০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্লিকের পোশাকে ঈদের সাথে বৈশাখের ছাপ

◉ দুই উৎসবে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা কারখানা মালিক সমিতির
◉ তিন হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ি, ৪৫০০- ২৫০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি, ২৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে শার্ট, ৬৫০- ৪০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে।

সিল্ক মানেই ঐতিহ্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পছন্দের শীর্ষে সিল্কপণ্য। ঈদ ও পহেলা বৈশাখের জন্য সিল্কের কাপড়ের ওপরে অ্যামব্রয়ডারি ও
হাতের কাজের শাড়ি ও পাঞ্জাবি এসে গেছে শোরুমগুলোতে। দাম নিয়েও ক্রেতাদের মনে নেই অসন্তোষ। ক্রেতারা জানান, “দেশের ঐতিহ্য, এটাকে ধরে
রাখার সর্বপরি সবারই আগ্রহ থাকা দরকার। বিদেশি পণ্যের চেয়ে দেশের সিল্কের মান অনেক উন্নত, অনেক সুন্দর।” ঈদের আমেজের মধ্যেই এবার আসছে পহেলা বৈশাখ। দুই উৎসব মিলে রাজশাহীর স্লিক ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন বিক্রির বড় উপলক্ষ। এ কারণে বড় প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যপকহারে। স্লিককের বিভিন্ন হাউজগুলোতে এবার ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোদমে হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। যদিও এখনো ঈদের বেচাকেনা ততটা জমে ওঠেনি, তবে পণের রোজার পর থেকে পুরোদমে ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন সবাই। ঈদের ঠিক পরেই এবার আসছে বৈশাখ। এ কারণে ঈদের বাজারে মুসলিম ক্রেতার পাশাপাশি থাকবেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ক্রেতারাও।

দুই উৎসব একসঙ্গে হওয়ায় এবার ঈদ ও বৈশাখকে একই সঙ্গে মাথায় রেখে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন, নান্দনিকতা আর দেশীয় ভাবধারার পোশাকের সমারোহ
রাখছে হাউজগুলো। বহু আগে থেকে ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হলেও দ্বিতীয় বিক্রির উপলক্ষ হিসেবে বৈশাখে নতুন পোশাকের বাজার প্রতিনিয়ত বড়
হচ্ছে। আর এবার দুটি উৎসব এসেছে একসঙ্গে। এদিকে, এই দুই উৎসবকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজশাহীর সিল্কপাড়ায়। দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। এবার অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা কারখানা মালিক সমিতির। সিল্কপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে গুটি থেকে সুতা কাটা হচ্ছে।
অন্যদিকে সেই সুতা থেকে মেশিনের মাধ্যমে কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। আর সেই কাপড়ে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা।
পাশের শোরুমগুলোতে ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত কর্মচারীরা। তবে ক্রেতাদের চাপ নেই তেমন। রাজশাহীর সপুরা সিল্ক, ঊষা সিল্ক, আমানা সিল্ক, রাজশাহী

সিল্কসহ সব প্রতিষ্ঠানে। এবার সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবির দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা। পাশাপাশি থ্রি-পিস ও অন্য সামগ্রী কিনছেন তারা।
সপুরা সিল্কে শাড়ি কিনতে আসা সামিনা মামুন বলেন, ঈদে আমাদের আগ্রহ থাকে সিল্কের কাপড়ে। এবারও ঐতিহ্যবাহী সিল্কের কাপড় কিনতে এসেছি। নতুন ডিজাইন কিছু কাপড় এসেছে। প্রথমে বাচ্চাদের জন্য পরে নিজের পছন্দের শাড়ি কিনবো। পাঞ্জাবি কিনতে আসা পান্না বলেন, একটু দেরিতে সিল্ক পাড়া জমে উঠে। রোজা রেখে ভিড়ের মধ্যে কেনাকটা করতে ভালো লাগে না। তাই এখনই কিনে নিচ্ছি। প্রতিনিয়ত এখান থেকে বাজার করি।
সপুরা সিল্ক মিলসের ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, এবার তিন হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ি বানিয়েছি আমরা। আমাদের
এখানে ৪৫০০-২৫০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি, ২৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে শার্ট, ৬৫০-৪০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিস পাওয়া যাবে। এছাড়াও ওড়না-
স্কাপসহ সিল্কের সবকিছুই রয়েছে। রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনের ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, আমারা প্রস্তুতি রেখেছি। আশা করছি অন্য বছরের চাইতে বেশ ভালো ব্যবসা হবে। ১৫ রমজানের পর থেকে হয়তো অধিক সংখ্যক ক্রেতা আসবে। এ বিষয়ে রাজশাহী সিল্ক মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, এবার আমরা আশা করছি অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্লিকের পোশাকে ঈদের সাথে বৈশাখের ছাপ

