০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে ছুটির দিনে ও সরকারি অফিসে উড়ছে জাতীয় পতাকা

 

 

১৫মার্চ (শুক্রবার) সরকারি ছুটি।সকল সরকারি অফিসের দাফতরিক কাজ বন্ধ। অথচ শুক্রবার ছুটির দিনে ও সরকারি অফিসে উড়ছে জাতীয় পতাকা। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে।১৪মার্চ বৃহস্পতিবার যথানিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অফিস করে কতৃপক্ষ। কিন্তু অফিস শেষ করে সবাই চলে গেলে জাতীয় পতাকা আর নামানো হয়নি। সারা রাত পতাকা উড়েছে।শুক্রবার (১৫মার্চ) দুপুর পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে অফিস শেষ করে জাতীয় পতাকা না নামিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে যায়। সারা রাত পতাকা স্ট্যান্ডে লাগা‌নো ছিল। বিষয়‌টি শুক্রবার সকালে সবার নজরে এলে সমা‌লোচনার সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নি‌য়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।স্হানীয়রা আরো বলেন, মাঝে মাঝেই এমন ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাচ্ছে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। জাতীয় পতাকার জন্য দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অথচ এই জাতীয় পতাকার প্রতি এদের কোন সম্নান নেই। কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালি উচিৎ হয়নি। আশা করি বিষয়‌টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমলে নি‌য়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।

শুক্রবার ছুটির দিনে সরকারি অফিসে কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এই বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক রতন কুমারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই আমি আগে জানি এই বলে ফোন কেটে দেন।ফোন কেটে দেওয়ার ছয় মিনিট পর আবার আমাকে কল করে তিনি জানান আমি খোজ নিলাম প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। গাতকাল উত্তোলন করে ছিল নামানোর কথা মনে নেই।এটা পিয়ন রা করে তো তাই এমন হয়েছে।একটা সরকারি অফিসের প্রধানের মুখে এমন কথা আমার বোধগম্য নয়।এক জন অফিস প্রধান যদি এমন উদাসীন হয় তাহলে তার অফিস স্টাফদের কি অবস্থা।

শুক্রবার সরকারি অফিসে ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মুক্তি যোদ্ধা কমাণ্ঢের সাবেক কমাণ্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী শফিকুল ইসলাম শফির সাথে। তিনি বলেন বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা এই দেশ ও দুই লক্ষ মা বোনের সম্নানের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ এই স্বাধীন দেশে এখন ও সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকার প্রতি এরা সম্নান দেখাতে জানে না।কেন এরা এত উদাসীন। এরা কি ভাবে সরকারি চাকরি করে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ও যদি শুনতে হয় সরকারি অফিসে ছুটির দিনে উড়ছে জাতীয় পতাকা তাহলে কেন স্বাধীন করে ছিলাম এই দেশ। কেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে আমরা সারা দিয়ে ছিলাম।বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সকল সরকারি অফিসার সহ দেশের সকল জনগণের সচেতন থাকতে হবে। লাল সবুজের এই পতাকার প্রতি সবার সম্নান দেখাতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবি‌ধি অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য কার্যদিবসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।এ ছাড়া ও সরকার ঘোষিত বিশেষ দিনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের এমপি প্রার্থী বাসায় ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

সিরাজগঞ্জে ছুটির দিনে ও সরকারি অফিসে উড়ছে জাতীয় পতাকা

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

 

 

১৫মার্চ (শুক্রবার) সরকারি ছুটি।সকল সরকারি অফিসের দাফতরিক কাজ বন্ধ। অথচ শুক্রবার ছুটির দিনে ও সরকারি অফিসে উড়ছে জাতীয় পতাকা। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে।১৪মার্চ বৃহস্পতিবার যথানিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অফিস করে কতৃপক্ষ। কিন্তু অফিস শেষ করে সবাই চলে গেলে জাতীয় পতাকা আর নামানো হয়নি। সারা রাত পতাকা উড়েছে।শুক্রবার (১৫মার্চ) দুপুর পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে অফিস শেষ করে জাতীয় পতাকা না নামিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে যায়। সারা রাত পতাকা স্ট্যান্ডে লাগা‌নো ছিল। বিষয়‌টি শুক্রবার সকালে সবার নজরে এলে সমা‌লোচনার সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নি‌য়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।স্হানীয়রা আরো বলেন, মাঝে মাঝেই এমন ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাচ্ছে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। জাতীয় পতাকার জন্য দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। অথচ এই জাতীয় পতাকার প্রতি এদের কোন সম্নান নেই। কর্তৃপক্ষের এমন খামখেয়ালি উচিৎ হয়নি। আশা করি বিষয়‌টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমলে নি‌য়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।

শুক্রবার ছুটির দিনে সরকারি অফিসে কেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এই বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক রতন কুমারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই আমি আগে জানি এই বলে ফোন কেটে দেন।ফোন কেটে দেওয়ার ছয় মিনিট পর আবার আমাকে কল করে তিনি জানান আমি খোজ নিলাম প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। গাতকাল উত্তোলন করে ছিল নামানোর কথা মনে নেই।এটা পিয়ন রা করে তো তাই এমন হয়েছে।একটা সরকারি অফিসের প্রধানের মুখে এমন কথা আমার বোধগম্য নয়।এক জন অফিস প্রধান যদি এমন উদাসীন হয় তাহলে তার অফিস স্টাফদের কি অবস্থা।

শুক্রবার সরকারি অফিসে ছুটির দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মুক্তি যোদ্ধা কমাণ্ঢের সাবেক কমাণ্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী শফিকুল ইসলাম শফির সাথে। তিনি বলেন বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা এই দেশ ও দুই লক্ষ মা বোনের সম্নানের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। অথচ এই স্বাধীন দেশে এখন ও সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকার প্রতি এরা সম্নান দেখাতে জানে না।কেন এরা এত উদাসীন। এরা কি ভাবে সরকারি চাকরি করে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ও যদি শুনতে হয় সরকারি অফিসে ছুটির দিনে উড়ছে জাতীয় পতাকা তাহলে কেন স্বাধীন করে ছিলাম এই দেশ। কেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে আমরা সারা দিয়ে ছিলাম।বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সকল সরকারি অফিসার সহ দেশের সকল জনগণের সচেতন থাকতে হবে। লাল সবুজের এই পতাকার প্রতি সবার সম্নান দেখাতে হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবি‌ধি অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য কার্যদিবসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।এ ছাড়া ও সরকার ঘোষিত বিশেষ দিনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।