বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলমান সংঘর্ষের কারণে বাংলাদেশে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।
গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বিজিবি প্রধান বলেন, আমরা ধৈর্য ধরে মানবিক দিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনাও সেরকমই। তিনি আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা কোনোভাবেই নতুন করে আর রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। তিনি বলেন, গত সোমবার রাত পর্যন্ত ১১৫ জন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি সদস্য, সেনাসদস্য আত্মসমর্পণ বা আমাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। আজ (গতকাল) সকালে আরও ১১৪ জন যোগ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ২২৯ জন আশ্রয় নিলেন। পরবর্তীকালে দুপুরের মধ্যে আরও ৩৫ জন যোগ হলে ২৬৪ জনকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদের থাকা-খাবারের ব্যবস্থা করেছি। তাদের মধ্যে ১৫ জন আহত ছিলেন। আর তার ৮ জন ছিলেন গুরুতর আহত। তাদের মধ্যে চারজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বিজিবির
ব্যবস্থাপনায় ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিজিবির ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিজিবি ডিজি বলেন, সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি আপনারা জানেন। মিয়ানমারে গোলাগুলির মধ্যে কিছু শেল এসে বাংলাদেশে পড়ছে। তাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সোমবার এক রোহিঙ্গা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা প্রোটেস্ট নোট দিয়েছি। মিয়ানমারের ডিএ (ডিফেন্স অ্যাটাচ) আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। সবদিক এঙ্গেজ করে কীভাবে এর আশু সমাধান করা যায়, সে চেষ্টা আমরা করছি।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আজকে (গতকাল ) ৬৫ জন রোহিঙ্গা বোটের মাধ্যমে নদীপথে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। আমাদের টেকনাফ বিজিবি তাদের প্রতিহত করেছে। তাদের পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা নতুন করে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আর প্রবেশ করতে দেব না। এভাবে বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
স/ম

























