০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধাশ্রমে মা দোয়া করি ওরা যেন সুখে থাকে

বাবা-মা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। নিজে কষ্ট করে সন্তানদের সুখে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করে না সন্তানের বিপদে। সেই আদরের সন্তান বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতা দেখা শোনা করে না। ফলে অনেক হতভাগা বাবা-মার আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। এমনই একজন ব্যক্তির নাম রইচ উদ্দিন। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। জীবনে কষ্ট কি জিনিস তা কখনো উপলব্ধি করেননি। গ্রামে জমিজমার অভাবও ছিল না তার। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ আর মাঠভরা ফসলের সমারোহেও তার জীবনযাপন ছিল সাদামাটা। তবে তিনি ছিলেন বেশ সৌখিন। সন্তানদের জন্য দু-হাত উজার করে দিয়েছিলেন। ছেলেকে দালান বাড়ি করে দিয়েছেন, আবার বিদেশেও পাঠিয়েছিলেন। এখন সেই ছেলেদের কারো কাছেই ঠাঁই হয়নি তার।যেন নচিকেতার সেই গানের মতোই রইচ উদ্দিনেরও জীবনগল্পে সুর মিলেছে-ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার। নানা রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি। জীবনের ক্রান্তিলগ্নে নিজের অতীত মনে পড়ায় অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইচ উদ্দিন বলেন, আমার প্রথম স্ত্রী মারা যান ছয় সন্তান রেখে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম। ওই সংসারে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। সংসার ভালোই চলছিল। কোনো কিছুর অভাব ছিল না। কোনো এক বন্যার কারণে শ্বশুরকে আমার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। নিজের জায়গা-জমি ছেড়ে দিয়ে শ্বশুরকে বাড়িঘর করে দিয়ে সেই দিন চরম ভুল করেছি। একপর্যায়ে তাদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। সেখানে আমাকে চাকরি করার জন্য বউ-বাচ্চা থেকে শুরু করে শ্বশুর পর্যন্ত চাপ দিয়েছিল। আমি চাকরি করিনি। বছর দুয়েক পরে হঠাৎ আমি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হই। এরপর থেকে সবাই একে একে আমাকে ছেড়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এখন আমার ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি আরও বলেন,
দ্বিতীয় বিয়ে করাটা জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমি সহজ সরল মানুষ। জীবনে এত কিছু হবে কখনো ভাবিনি। বড় ছেলেকে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি। জায়গা-জমি কিনে দিয়ে তাকে দোতলা বাড়িও করে দিয়েছি। আরেক ছেলেকে দুবাইয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে ছয় বছর থাকার পর সৌদি আরবে ছিল পাঁচ বছর। একটা ছেলে-মেয়েও আমাকে টাকা-পয়সা দিয়ে কোনো দিন সহযোগিতা করেনি। রইচ উদ্দিন বলেন, আমি আট মাস ধরে বৃদ্ধাশ্রমে আছি। কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। আমার তো এই বয়সে এখানে থাকার কথা ছিল না। আমার যা কিছু ছিল সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। রইচ উদ্দিনের বাড়ী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়। একটা সময় মাহে রমজানে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার-সেহরি করেছেন তিনি। এখন সেই স্মৃতিগুলো মনে
পড়ে তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রইচ উদ্দিন বলেন, আমার থাকার কথা ছিল তিন তলায়। তবে আমি এখন আছি বৃদ্ধাশ্রমে। আমার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে কেউ খোঁজ রাখে না। আমার সঙ্গে সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শুধু পরিবারই নয় আমার ভাই-ভাতিজারাও সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। এত কষ্ট পেয়েছি এখন আর কারো কথাই মনে পড়ে না। বৃদ্ধাশ্রমের খাবার খেতে কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানকার খাবার খেতে বিশেষ করে সকালের খিচুড়ি খেতে পারি না। কখনো কখনো মুড়ি ও চিড়া খেয়ে থাকি। তারপরও এখানে ভালো আছি। এখানে আমার দেখাশুনা ও সেবাযত্ন করার মানুষ আছে। এর চেয়ে এখন আর বেশি কিছু আশা করি না। জীবন সায়াহ্নে রইচ উদ্দিনের ঠাঁই হয়েছে রংপুর নগরীর