১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

আবারও মিয়ানমারের মর্টার শেল পড়ল বাংলাদেশে

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি লোকালয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। যেকোনো মুহূর্তে ফের গোলাগুলির আশঙ্কা করছেন তারা। মঙ্গলবার রাতেও অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি তিন নম্বর ঘুমধুম ইউনিয়নের ভাজাবনিয়া সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ও জাদিমোরা গ্রামের মাঝামাঝি লালদিয়া সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আবারও থেমে থেমে মর্টার ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে ওই সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এলাকাটি হ্নীলা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে থেমে থেমে সংঘাত চলছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় দু’পক্ষের ছোড়া গোলা মিয়ানমারের সীমানা পেরিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী লোকালয়ে এসে পড়ছে। এতে প্রতিদিনের কাজসহ শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। সোমবার দুপুরে কোনারপাড়া এলাকায় বিস্ফোরিত মর্টার শেলের খোসা পাওয়া যায়। মঙ্গলবারও দিনগত রাতে ঘোনারপাড়া এলাকায় মিয়ানমার থেকে নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নূরজাহান বেগম বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলি ও ভারী গোলার শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। কোন সময় আবার গোলাগুলি শুরু হয় তা বলা মুশকিল। এ পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে খুবই ভয় লাগে।
তুমব্রু ঘোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সিদ্দিক বলেন, মধ্যরাতে গোলাগুলি শুরু হলে ভয়ে কাঁচাঘরের বাসিন্দারা পাড়ার বা কাছাকাছি পাকা দালানে গিয়ে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার দিনগত রাতে যখন আবারও গোলাগুলি শুরু হয় তখন অন্যের ঘরে আশ্রয় না পেয়ে সীমান্ত সড়কের ওপারে আশ্রয় নিয়েছিলাম।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসময় স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ও জাদিমোরা গ্রামের মাঝামাঝি লালদিয়া সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আবারও থেমে থেমে মর্টার ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এলাকাটি হ্নীলা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। ওই সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার ভোররাত তিনটা থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তে গত বছর থেকে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গোলাগুলির ঘটনা ঘটে আসছে। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে মর্টার ও গুলির শব্দ ভেসে আসছে। এটি তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তবে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাতে এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো ধরনের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারে ছিলাম, কিন্তু বুধবার ভোররাত ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত লালদিয়া সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের জামবনিয়া, রাইম্মবিল, পেরাংপুরু ও কাইনবন্যা এলাকায় থেমে থেমে মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলি হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, মিয়ানমারের সীমান্তে ২৮টি মর্টার শেল ও হাজারের বেশি গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে করে সীমান্তের এ পারে বসবাসরতরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। লোকজনকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরের মর্টার শেল ও গুলি এ পারে এসে পড়ে কি না, সে আতঙ্কে ভুগছেন টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোনা-আফিম সমৃদ্ধ অঞ্চল দখল বিদ্রোহীদের : সামরিক জান্তাকে হটিয়ে দিয়ে কাচিন রাজ্যের সোনার খনি ও আফিম সমৃদ্ধ অঞ্চল তানাই দখল করেছে দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং কাচিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (কেএফডিএফ)। তানাইয়ের দালু গ্রামে সামরিক বাহিনীর যে ঘাঁটি আছে সেটি এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত রোববার বিদ্রোহীরা এই ঘাঁটি দখল করে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি। সশস্ত্র গোষ্ঠী কেআইএ মুখপাত্র নাও বু ওই সেনাঘাঁটি দখলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘাঁটি দখলের সময় কতজন হতাহত হয়েছেন এবং কী পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
কেআইএ জানিয়েছে, দালু গ্রামে টানা দুদিন অব্যাহত লড়াই চলার পর সেনাঘাঁটি দখল করতে সমর্থ হয় বিদ্রোহীরা। এই ঘাঁটি সামরিক জান্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এই ঘাঁটির সেনারা সাগিং থেকে চিদিং নদীর মাধ্যমে কাচিনে অস্ত্র নিয়ে আসছিল। নদীটি তানাইয়ের মাঝ বরাবর দিয়ে বয়ে গেছে। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা ঘাঁটি দখলের পর রোববার যুদ্ধবিমান দিয়ে সেখানে দুইবার বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী।
নাও বু আরও জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে দীর্ঘসময় ধরে সোনা উত্তোলন এবং আফিম চাষের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করছিল জান্তা। আর এ কারণে তারা এ ঘাঁটির দখল ধরে রাখতে বেশ তৎপর ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর কাচিনে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে হামলা চালানো শুরু করে কেআইএ বিদ্রোহীরা। এরপর তারা এ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি দখল করতে সমর্থ হয়েছে।

 

 

 

