১০:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

 

►মস্কোতে হামলার পেছনে ‘উগ্র ইসলামপন্থিরা’ : পুতিন
►কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষিত নয় : ক্রেমলিন
► ইউক্রেনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

 

 

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধীদের ধরার ক্ষেত্রে নির্দয়ভাবে কার্যকর রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী মস্কোর উপকণ্ঠে হাজারো মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি ঠেকাতে পারেনি। এতে রুশ গোয়েন্দাদের অগ্রাধিকার, তাদের শক্তিমত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির উত্তরসূরি হিসেবে এখন রাশিয়ায় কাজ করে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। তারা মূলত রাশিয়ার মধ্যে ইউক্রেনের পক্ষে নাশকতাকারীদের ধরা, ক্রেমলিনবিরোধী তৎপরতা দমন এবং শত্রুদেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন তৎপরতা বানচালে ব্যস্ত থাকে। সেটাই মস্কোয় হামলার দায় স্বীকার করা আইএস-কেপির মতো জঙ্গিগোষ্ঠীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি রুশ গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেছেন, আপনি একসঙ্গে সবকিছু করতে পারবেন না। আপনি স্থানীয়দের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেন এবং কখনো কখনো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে আপনার যে তথ্য দরকার, তা আপনি না-ও পেতে পারেন। সে কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবত তারা ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের সামলানো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত। এতেই বিষয়টি তাদের কাছ থেকে ফসকে গেছে।

 

রাশিয়ার জনগণের প্রতি দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের দীর্ঘদিনের যে অঙ্গীকার, তা শুক্রবারের এ হামলার মধ্য দিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এ হামলা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর অনেক বাসিন্দাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি মাসেই ফের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া পুতিন অবশ্য এর আগেও এ ধরনের সংকট সামলে এসেছেন। তার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো হুমকিও এখন নেই।

 

পুতিনের এত দিনের আচরণ এবং বিবৃতির আলোকে বলা যায়, এ ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত আটক ১১ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আদালতেও হাজির করা হয়েছে। সেখানে একজনের এক কান কাটা দেখা গেছে। আরেকজনকে আদালতে হাজির করা হয় হুইলচেয়ারে। এ হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ায় আবার মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন বেশ কয়েক আইনপ্রণেতা।

এদিকে গত সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন, বিশ্বের কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষিত নয়। তদন্ত চলাকালীন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার দায় স্বীকারের বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তদন্ত চলমান। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়। এই হামলার ঘটনায় সবাই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তবে এ ধরনের হামলা থেকে কোনো দেশই সুরক্ষিত নয়। দুঃখজনকভাবে আমাদের বিশ্ব দেখিয়েছে যে, কোনো শহর, কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকতে পারে না। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়াকে রক্ষায় অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটি চলমান প্রক্রিয়া। যার জন্য পূর্ণ মাত্রায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন। কিন্তু আপনি দেখতে পাচ্ছেন, বর্তমানের সবচেয়ে তীব্র সংঘাতপূর্ণ সময়ে এই ধরনের সহযোগিতা কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগেই রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রোকাস সিটি কনসার্ট হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাটিকে গত ২০ বছরের মধ্যে রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই হামলার পেছনে ‘উগ্র ইসলামপন্থিরা’ জড়িত বলে প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে এই হামলায় ইউক্রেনের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনে প্রচারিত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, আমরা জানি, অপরাধটি কট্টরপন্থি ইসলামপন্থিদের হাতেই সংঘটিত হয়েছে, যাদের আদর্শের বিরুদ্ধে ইসলামিক বিশ্ব নিজেরাই বহু শতাব্দী ধরে লড়াই করে আসছে। এই নৃশংসতার সঙ্গে হয়তো ইউক্রেনের একটি যোগসূত্র থাকতে পারে যারা ২০১৪ সাল থেকে আমাদের দেশের সাথে যুদ্ধ করে আসছে। অবশ্যই, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া দরকার, কেন অপরাধ করার পরে সন্ত্রাসীরা ইউক্রেনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল? সেখানে তাদের জন্য কে অপেক্ষা করছিল?

 

এদিকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারিকে বরখাস্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে এই পদে দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের বিদায়ি সেক্রেটারি ওলেক্সি ড্যানিলভ ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে তার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মূলত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই এই পদে এসেছিলেন ড্যানিলভ। পরে জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও ভাষণে বলেন, ড্যানিলভকে নতুন দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে। ড্যানিলভকে তার পদ থেকে অপসারণের কোনো কারণও জানানো হয়নি। এদিকে বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ৫১ বছর বয়সী ওলেক্সান্ডার লিটভিনেনকোকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত করে জেলেনস্কি বলেন, গোয়েন্দা প্রধান হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তার নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করবেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে এই পদে যুদ্ধ-পারদর্শী জেনারেল অলেক্সান্ডার সিরস্কিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

 

►মস্কোতে হামলার পেছনে ‘উগ্র ইসলামপন্থিরা’ : পুতিন
►কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষিত নয় : ক্রেমলিন
► ইউক্রেনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