ময়নাকুটি বকসা এলাকার বকসা বৃদ্ধাশ্রমে। এই বৃদ্ধাশ্রমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংকার, হোমিও চিকিৎসক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা রয়েছেন। বর্তমানে এখানে রংপুর জেলার ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের আশ্রয় হয়েছে। সম্প্রতি একজন ভারতীয় নারীরও থাকার জায়গা হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। দুলালী সরকার নামে মানসিক ভারসাম্য হারানো ওই নারী ভারতের কোচবিহারের বাসিন্দা। বৃদ্ধাশ্রমটির একটি কক্ষ থেকে আরেকটি কক্ষে ঢুকতেই এক বয়স্ক ব্যক্তিকে বই পড়ে সময় কাটাতে দেখা যায়। আনোয়ার হোসেন নামে ওই ব্যক্তি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকার বাসিন্দা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় বৃদ্ধাশ্রমে এমন ঠাঁই হওয়ায় নিজেকে দোষারোপ করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, এটা আমার কর্মের ফল। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। আমার ভাগ্যে এটাই লেখা ছিল। একটা সময় আমার কোনো কিছুর অভাব ছিল না। জীবনটা ছিল সাজানো গোছানো।

হঠাৎ করে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন আমার কেউ নেই। আমি বেঁচে আছি, এটাই এখন আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয়।পাঁচ বছর আগে জীবন সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে আনোয়ার। চাকরিজীবী সহধর্মিণী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন পিত্রালয়ে। সঙ্গে নিয়ে গেছেন সন্তানদেরও। এরপর নিঃসঙ্গ জীবনে ভিটেমাটি হারা হয়ে আনোয়ার চলে যান ঢাকায়। এক দুরারোগ্য ব্যধি থেকে মুক্তি মিললেও জীবনে আর স্বস্তি ফেরেনি তার। আপন স্বজনদের কারো কাছেই তার ঠাঁই হয়নি। এখন তার ঠিকানা বকসার বৃদ্ধাশ্রম। এখানে আসার মাত্র এক মাস হয়েছে। এরই মধ্যে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর ভুল বুঝতে পেরেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী আনোয়ার হোসেন। কতটা কষ্ট, নির্মমতা, বঞ্ছনা আর অবহেলা থেকে মানুষ নির্বাক হতে পারে তার প্রতিচ্ছবি আনোয়ার
হোসেন। জীবনগল্প এড়িয়ে সব প্রশ্নের জবাবে একটা কথাই বলেছেন বারবার এই পরিণতির জন্য আমি কাউকে দায়ী করব না। অথচ তার জল টলমলে চোখের ভাষা আর ঠোঁটের কোণে আটকে থাকা না বলা কথাগুলো যেন বুকে চেপে রাখা বেদনার বহিঃপ্রকাশ। রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার সায়েরা
বেগম প্রায় এক বছর ধরে এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। ষাটোর্ধ্ব বয়সী এই বৃদ্ধার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। কেউই সায়েরা বেগমকে তাদের সঙ্গে রাখেননি। তার ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। অশ্রুসিক্ত চোখে সায়েরা বেগম বলেন, ছেলেরা বিয়ে করেছে। সবাই বউ-বাচ্চা দিয়ে ভালো আছে। ব্যবসাও করছে। তাদের সঙ্গে শুধু আমার থাকার জায়গাটুকু নেই। কেউ কোনো খোঁজখবরও নেন না। আল্লাহর রহমতে আমার দিন কেটে যাচ্ছে। ইফতার-সেহরি করার সময় ছেলে-মেয়েদের কথা মনে পড়লে বুকটা কষ্টে ফেটে যেতে চায়। রাজধানী ঢাকার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সাকিলা বেগম থাকে বকসার এই বৃদ্ধাশ্রমে। তার বয়স শত বছরের কাছাকাছি। তার স্বামী বেঁচে নেই। একটিমাত্র ছেলে তার কাছে মাথা গোঁজার জায়গাটুকু হয়নি তার। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে সাকিলা বেগম বলেন, ছেলে থেকে লাভ কী? সে তো বউয়ের কথা শুনে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার কোনো কথা শোনেনি, বউয়ের কথাই বেশি শোনে। আমাকে বাড়ি বের করে একটা বাসে তুলে দিয়েছিল। আমি দিনাজপুরে চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে এনেছে। রংপুর নগরীর মিস্ত্রিপাড়ার সালেহা বেগম এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন । তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর হলো। দুটি ছেলে সন্তান, তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। রিকশা চালিয়ে নিজেদের সংসার সামলাতে পারলেও মাকে ধরে রাখতে পারেননি কেউই। সেই সন্তানদের কথা বলতেই হু হু করে কান্নায় ভেঙে পড়েন সালেহা।

