শিল্পীজীবনের চল্লিশ বছরের নিরন্তন শিল্পসাধনার সাথে শিল্পপ্রেমী দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিতে একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন শিল্পী ধনঞ্জয় মন্ডল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারি-১ এ প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেলে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাবির চারুকলা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য। ১লা মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১১ টা ৩০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনীটি।
বরেণ্যশিল্পী বীরমুক্তিযোদ্ধা বীরেন সোমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন বরেণ্যশিল্পী অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সি-ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা সামিয়া জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বরেণ্যশিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরেন সোম বলেন, প্রকৃতি থেকে শিল্পী ধনঞ্জয় তার নিজের মতো করে সাজিয়ে সেটা ফুটিয়ে তোলে ক্যানভাসে। তাঁর রঙ বাছাই করাও চমৎকার। যার ফলে তিনি তৈরি করেছেন তাঁর নিজস্ব একটি ধরন । তার চিত্রকর্মগুলো দেখলাম, তার আঁকা প্রতিটি ছবিই অসাধারণ। আশা করি তিনি তার কাজের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন। এবং পরবর্তীতে আরও প্রদর্শনী তার দর্শকদের উপহার দেবেন।
প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও বিভাগের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য বলেন, ধনঞ্জয়ের মতো অনেকেই পড়াশোনা করে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু হাতেগুনা মাত্র কয়েকজন শিল্পকর্মের সাথে জড়িত।
চারুকলায় পড়েনি এমন অনেকেই এখানে কাজ করছেন। মূলত কারুশিল্প ভালো লাগা থেকে আসে। নিজের ভেতরকার সত্তাটা কারুকাজের মাধ্যমে ফোটে উঠে। এমন অসংখ্য শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী।
তিনি আরও বলেন, যারা চারুকলাকে ভালোবাসে তারা পরিবারের চেয়ে এগুলোকে বেশি সময় দেয়। একজন শিল্পীর রক্তের সাথে মিশে যায় এগুলোর প্রতি ভালোবাসার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক ধনঞ্জয়ের মতো মানুষদের জন্য বেগবান হচ্ছে। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই।
সামিয়া জামান বলেন, ধনঞ্জয় মন্ডল স্যারের মতো প্রচন্ড ধৈর্যশীল এবং স্থির মানুষ আমি দেখিনি। আমি ওনার সঙ্গে দীর্ঘ ৩৫ বছর কাজ করেছি। ওনার সাথে কাজ করতে পেরে আমি ধন্য। তিনি নিষ্ঠা এবং সততার সাথে কাজ করেন যেটা আজকাল খুব কম পাওয়া যায়।
শিল্পী এবং কবি জাহিদ মোস্তফা বলেন, চারুকলায় ভর্তি হয়ে প্রথম থেকেই আমরা দেখেছি, ধৈর্যের সাথে ছবি আঁকার যে অনুশীলন সেই অনুশীলন তিনি চালিয়ে গেছেন। আমি অনেক সময় তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।
তাঁর কথাতেও আমরা পেয়েছি অন্যরকম অনুপ্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, সেই গ্রামীণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে ঢাকা মহানগরে তাঁর জীবন অত্যন্ত দক্ষতা এবং সফলতার সাথে অতিবাহিত করছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে ব্রত নিয়ে তিনি ৪০ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন। এটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
প্রদর্শনীর আয়োজক ধনঞ্জয় মন্ডল বলেন,
মূলত লকডাউনের সময়টাকে চিত্রকর্মের কাজে লাগাই। আজকের প্রদর্শনীর অনেক চিত্রকর্মই লকডাউনের সময়ে আঁকা। আমার ছবি আঁকার সূচনা গ্রামে। গ্রামের প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখেই আমি ছবি আঁকি। এজন্য আমার প্রতিটি কাজে গ্রামীণ প্রকৃতি দৃশ্যমান।
তিনি সবুজ বাংলাকে জানান, এখানে ৩৭ টি চিত্র আছে। যার মধ্যে ১২টা বাস্তব দৃশ্যে আঁকা আর ২৫ টি এক্রেলিক ক্যানভাসে আঁক। ইতোমধ্যে প্রদর্শনীর ২ টি চিত্র বিক্রিয় হয়েছে।
তার মধ্যে – মিটিং চিত্রটি ২৫ হাজার এবং প্লেজার চিত্রটি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
















