ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ) ২৮তম আসরের গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিন। শীত উপেক্ষা করে মেলায় বাড়তে শুরু করেছে দর্শনার্থী। সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলছে না। কনকনে শীতে জবুথবু জনজীবন। তবুও বাণিজ্যমেলায় আসছেন দর্শনার্থীরা। মেলায় বড়দের পাশাপাশি আসছে শিশু-কিশোররা। কেউবা আসছেন দেখতে, কেউবা পরিবার নিয়ে আসছেন কেনাকাটা করতে।
প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যমেলা শুরু হলেও এবার নির্বাচনের কারণে পিছিয়ে যায় মেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলে স্থায়ী কেন্দ্র বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে। ২১ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে মেলা। ছুটির দিন মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য রাজধানীর ফার্মগেট ও কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আলাদা বাস ছাড়বে। মেলায় আসতে ফার্মগেট থেকে ৭০ টাকা ও কুড়িল থেকে ৩৫ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে দর্শনার্থীদের। এ বছর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৫০ টাকা ও ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে।
এবারের আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সংখ্যা ৩৫১টি। এ ছাড়া দুই হলে ১৭৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে রেস্তোরাঁ, মসজিদ, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শিশুপার্ক, মা ও শিশু কেন্দ্র।
কথা হয় মেলায় আগত দর্শনার্থী মোস্তাকিম আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইচ্ছা ছিল প্রথম দিনই মেলায় আসার। কিন্তু কাজ থাকায় আসা হয়নি। তাই আজ চলে এলাম। ভালোই লাগছে।
বন্ধুসহ মেলায় এসে সালাহ উদ্দিন বলেন, আজ সকাল থেকেই ভালো শীত। তবে ভাবলাম এ শীতের মধ্যেই ঘুরে আসি। তাই চলে এলাম। প্রতি বছরই বাণিজ্যমেলায় আসি। এবার যদিও ২০ দিন পর মেলা শুরু হয়েছে। তবে এসেছি, ঘুরে ঘুরে দেখছি, কিছু ভালো লাগলে কিনে নেব।
মেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরোদমে মেলা শুরু হলে ক্রেতার পরিমাণ আরো বাড়বে। মেলা মাত্র শুরু হয়েছে। শীতের পরিমাণ একটু বেশি। তাই ক্রেতারা সেভাবে আসছে না। আশা করছি সামনে ক্রেতার সমাগম বাড়বে।
এদিকে মেলার দ্বিতীয় দিনেও সম্পন্ন হয়নি অনেক স্টলের কাজ। কোনো স্টলের কাজ রয়েছে মাঝপথে, কোনো স্টলের কাজ শেষের দিকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দুদিন কোনো কাজ করা যায়নি। তাই নির্ধারিত সময়ে তারা স্টলের কাজ শেষ করতে পারেননি।
আরেকটি স্টলে চলছিল পণ্য সাজানোর কাজ। স্টলের কর্মী করিম বলেন, সময়মতো লোক না আসায় স্টলের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে আজ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে।
স/মিফা


