চোখের পানি মুছতে মুছতে এই বৃদ্ধা মা বলেন, ছেলেরা বউ-বাচ্চার খাবার জোগাতে পারে, আমাকে খাওয়াতে পারে না। তারা কষ্ট করে আছে সঙ্গে আমাকেও তো রাখতে পারত। মায়ের কথা কোনো ছেলেই মনে রাখল না। আমি তাদের জন্য কত কষ্ট করেছি। আমার তাদের কাছে জায়গা হয় না। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি ওরা যেন সুখে থাকে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত (রিজার্ভ অফিসার) এসআই রেজাউল করিম দুই বছর আগে পৈতৃকভিটা রংপুর মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নাকুঠি বকসা এলাকার বিঘাখানেক জমিতে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন বকসা বৃদ্ধাশ্রম। নিজের বেতনের টাকা ছাড়াও পরিবারের সহযোগিতা রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনায়। সেখানে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবাদের থাকা খাওয়া, কর্মচারীর বেতন, অ্যাম্বুলেন্স খরচ, চিকিৎসা খরচ, ঔষধ ও কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে মাসে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়।

এলাকার অনেকেই বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী, ছেলেমেয়ের জন্মদিনসহ বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বৃদ্ধাশ্রমে কখনো কখনো একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। অবকাঠামোগত সমস্যা আর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বৃদ্ধাশ্রমে নামাজ ঘর তৈরি করা হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অবস্থায় কারো মৃত্যু হলে যদি পরিবারের লোকজন মরদেহ দাফন করতে অনীহা প্রকাশ করে তার জন্য বৃদ্ধাশ্রমের নিজস্ব কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবাদের সেবাযত্নে রেজাউল করিমের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা তার স্ত্রী নাহিদ নুসরাত। আর তাদের সঙ্গে ছায়ার মতো সঙ্গী হয়েছে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস সাফল্য। পড়াশোনার পাশাপাশি অসহায় এসব বৃদ্ধ মা-বাবার সেবায় সাফল্য নিজেও নিবেদিত প্রাণ হয়ে গেছেন। জান্নাতুল ফেরদৌস সাফল্য বলেন, বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমে ৩২ জন মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী এবং একজন এতিম শিশু রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এসব মানুষের মধ্যে কাউকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা হয়েছে। আবার কারো কারো পরিবার থেকে এখানে রেখে গেছে। তবে পরিবার থেকে আসা মা-বাবাদের খোঁজখবর কেউ রাখে না। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে হাসিখুশি রাখার। কারো কোনো আবদার থাকলে সেটা পূরণ করারও চেষ্টা করি। বয়সে সবার ছোট হওয়ায় সবাই আমাকে খুব আদর স্নেহ করেন। আর আমার মা-বাবা তো এখানকার মানুষদের জন্য একেবারে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। খাবার ও চিকিৎসাসেবার বিষয়ে সাফল্য বলেন, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মা-বাবাদের নিয়মিত তিন বেলা খাবার দেওয়া ছাড়াও অসুস্থদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে রুটি-চা, সকাল ১০টার দিকে খিচুড়ি, আবার দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া বিকালে হালকা নাস্তা এবং রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে রাতের খাবার দেওয়া হয়। যদি কেউ অসুস্থ হয় তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমের সেবক শহিদুল ইসলাম বলেন, একেকজনের জীবনের গল্পটা একেক রকম। আমি তাদের খাওয়া, গোসল করানো ও ঔষধ খাওয়ানো থেকে সব সেবা করি। যখন তাদের কষ্টের কথাগুলো শুনি তখন আমি আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। এসব মা-বাবাকে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। কখনো কখনো মনে হয় বুকটা হালকা করতে চিৎকার করে কাঁদতে থাকি। বকসা বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা এসআই রেজাউল করিম বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। অর্থাভাবে সেটি করতে পারছি না। এখন ঝড়-বৃষ্টি হলে একটু সমস্যা হচ্ছে। যদি অবকাঠামোগত দিক থেকে উন্নত করা যেত তাহলে পরিচ্ছন্ন