 

 

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধীদের ধরার ক্ষেত্রে নির্দয়ভাবে কার্যকর রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী মস্কোর উপকণ্ঠে হাজারো মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি ঠেকাতে পারেনি। এতে রুশ গোয়েন্দাদের অগ্রাধিকার, তাদের শক্তিমত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির উত্তরসূরি হিসেবে এখন রাশিয়ায় কাজ করে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। তারা মূলত রাশিয়ার মধ্যে ইউক্রেনের পক্ষে নাশকতাকারীদের ধরা, ক্রেমলিনবিরোধী তৎপরতা দমন এবং শত্রুদেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন তৎপরতা বানচালে ব্যস্ত থাকে। সেটাই মস্কোয় হামলার দায় স্বীকার করা আইএস-কেপির মতো জঙ্গিগোষ্ঠীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা হুমকি রুশ গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হফম্যান বলেছেন, আপনি একসঙ্গে সবকিছু করতে পারবেন না। আপনি স্থানীয়দের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেন এবং কখনো কখনো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে আপনার যে তথ্য দরকার, তা আপনি না-ও পেতে পারেন। সে কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সম্ভবত তারা ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের সামলানো নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত। এতেই বিষয়টি তাদের কাছ থেকে ফসকে গেছে।

 

রাশিয়ার জনগণের প্রতি দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের দীর্ঘদিনের যে অঙ্গীকার, তা শুক্রবারের এ হামলার মধ্য দিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এ হামলা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর অনেক বাসিন্দাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি মাসেই ফের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া পুতিন অবশ্য এর আগেও এ ধরনের সংকট সামলে এসেছেন। তার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো হুমকিও এখন নেই।

 

পুতিনের এত দিনের আচরণ এবং বিবৃতির আলোকে বলা যায়, এ ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত আটক ১১ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের আদালতেও হাজির করা হয়েছে। সেখানে একজনের এক কান কাটা দেখা গেছে। আরেকজনকে আদালতে হাজির করা হয় হুইলচেয়ারে। এ হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ায় আবার মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছেন বেশ কয়েক আইনপ্রণেতা।

এদিকে গত সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন, বিশ্বের কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষিত নয়। তদন্ত চলাকালীন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলার দায় স্বীকারের বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তদন্ত চলমান। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়। এই হামলার ঘটনায় সবাই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তবে এ ধরনের হামলা থেকে কোনো দেশই সুরক্ষিত নয়। দুঃখজনকভাবে আমাদের বিশ্ব দেখিয়েছে যে, কোনো শহর, কোনো দেশই সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত থাকতে পারে না। বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়াকে রক্ষায় অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই একটি চলমান প্রক্রিয়া। যার জন্য পূর্ণ মাত্রায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন। কিন্তু আপনি দেখতে পাচ্ছেন, বর্তমানের সবচেয়ে তীব্র সংঘাতপূর্ণ সময়ে এই ধরনের সহযোগিতা কোনোভাবেই পাওয়া যাচ্ছে না।

 

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগেই রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রোকাস সিটি কনসার্ট হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলাটিকে গত ২০ বছরের মধ্যে রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ভয়াবহ এই হামলার পেছনে ‘উগ্র ইসলামপন্থিরা’ জড়িত বলে প্রথমবারের মতো মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে এই হামলায় ইউক্রেনের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনে প্রচারিত বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, আমরা জানি, অপরাধটি কট্টরপন্থি ইসলামপন্থিদের হাতেই সংঘটিত হয়েছে, যাদের আদর্শের বিরুদ্ধে ইসলামিক বিশ্ব নিজেরাই বহু শতাব্দী ধরে লড়াই করে আসছে। এই নৃশংসতার সঙ্গে হয়তো ইউক্রেনের একটি যোগসূত্র থাকতে পারে যারা ২০১৪ সাল থেকে আমাদের দেশের সাথে যুদ্ধ করে আসছে। অবশ্যই, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া দরকার, কেন অপরাধ করার পরে সন্ত্রাসীরা ইউক্রেনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল? সেখানে তাদের জন্য কে অপেক্ষা করছিল?

 

এদিকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারিকে বরখাস্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে এই পদে দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের বিদায়ি সেক্রেটারি ওলেক্সি ড্যানিলভ ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে তার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মূলত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরই এই পদে এসেছিলেন ড্যানিলভ। পরে জেলেনস্কি তার রাতের ভিডিও ভাষণে বলেন, ড্যানিলভকে নতুন দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। তবে সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে প্রকাশ করা হবে। ড্যানিলভকে তার পদ থেকে অপসারণের কোনো কারণও জানানো হয়নি। এদিকে বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ৫১ বছর বয়সী ওলেক্সান্ডার লিটভিনেনকোকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি পদে নিযুক্ত করে জেলেনস্কি বলেন, গোয়েন্দা প্রধান হিসাবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তার নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করবেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরে এই পদে যুদ্ধ-পারদর্শী জেনারেল অলেক্সান্ডার সিরস্কিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।