💥 ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত নতুন ৩৮ জন, ঢাকায় বেশি
💥 এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৪ হাজার ২২০ জন
💥 মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪৮১ জন
💥 জেএন.১৯ ভেরিয়েন্ট বাড়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
এমনিতেই শীতকাল এলে শিশু এবং বয়স্করা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এর পাশাপাশি যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের মধ্যেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমন অবস্থায় আবারও দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর জেএন.১৯ ভেরিয়েন্ট বাড়ায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ৩৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৪৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে এই ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে ৩৭ জন রোগীর শরীরে। আর কক্সবাজারে ১০টি নমুনা পরীক্ষা করে একজন রোগীর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। সারাদেশে এই সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ জন। এ পর্যন্ত সারাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৮শ ৬১ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ২০ লাখ ১৪ হাজার ২শ ২০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। তবে, এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ২৯ হাজার ৪শ ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগী মৃত্যুবরণ করেছে ১৮ হাজার ৮শ ৭ জন। নারী রোগী মৃত্যুবরণ করেছে ১০ হাজার ৬শ ৭৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, নগরীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এ ৮টি নমুনা, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট ও প্যাথলজিতে ৬৮টি, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ৭২টি, এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩টি, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে ১টি, প্রভা হেলথ বাংলাদেশ লিমিটেড এ ১৪টি, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি, ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড এ ১৬টি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২টি, বায়োমেড ডায়াগনস্টিকসে ২টি, ডিএমএফআর মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড ল্যাবে ২টি, আইসিডিডিআর,বি মলিকুলার ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে ২টি, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩টি, নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেস লিমিটেড এ ২টি, বিআরবি হাসপাতালে ১টি, আজগর আলী হাসপাতালে ১টি, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮টি, ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ৪টি ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১টি, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল, গাজীপুরে ১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের শরীরে। সুস্থ হয়েছে ২২ জন। ২২ জানুয়ারি ৩০ জনের শরীরে এই ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এদিন সুস্থ হয়েছে ৮ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ১ জন। ২১ জানুয়ারি করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে ৩৪ জনের শরীরে। এদিন সুস্থ হয়েছে ১৮ জন। এদিন মৃত্যুবরণ করেছে ১ জন। ২০ জানুয়ারি সনাক্ত হয়েছে ১৩ জন। স্স্থু হয়েছে ১০ জন। ১৯ জানুয়ারি রোগ সনাক্ত হয়েছে ২২ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৬ জন। ১৮ জানুয়ারি সনাক্ত হয়েছে ১৮ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ জন। ১৭ জানুয়ারি রোগ সনাক্ত হয়েছে ২০ জনের। সুস্থ হয়েছে ১৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এইডস এন্ড এসটিডি কন্ট্রোল (এন এ এস সি)র উপ পরিচালক হাসপাতাল-২ শেখ দাউদ আদনান এক নোটিশে জানান, বিশে^র কিছু দেশে কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায় উচ্চ ঝুকিঁপূর্ণ স্থানে যেমন হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদেরকে সতর্ক হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হলো। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলো। সার্জারি অথবা অন্য কোন রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কেবল মাত্র কোভিড-১৯ লক্ষণ বা উপসর্গ থাকলে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হলো।
এদিকে, ১৭ জানুয়ারি অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স বিভাগের সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সই করা এদেশে কোভিড-১৯ টিকা দ্রুত দিতে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এই ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী, স্বল্পরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব) জনগোষ্ঠী ও গর্ভবতী নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা শহরের ৮টি কেন্দ্রে বুস্টার ডোজ অর্থাৎ ৩য় এবং ৪র্থ ডোজ ফাইজার ভিসিভি ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। কেন্দ্রগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিডফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এই টিকা কার্যক্রমে ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের ১ম, ২য় এবং বুস্টার ডোজ (৩য়, ৪র্থ ডোজ) প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ১ম এবং ২য় ডোজ টিকা পাবার প্রমাণস্বরূপ ভ্যাকসিনের নাম এবং তারিখ উল্লেখপূর্বক কোভিড-১৯ টিকাদান কার্ড সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে প্রদান করা হবে। ৩য় এবং ৪র্থ ডোজ টিকার ক্ষেত্রে সুরক্ষা ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ থেকে টিকাকার্ড ডাউনলোড করে সাথে আনতে হবে।























