শীতকালে যেমন ঠান্ডা বাড়ে, তেমনি বাড়ে অ্যালার্জির সমস্যা। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানোর কারণে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শ বেড়ে যায়। এ সময় বাতাসে ভাসমান ধুলার কণা, ডাস্ট মাইট, পোষা প্রাণীর লোম ও ত্বকের খোসা, ছত্রাক বা ফাঙ্গাস এবং তেলাপোকার মল ঘরে অ্যালার্জি বাড়াতে পারে।
অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণ
শীতকালীন অ্যালার্জির লক্ষণগুলো সাধারণ মৌসুমি অ্যালার্জির মতোই, তবে ঘরের ভেতরের সংস্পর্শের কারণে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:

হাঁচি
নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া
চোখ ও গলার চুলকানি
শ্বাস নিতে কষ্ট
শুকনো কাশি (কখনও কফসহ)
ত্বকে র্যাশ
শরীর খারাপ লাগা, হালকা জ্বর
তীব্র অ্যালার্জি বা হাঁপানির ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে:
বুক চেপে ধরা
শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ
দ্রুত শ্বাস নেওয়া
খুব ক্লান্ত লাগা
অস্থির বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগা
অ্যালার্জি ও সর্দির পার্থক্য
সর্দি: ভাইরাসজনিত, অন্য মানুষের কাছ থেকে ছড়ায়, সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, চোখ চুলকায় না।
অ্যালার্জি: শরীরের প্রতিক্রিয়া, উপসর্গ চলতে পারে মাসের পর মাস, চোখ চুলকায় ও পানি পড়ে।
![]()
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
অ্যালার্জির বেশিরভাগ উপসর্গ ঘরেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওষুধ: সিটিরিজিন (Zyrtec), ফেক্সোফেনাডিন (Allegra) মতো অ্যান্টিহিস্টামিন এবং মাথাব্যথার জন্য Tylenol জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
নাক পরিষ্কার রাখা: নেটি পট দিয়ে নাক ধোয়া, সিসা ও ধুলোর সংস্পর্শ কমায়।
নাসাল স্প্রে: Flonase বা Nasacort নাকের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
অ্যালার্জি শট (ইমিউনোথেরাপি): দীর্ঘদিনের তীব্র অ্যালার্জিতে ডাক্তার পরামর্শে গ্রহণ করা যায়।
ঘরে অ্যালার্জি কমানোর উপায়
বালিশ ও ম্যাট্রেসে ডাস্ট-প্রুফ কভার ব্যবহার করুন
গরম পানিতে নিয়মিত কাপড় ও বিছানার চাদর ধুতে থাকুন
ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের আর্দ্রতা ৩০–৫০% রাখুন
HEPA ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন
সম্ভব হলে কার্পেট বাদ দিন

ছত্রাক দেখা গেলে ব্লিচ ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন
খাবারের উচ্ছিষ্ট খোলা রাখবেন না
কোথাও পানি লিক হলে দ্রুত ঠিক করুন
দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখুন
পোষা প্রাণীকে শোবার ঘর বা রান্নাঘরে কম ঢুকতে দিন
শীতকালীন অ্যালার্জি মূলত মৌসুমি অ্যালার্জির মতো হলেও, সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত পরিচর্যায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এমআর/সবা


























