০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সলঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, সৎ বাবাসহ আটক ২

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর সানজিদা খাতুন (০৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর সৎ বাবা ও প্রতিবেশী মামাকে আটক করা হয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সলঙ্গা থানার অলিদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে সলঙ্গা থানা পুলিশ।

 

নিহত শিশু সানজিদা খাতুন (০৯) আমশড়া গ্রামের শাহিনের মেয়ে। আটককৃতরা হলেন, অলিদহ গ্রামের মো. নুরালের ছেলে শরিফুল ও একই গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে হাসমত আলী।

 

স্থানীয়রা জানান, সানজিদা মাদ্রাসায় যাবার পর আর বাড়িতে ফেরেনি, তাকে বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজা খুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। তাকে পাওয়া না গেলে তার নানা সলঙ্গা থানা একটা ডিজি করেন, পরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে তার সৎ বাবা ও প্রতিবেশি এক মামাকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়, এবং আজ সকালে তার সৎ বাবা ও প্রতিবেশি মামাকে সঙ্গে নিয়ে এসে একটি ধান খেতের ভিতর মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক ভোরের আকাশকে বলেন, নিহত সানজিদার মা জরিনা খাতুন প্রথম স্বামী শাহিনের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর শরিফুলকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন শরিফুলের চতুর্থ স্ত্রী। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে দেড় মাস আগে জরিনা শ্বশুড়বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ী চলে যান। শরিফুল তাকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু ফিরে না আসায় জরিনার প্রতিবেশী ভাই হাসমতের শরণাপন্ন হন শরিফুল। হাসমত আলী তাকে বলেন সানজিদাকে অপহরণ করে তার হাতে তুলে দিলেই তোমার স্ত্রীকে ফেরত পাবে।

 

এ অবস্থায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় যাবার পথে হাসমত ও শরিফুল সানজিদাকে অপহরণের চেষ্টা করে। তারা চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নেবার চেষ্টা করে। সানজিদা চিৎকার করলে তাকে গলাটিপে হত্যার পর কবরস্থানের জঙ্গলে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরে ওই রাতেই তারা ফেলে রাখা মরদেহটি পাশের একটি ধানক্ষেতে পুতে রাখে।

 

এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সানজিদার সন্ধান না পেয়ে গত (১১ ফেব্রুয়ারী) তার নানা জহুরুল ইসলাম থানায় জিডি করেন।

 

ওসি এনামুল আরও বলেন, জিডি হওয়ার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ওই দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজন হত্যার দায় স্বীকার করেন। এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে ধানক্ষেতে পুতে রাখা অবস্থায় সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিপক্ষে দাপুটে জয় সাবিনাদের

সলঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, সৎ বাবাসহ আটক ২

আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর সানজিদা খাতুন (০৯) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর সৎ বাবা ও প্রতিবেশী মামাকে আটক করা হয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সলঙ্গা থানার অলিদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে সলঙ্গা থানা পুলিশ।

 

নিহত শিশু সানজিদা খাতুন (০৯) আমশড়া গ্রামের শাহিনের মেয়ে। আটককৃতরা হলেন, অলিদহ গ্রামের মো. নুরালের ছেলে শরিফুল ও একই গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে হাসমত আলী।

 

স্থানীয়রা জানান, সানজিদা মাদ্রাসায় যাবার পর আর বাড়িতে ফেরেনি, তাকে বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজা খুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। তাকে পাওয়া না গেলে তার নানা সলঙ্গা থানা একটা ডিজি করেন, পরে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে তার সৎ বাবা ও প্রতিবেশি এক মামাকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়, এবং আজ সকালে তার সৎ বাবা ও প্রতিবেশি মামাকে সঙ্গে নিয়ে এসে একটি ধান খেতের ভিতর মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক ভোরের আকাশকে বলেন, নিহত সানজিদার মা জরিনা খাতুন প্রথম স্বামী শাহিনের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর শরিফুলকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন শরিফুলের চতুর্থ স্ত্রী। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে দেড় মাস আগে জরিনা শ্বশুড়বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ী চলে যান। শরিফুল তাকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু ফিরে না আসায় জরিনার প্রতিবেশী ভাই হাসমতের শরণাপন্ন হন শরিফুল। হাসমত আলী তাকে বলেন সানজিদাকে অপহরণ করে তার হাতে তুলে দিলেই তোমার স্ত্রীকে ফেরত পাবে।

 

এ অবস্থায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসায় যাবার পথে হাসমত ও শরিফুল সানজিদাকে অপহরণের চেষ্টা করে। তারা চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নেবার চেষ্টা করে। সানজিদা চিৎকার করলে তাকে গলাটিপে হত্যার পর কবরস্থানের জঙ্গলে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরে ওই রাতেই তারা ফেলে রাখা মরদেহটি পাশের একটি ধানক্ষেতে পুতে রাখে।

 

এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সানজিদার সন্ধান না পেয়ে গত (১১ ফেব্রুয়ারী) তার নানা জহুরুল ইসলাম থানায় জিডি করেন।

 

ওসি এনামুল আরও বলেন, জিডি হওয়ার পর পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ওই দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজন হত্যার দায় স্বীকার করেন। এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে ধানক্ষেতে পুতে রাখা অবস্থায় সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।