- ৩৫টির মধ্যে ১৭টিই উচ্চখেলাপির ভারে ন্যুব্জ ।
- ৯ প্রতিষ্ঠানের বিতরণকৃত ঋণের অধিকাংশই খেলাপি ।
- ১০টির প্রভিশন ঘাটতি ২০০০ কোটি টাকা
নানা অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই ১৭টিই উচ্চখেলাপির ভারে খুঁড়িয়ে চলছে। আর ৯ প্রতিষ্ঠানের বিতরণকৃত ঋণের অধিকাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সিঞ্চিত হিসেবে রাখা ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ২৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ খেরাপি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ছিল ১৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৬৫৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সেই অনুযায়ী জুন থেকে সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারে খেলাপি বেড়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার ভুঁইয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, করোনা পরবর্তী কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া ডেফারেল সুবিধাটা উঠে গেছে। তারপর ডলার ক্রাইসিসসহ নানা সমস্যার কারণেই ব্যবসায়ীরা ঠিক মতো ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। এর সঙ্গে ঠিক মতো ডিপোজিট কালেকশন বাড়ছে না। এসব কারণেই মূলত খেলাপি বেড়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইন অনুযায়ী কাজ করছি। আশা করছি ডিসেম্বর কোয়ার্টারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি কমে আসবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে ১০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মোট ১ হাজার ৯৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এভিভা ফাইন্যান্সের খেলাপি ১ হাজার ৯০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; যা মোট ঋণের ৭১ দশমিক ৭২ শতাংশ। খেলাপির বিরতিতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৫৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বে লিসিংয়ের মোটি খেলাপি ৬৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা; যা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ৮২ শতাংশ। খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এফএএস ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ১ হাজার ৬৪৫ কোটি ১১ লাখ, যা মোট ঋণের ৮৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৬৪৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ৭৯৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। জিএসপি ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ৭২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৯২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৩১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। হজ ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ৩৭৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আইআইডিএফসির মোট খেলাপি ৬১০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মেরিডিয়ান ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ২০৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের মোট খেলাপি ৮৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১৪৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ফনিক্স ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ১ হাজার ৫৬৭ কোটি শূন্য ২ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর খেলাপির বিপরীতে রাখা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ২১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
এছাড়া সেপ্টেম্বর শেষে উচ্চখেলাপির ভারে খুঁড়িয়ে হাঁটা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিআইএফসির খেলাপি ৭৪৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট ঋনের ৯৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। সিভিসি ফাইন্যান্সের ২৩২ কোটি ৮৮ লাখ, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ৮৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৯৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের মোট খেলাপি ৩ হাজার ৯১৭ কোটি ২০ লাখ, যা মোট ঋণের ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ৩০০ কোটি ২০ লাখ, যা মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের ১ হাজার ৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৯৯ দশমিক ০২ শতাংশ। ইউনিয়ন ক্যাপিটালের মোট খেলাপি ৫৪৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৪৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং উত্তরা ফাইন্যান্সের মোট খেলাপি ১ হাজার ১৪৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৫০ দশমিক ৮২ শতাংশ।


























