একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব না।
এদিকে, ২০১৩ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিফতর থেকে মাত্র এক বার সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিলেও এরপর গত দশ বছরে আর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদ গত প্রায় এক দশকেও আর পূরণ হয়নি। তাই সংশ্লিট বিভাগ ওই সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ চালানোর জন্য জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছে।
আবার গত ২০১৮ সালের জুনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর তাড়াশ উপজেলার ৪৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৯ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দেন। তারা অতিরিক্ত এক হাজার পাঁচ শত টাকা ভাতায় প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব প্রায় পাঁচ বছর হলো পালন করলেও তারা এখনও প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্থায়ী হতে পারেনি।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী জানান, তাড়াশ উপজেলায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। তবে ৩০ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া আছে। তারপরও দাফতরিক কাজ ও পাঠদানে কিছু সমস্যা থেকেই যায়।
তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই। কারণ নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদন্নোতির বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অদিদফতরের আওতাধীন।
