স/ম

আবারও মিয়ানমারের মর্টার শেল পড়ল বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি লোকালয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। যেকোনো মুহূর্তে ফের গোলাগুলির আশঙ্কা করছেন তারা। মঙ্গলবার রাতেও অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি তিন নম্বর ঘুমধুম ইউনিয়নের ভাজাবনিয়া সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ও জাদিমোরা গ্রামের মাঝামাঝি লালদিয়া সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আবারও থেমে থেমে মর্টার ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে ওই সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এলাকাটি হ্নীলা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে থেমে থেমে সংঘাত চলছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় দু’পক্ষের ছোড়া গোলা মিয়ানমারের সীমানা পেরিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী লোকালয়ে এসে পড়ছে। এতে প্রতিদিনের কাজসহ শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। সোমবার দুপুরে কোনারপাড়া এলাকায় বিস্ফোরিত মর্টার শেলের খোসা পাওয়া যায়। মঙ্গলবারও দিনগত রাতে ঘোনারপাড়া এলাকায় মিয়ানমার থেকে নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভাজাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নূরজাহান বেগম বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলি ও ভারী গোলার শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। কোন সময় আবার গোলাগুলি শুরু হয় তা বলা মুশকিল। এ পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে খুবই ভয় লাগে।
তুমব্রু ঘোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সিদ্দিক বলেন, মধ্যরাতে গোলাগুলি শুরু হলে ভয়ে কাঁচাঘরের বাসিন্দারা পাড়ার বা কাছাকাছি পাকা দালানে গিয়ে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার দিনগত রাতে যখন আবারও গোলাগুলি শুরু হয় তখন অন্যের ঘরে আশ্রয় না পেয়ে সীমান্ত সড়কের ওপারে আশ্রয় নিয়েছিলাম।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে। এসময় স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দমদমিয়া ও জাদিমোরা গ্রামের মাঝামাঝি লালদিয়া সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আবারও থেমে থেমে মর্টার ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এলাকাটি হ্নীলা ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। ওই সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গতকাল বুধবার ভোররাত তিনটা থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তে গত বছর থেকে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গোলাগুলির ঘটনা ঘটে আসছে। টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে মর্টার ও গুলির শব্দ ভেসে আসছে। এটি তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তবে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাতে এ সমস্যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো ধরনের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না ঘটে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারে ছিলাম, কিন্তু বুধবার ভোররাত ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত লালদিয়া সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের জামবনিয়া, রাইম্মবিল, পেরাংপুরু ও কাইনবন্যা এলাকায় থেমে থেমে মর্টার শেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলি হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, মিয়ানমারের সীমান্তে ২৮টি মর্টার শেল ও হাজারের বেশি গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে করে সীমান্তের এ পারে বসবাসরতরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। লোকজনকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরের মর্টার শেল ও গুলি এ পারে এসে পড়ে কি না, সে আতঙ্কে ভুগছেন টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোনা-আফিম সমৃদ্ধ অঞ্চল দখল বিদ্রোহীদের : সামরিক জান্তাকে হটিয়ে দিয়ে কাচিন রাজ্যের সোনার খনি ও আফিম সমৃদ্ধ অঞ্চল তানাই দখল করেছে দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) এবং কাচিন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (কেএফডিএফ)। তানাইয়ের দালু গ্রামে সামরিক বাহিনীর যে ঘাঁটি আছে সেটি এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত রোববার বিদ্রোহীরা এই ঘাঁটি দখল করে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি। সশস্ত্র গোষ্ঠী কেআইএ মুখপাত্র নাও বু ওই সেনাঘাঁটি দখলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘাঁটি দখলের সময় কতজন হতাহত হয়েছেন এবং কী পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
কেআইএ জানিয়েছে, দালু গ্রামে টানা দুদিন অব্যাহত লড়াই চলার পর সেনাঘাঁটি দখল করতে সমর্থ হয় বিদ্রোহীরা। এই ঘাঁটি সামরিক জান্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এই ঘাঁটির সেনারা সাগিং থেকে চিদিং নদীর মাধ্যমে কাচিনে অস্ত্র নিয়ে আসছিল। নদীটি তানাইয়ের মাঝ বরাবর দিয়ে বয়ে গেছে। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা ঘাঁটি দখলের পর রোববার যুদ্ধবিমান দিয়ে সেখানে দুইবার বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী।
নাও বু আরও জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে দীর্ঘসময় ধরে সোনা উত্তোলন এবং আফিম চাষের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করছিল জান্তা। আর এ কারণে তারা এ ঘাঁটির দখল ধরে রাখতে বেশ তৎপর ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর কাচিনে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে হামলা চালানো শুরু করে কেআইএ বিদ্রোহীরা। এরপর তারা এ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি দখল করতে সমর্থ হয়েছে।

 

 

 

স/ম