০২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্দরে ঘুমন্ত অবস্থায় নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ২ জন আটক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি বাড়িতে দিপালি রানী নামে এক নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে
দূর্বৃত্তরা। এসময় নিহতের স্বামীকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বন্দর উপজেলার লেজারার্স আবাসিক এলাকায়
কাউসারের ভাড়াটিয়া বাড়িতে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনায় ঘটে। নিহত দিপারি রানী দাসের
বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। পরিবার নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো।
নিহতের মেয়ে মলি জানান, আমরা চার বোন। দুই বোন বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে থাকে। রাতে পাশের বাড়িতে বিয়ের
অনুষ্ঠান থাকায় উচ্চ শব্দ হচ্ছিল। সেখানে আমি ও আমার বোন দেখতে যাই। পরে সেখান থেকে এসে দরজা খোলা
পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শুয়ে পড়ি। সকালে মাকে কাজে যাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে দেখি রক্তাক্ত অবস্থা। তখনও দেখি
বাবা বেঁচে আছেন। তিনি আমাদের হত্যাকারীদের বিবরণ দিয়ে গেছেন।
সে আরো জানায়, ভাড়াটিয়া ফরিদার সঙ্গে গ্যাসের চুলার রান্না নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল তাদের। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই তার
মাকে হত্যা ও বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, প্রায়ই দীপালির সাথে পাশের ভাড়াটিয়া ফরিদার ঝগড়া হয়। বৃহস্পতিবার রান্না করা নিয়ে
ফরিদার সঙ্গে নিহতের ঝগড়া হয়। রাতে নিহতের মেয়েরা ঘরের দরজা খোলা দেখেই তাদের আত্মীয় গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে
যায়। এসময় ফরিদা তার ঘরে স্পিকারে সাউন্ড দিয়ে গান বাজিয়ে পরে তাদের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে
দিপালিকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় দিপালীর স্বামীকেও ছুরিকাঘাতে আহত করে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে নিহতের মেয়ে ঘরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে
নিহতের স্বামী শ্যামাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে নিহত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর
জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত স্বামীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে ফরিদা ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ফরিদার স্বামী ফরিদ পলাতক। তাকে
আটক করতে অভিযান চলছে। তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানানো যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দরে ঘুমন্ত অবস্থায় নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ২ জন আটক

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০২৪

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি বাড়িতে দিপালি রানী নামে এক নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে হত্যা করেছে
দূর্বৃত্তরা। এসময় নিহতের স্বামীকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বন্দর উপজেলার লেজারার্স আবাসিক এলাকায়
কাউসারের ভাড়াটিয়া বাড়িতে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনায় ঘটে। নিহত দিপারি রানী দাসের
বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। পরিবার নিয়ে ভাড়াবাড়িতে থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো।
নিহতের মেয়ে মলি জানান, আমরা চার বোন। দুই বোন বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে থাকে। রাতে পাশের বাড়িতে বিয়ের
অনুষ্ঠান থাকায় উচ্চ শব্দ হচ্ছিল। সেখানে আমি ও আমার বোন দেখতে যাই। পরে সেখান থেকে এসে দরজা খোলা
পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শুয়ে পড়ি। সকালে মাকে কাজে যাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে দেখি রক্তাক্ত অবস্থা। তখনও দেখি
বাবা বেঁচে আছেন। তিনি আমাদের হত্যাকারীদের বিবরণ দিয়ে গেছেন।
সে আরো জানায়, ভাড়াটিয়া ফরিদার সঙ্গে গ্যাসের চুলার রান্না নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল তাদের। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই তার
মাকে হত্যা ও বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানায়, প্রায়ই দীপালির সাথে পাশের ভাড়াটিয়া ফরিদার ঝগড়া হয়। বৃহস্পতিবার রান্না করা নিয়ে
ফরিদার সঙ্গে নিহতের ঝগড়া হয়। রাতে নিহতের মেয়েরা ঘরের দরজা খোলা দেখেই তাদের আত্মীয় গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে
যায়। এসময় ফরিদা তার ঘরে স্পিকারে সাউন্ড দিয়ে গান বাজিয়ে পরে তাদের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে
দিপালিকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় দিপালীর স্বামীকেও ছুরিকাঘাতে আহত করে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে নিহতের মেয়ে ঘরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে
নিহতের স্বামী শ্যামাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে নিহত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবু বকর সিদ্দিক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর
জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত স্বামীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ের অভিযোগে ইতোমধ্যে ফরিদা ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ফরিদার স্বামী ফরিদ পলাতক। তাকে
আটক করতে অভিযান চলছে। তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানানো যাবে।