০৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান, আটক তিন

গাইবান্ধা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে দুদকের কর্মকর্তারা।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের ছয়জন সদস্য এ অভিযান পরিচালনা করেন।
আটককৃতরা হলেন- সোহেল, কাঞ্চন ও রুবেল নামের তিন যুবক। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মাঠের পাড় ও জেলখানা সংলগ্ন এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন থেকে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে পাসপোর্ট করে দিত।
রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে হয়রানি ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগের সত্যতা পান। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়কালে তিন দালালকে টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, আমাদের কাছে সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ ছিলো পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানগুলোতে দালালদের দৌরাত্ব গড়ে ওঠেছে। সেই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাঠে নামে দুদক। অভিযানে আমরা দেখতে পাই পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে লোকজন কম থাকলেও বাইরে কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ভীড় লক্ষ করা যায়। পরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিরন নামে এক নারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার খবর পাই। যেখানে ৫ বছর মেয়াদী জুরুরী পাসপোর্টের ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা সেখানে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় ৯ হাজার ৫০০ টাকা। পরে ওই নারীর সাথে থাকা তিন দালালকে চার্জ করে হাতেনাতে টাকাসহ আটক করি।
তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট অফিসের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। ধারনা করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সাথে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত আছে। আমরা সবার নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত নিয়েছি। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করে রির্পোট ঢাকা অফিসে পাঠানো হবে। অফিসের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে ঢাকা অফিস তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
অভিযানে রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহাকারী পরিচালক  হোসাইন শরীফ ছাড়াও উপ সহকারী পরিচালক জয়ন্ত সাহা ও একেএম নুরে আলম সিদ্দিকসহ ৬ জন এ অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়াও অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন গাইবান্ধার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া।
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার জন্যও : প্রধান উপদেষ্টা

গাইবান্ধা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান, আটক তিন

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
গাইবান্ধা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে দুদকের কর্মকর্তারা।
রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের ছয়জন সদস্য এ অভিযান পরিচালনা করেন।
আটককৃতরা হলেন- সোহেল, কাঞ্চন ও রুবেল নামের তিন যুবক। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মাঠের পাড় ও জেলখানা সংলগ্ন এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন থেকে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে পাসপোর্ট করে দিত।
রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে হয়রানি ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগের সত্যতা পান। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়কালে তিন দালালকে টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, আমাদের কাছে সুনিদির্ষ্ট অভিযোগ ছিলো পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানগুলোতে দালালদের দৌরাত্ব গড়ে ওঠেছে। সেই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাঠে নামে দুদক। অভিযানে আমরা দেখতে পাই পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে লোকজন কম থাকলেও বাইরে কম্পিউটারের দোকানগুলোতে ভীড় লক্ষ করা যায়। পরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজিরন নামে এক নারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার খবর পাই। যেখানে ৫ বছর মেয়াদী জুরুরী পাসপোর্টের ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা সেখানে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় ৯ হাজার ৫০০ টাকা। পরে ওই নারীর সাথে থাকা তিন দালালকে চার্জ করে হাতেনাতে টাকাসহ আটক করি।
তিনি আরও জানান, পাসপোর্ট অফিসের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়। ধারনা করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সাথে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত আছে। আমরা সবার নাম ঠিকানাসহ বিস্তারিত নিয়েছি। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করে রির্পোট ঢাকা অফিসে পাঠানো হবে। অফিসের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে ঢাকা অফিস তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
অভিযানে রংপুর দুদক কার্যালয়ের সহাকারী পরিচালক  হোসাইন শরীফ ছাড়াও উপ সহকারী পরিচালক জয়ন্ত সাহা ও একেএম নুরে আলম সিদ্দিকসহ ৬ জন এ অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়াও অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন গাইবান্ধার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া।