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

◉ দুই উৎসবে ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা কারখানা মালিক সমিতির
◉ তিন হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ি, ৪৫০০- ২৫০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি, ২৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে শার্ট, ৬৫০- ৪০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে।

সিল্ক মানেই ঐতিহ্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে পছন্দের শীর্ষে সিল্কপণ্য। ঈদ ও পহেলা বৈশাখের জন্য সিল্কের কাপড়ের ওপরে অ্যামব্রয়ডারি ও
হাতের কাজের শাড়ি ও পাঞ্জাবি এসে গেছে শোরুমগুলোতে। দাম নিয়েও ক্রেতাদের মনে নেই অসন্তোষ। ক্রেতারা জানান, “দেশের ঐতিহ্য, এটাকে ধরে
রাখার সর্বপরি সবারই আগ্রহ থাকা দরকার। বিদেশি পণ্যের চেয়ে দেশের সিল্কের মান অনেক উন্নত, অনেক সুন্দর।” ঈদের আমেজের মধ্যেই এবার আসছে পহেলা বৈশাখ। দুই উৎসব মিলে রাজশাহীর স্লিক ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন বিক্রির বড় উপলক্ষ। এ কারণে বড় প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যপকহারে। স্লিককের বিভিন্ন হাউজগুলোতে এবার ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোদমে হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। যদিও এখনো ঈদের বেচাকেনা ততটা জমে ওঠেনি, তবে পণের রোজার পর থেকে পুরোদমে ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন সবাই। ঈদের ঠিক পরেই এবার আসছে বৈশাখ। এ কারণে ঈদের বাজারে মুসলিম ক্রেতার পাশাপাশি থাকবেন অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ক্রেতারাও।

দুই উৎসব একসঙ্গে হওয়ায় এবার ঈদ ও বৈশাখকে একই সঙ্গে মাথায় রেখে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন, নান্দনিকতা আর দেশীয় ভাবধারার পোশাকের সমারোহ
রাখছে হাউজগুলো। বহু আগে থেকে ঈদে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হলেও দ্বিতীয় বিক্রির উপলক্ষ হিসেবে বৈশাখে নতুন পোশাকের বাজার প্রতিনিয়ত বড়
হচ্ছে। আর এবার দুটি উৎসব এসেছে একসঙ্গে। এদিকে, এই দুই উৎসবকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজশাহীর সিল্কপাড়ায়। দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। এবার অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসার প্রত্যাশা কারখানা মালিক সমিতির। সিল্কপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, একদিকে গুটি থেকে সুতা কাটা হচ্ছে।
অন্যদিকে সেই সুতা থেকে মেশিনের মাধ্যমে কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। আর সেই কাপড়ে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা।
পাশের শোরুমগুলোতে ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত কর্মচারীরা। তবে ক্রেতাদের চাপ নেই তেমন। রাজশাহীর সপুরা সিল্ক, ঊষা সিল্ক, আমানা সিল্ক, রাজশাহী

সিল্কসহ সব প্রতিষ্ঠানে। এবার সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবির দিকে ঝুঁকছে ক্রেতারা। পাশাপাশি থ্রি-পিস ও অন্য সামগ্রী কিনছেন তারা।
সপুরা সিল্কে শাড়ি কিনতে আসা সামিনা মামুন বলেন, ঈদে আমাদের আগ্রহ থাকে সিল্কের কাপড়ে। এবারও ঐতিহ্যবাহী সিল্কের কাপড় কিনতে এসেছি। নতুন ডিজাইন কিছু কাপড় এসেছে। প্রথমে বাচ্চাদের জন্য পরে নিজের পছন্দের শাড়ি কিনবো। পাঞ্জাবি কিনতে আসা পান্না বলেন, একটু দেরিতে সিল্ক পাড়া জমে উঠে। রোজা রেখে ভিড়ের মধ্যে কেনাকটা করতে ভালো লাগে না। তাই এখনই কিনে নিচ্ছি। প্রতিনিয়ত এখান থেকে বাজার করি।
সপুরা সিল্ক মিলসের ম্যানেজার সাইদুর রহমান বলেন, এবার তিন হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত শাড়ি বানিয়েছি আমরা। আমাদের
এখানে ৪৫০০-২৫০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি, ২৫০০-৪০০০ টাকার মধ্যে শার্ট, ৬৫০-৪০ হাজার টাকার মধ্যে থ্রি-পিস পাওয়া যাবে। এছাড়াও ওড়না-
স্কাপসহ সিল্কের সবকিছুই রয়েছে। রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনের ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, আমারা প্রস্তুতি রেখেছি। আশা করছি অন্য বছরের চাইতে বেশ ভালো ব্যবসা হবে। ১৫ রমজানের পর থেকে হয়তো অধিক সংখ্যক ক্রেতা আসবে। এ বিষয়ে রাজশাহী সিল্ক মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, এবার আমরা আশা করছি অন্তত ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।