১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
পেঁয়াজের দাম লাগামহীন

১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

নতুন পেঁয়াজ আসা পর্যন্ত বাড়তি দাম থাকতে পারে
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। নিয়মিত বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান রয়েছে অভিযান কার্যক্রম। তবুও দিন দিন ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। এতে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ থাকলেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ বা কৃষকের মুড়িকাটা পেঁয়াজ। গত মাসের শেষের দিকে এসে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি হাঁকায়। এরপর পেঁয়াজের দাম ১০৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। শুক্রবার সেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২০ টাকা ওঠে। একদিনের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে শনিবার তা ১৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ফলে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে মোটামুটি ৫০ টাকা। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩ টাকার বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
হঠাৎ পেঁয়াজের এমন বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. ফরিদ বলেন, পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম গতকাল থেকে বাড়তি যাচ্ছে। গতকাল কারওয়ান বাজারেই দাম পড়েছে প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। এরপর আছে পরিবহন খরচ, রাস্তা খরচ, দোকান খরচ। সব মিলিয়ে আজ পেঁয়াজ ১২০/১৩০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনা পড়ত ৮০/৮৫ টাকা, তখন আমরা খুচরা দোকানে ১০০/১০৫ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকাল থেকে দাম বেড়ে যাওয়ায় আর পারছি না।
রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা আরমান মুজাহিদ বলেন, বাজার করতে গিয়ে পেঁয়াজের দাম শুনে নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ৩/৪ দিন আগেই পেঁয়াজ কিনলাম ১০০ টাকা কেজি। আজ দেখছি হয়েছে ১৩০ টাকা। তিনদিনের মধ্যে এক লাফে ৩০ টাকা বেড়ে গেল, অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ দেখতে পেলাম না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে এভাবে যখন তখন পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেবে অথচ বাজার তদারকি, মনিটরিং থাকবে না, এটা কেমন কথা? আমরা কি সব সময়ই অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে হার মেনে বেশি দামে কিনেই যাব?
পাইকারি দরে পেঁয়াজ কিনে ঢাকায় খুচরা বিক্রি করেন মো. মারুফ নামে একজন ব্যবসায়ী বলেনÑ গত সপ্তাহে পাবনাতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি কেনা পড়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, সেই পেঁয়াজ রাজধানীতে খুচরা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে সেখানে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ কেনা পড়ত ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা, বর্তমানে সেটা পড়ছে ৩৮০০/৩৯০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, মূলত নতুন পেঁয়াজ বা মুড়িকাটা কৃষকের পেঁয়াজ তোলা শেষের দিকে। প্রায় দেড় মাস আগে এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছিল, এখন কৃষকের সেই পেঁয়াজ শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে, আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন কৃষকের মূল পেঁয়াজ হালি পেঁয়াজ যেটা বছরজুড়ে পাওয়া যায় সেই পেঁয়াজ উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত এমন বাড়তি দাম থাকতে পারে বাজারে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব  বাংলাদেশের (টিসিবি) সহকারী পরিচালক (বাজার তথ্য) নাসির উদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, শুক্রবার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ টাকা আর এক মাস আগে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৮৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু গত বছর এই সময় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ একেবারেই শেষের দিকে হওয়ায় এই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে বাজারে। তাই এই দাম বাড়তি আরও কয়েক দিন থাকবে, এরপর হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করলে দাম অনেক কমে যাবে।
স/মিফা

পেঁয়াজের দাম লাগামহীন

১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিয়ত এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। নিয়মিত বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান রয়েছে অভিযান কার্যক্রম। তবুও দিন দিন ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। এতে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ থাকলেও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ বা কৃষকের মুড়িকাটা পেঁয়াজ। গত মাসের শেষের দিকে এসে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি হাঁকায়। এরপর পেঁয়াজের দাম ১০৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। শুক্রবার সেই পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২০ টাকা ওঠে। একদিনের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে শনিবার তা ১৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ফলে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে মোটামুটি ৫০ টাকা। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩ টাকার বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
হঠাৎ পেঁয়াজের এমন বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. ফরিদ বলেন, পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম গতকাল থেকে বাড়তি যাচ্ছে। গতকাল কারওয়ান বাজারেই দাম পড়েছে প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। এরপর আছে পরিবহন খরচ, রাস্তা খরচ, দোকান খরচ। সব মিলিয়ে আজ পেঁয়াজ ১২০/১৩০ টাকায় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনা পড়ত ৮০/৮৫ টাকা, তখন আমরা খুচরা দোকানে ১০০/১০৫ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু গতকাল থেকে দাম বেড়ে যাওয়ায় আর পারছি না।
রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা আরমান মুজাহিদ বলেন, বাজার করতে গিয়ে পেঁয়াজের দাম শুনে নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, ৩/৪ দিন আগেই পেঁয়াজ কিনলাম ১০০ টাকা কেজি। আজ দেখছি হয়েছে ১৩০ টাকা। তিনদিনের মধ্যে এক লাফে ৩০ টাকা বেড়ে গেল, অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ দেখতে পেলাম না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে এভাবে যখন তখন পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেবে অথচ বাজার তদারকি, মনিটরিং থাকবে না, এটা কেমন কথা? আমরা কি সব সময়ই অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে হার মেনে বেশি দামে কিনেই যাব?
পাইকারি দরে পেঁয়াজ কিনে ঢাকায় খুচরা বিক্রি করেন মো. মারুফ নামে একজন ব্যবসায়ী বলেনÑ গত সপ্তাহে পাবনাতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি কেনা পড়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, সেই পেঁয়াজ রাজধানীতে খুচরা বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে সেখানে প্রতি মণ (৪০ কেজি) পেঁয়াজ কেনা পড়ত ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা, বর্তমানে সেটা পড়ছে ৩৮০০/৩৯০০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, মূলত নতুন পেঁয়াজ বা মুড়িকাটা কৃষকের পেঁয়াজ তোলা শেষের দিকে। প্রায় দেড় মাস আগে এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছিল, এখন কৃষকের সেই পেঁয়াজ শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে, আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন কৃষকের মূল পেঁয়াজ হালি পেঁয়াজ যেটা বছরজুড়ে পাওয়া যায় সেই পেঁয়াজ উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত এমন বাড়তি দাম থাকতে পারে বাজারে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব  বাংলাদেশের (টিসিবি) সহকারী পরিচালক (বাজার তথ্য) নাসির উদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন, শুক্রবার বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১২০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ টাকা আর এক মাস আগে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৮৫ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু গত বছর এই সময় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ একেবারেই শেষের দিকে হওয়ায় এই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে বাজারে। তাই এই দাম বাড়তি আরও কয়েক দিন থাকবে, এরপর হালি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করলে দাম অনেক কমে যাবে।
স/মিফা