পরিবেশে এসব মা-বাবা আরও ভালো থাকতে পারতেন। তাদেরকে সপ্তাহে একদিন একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া দেওয়া হচ্ছে। আমি চাই প্রত্যেকটি মা-বাবা ভালো থাকুক। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো বৃদ্ধাশ্রমটিকে আরও সুন্দর পরিবেশে উন্নত করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বৃদ্ধাশ্রমটি পরিদর্শন করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। সেখানকার অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন তিনি। অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন বৃদ্ধাশ্রমে আসার নেপথ্যের জীবনগল্প।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃদ্ধাশ্রমে মা দোয়া করি ওরা যেন সুখে থাকে

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

বাবা-মা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান। নিজে কষ্ট করে সন্তানদের সুখে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করে না সন্তানের বিপদে। সেই আদরের সন্তান বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতা দেখা শোনা করে না। ফলে অনেক হতভাগা বাবা-মার আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। এমনই একজন ব্যক্তির নাম রইচ উদ্দিন। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। জীবনে কষ্ট কি জিনিস তা কখনো উপলব্ধি করেননি। গ্রামে জমিজমার অভাবও ছিল না তার। গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ আর মাঠভরা ফসলের সমারোহেও তার জীবনযাপন ছিল সাদামাটা। তবে তিনি ছিলেন বেশ সৌখিন। সন্তানদের জন্য দু-হাত উজার করে দিয়েছিলেন। ছেলেকে দালান বাড়ি করে দিয়েছেন, আবার বিদেশেও পাঠিয়েছিলেন। এখন সেই ছেলেদের কারো কাছেই ঠাঁই হয়নি তার।যেন নচিকেতার সেই গানের মতোই রইচ উদ্দিনেরও জীবনগল্পে সুর মিলেছে-ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার। নানা রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি। জীবনের ক্রান্তিলগ্নে নিজের অতীত মনে পড়ায় অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইচ উদ্দিন বলেন, আমার প্রথম স্ত্রী মারা যান ছয় সন্তান রেখে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনার কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলাম। ওই সংসারে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। সংসার ভালোই চলছিল। কোনো কিছুর অভাব ছিল না। কোনো এক বন্যার কারণে শ্বশুরকে আমার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। নিজের জায়গা-জমি ছেড়ে দিয়ে শ্বশুরকে বাড়িঘর করে দিয়ে সেই দিন চরম ভুল করেছি। একপর্যায়ে তাদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। সেখানে আমাকে চাকরি করার জন্য বউ-বাচ্চা থেকে শুরু করে শ্বশুর পর্যন্ত চাপ দিয়েছিল। আমি চাকরি করিনি। বছর দুয়েক পরে হঠাৎ আমি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হই। এরপর থেকে সবাই একে একে আমাকে ছেড়ে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এখন আমার ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি আরও বলেন,
দ্বিতীয় বিয়ে করাটা জীবনের সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আমি সহজ সরল মানুষ। জীবনে এত কিছু হবে কখনো ভাবিনি। বড় ছেলেকে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি। জায়গা-জমি কিনে দিয়ে তাকে দোতলা বাড়িও করে দিয়েছি। আরেক ছেলেকে দুবাইয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে ছয় বছর থাকার পর সৌদি আরবে ছিল পাঁচ বছর। একটা ছেলে-মেয়েও আমাকে টাকা-পয়সা দিয়ে কোনো দিন সহযোগিতা করেনি। রইচ উদ্দিন বলেন, আমি আট মাস ধরে বৃদ্ধাশ্রমে আছি। কেউ আমার খোঁজ নেয়নি। আমার তো এই বয়সে এখানে থাকার কথা ছিল না। আমার যা কিছু ছিল সবাই ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। রইচ উদ্দিনের বাড়ী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়। একটা সময় মাহে রমজানে পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার-সেহরি করেছেন তিনি। এখন সেই স্মৃতিগুলো মনে
পড়ে তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রইচ উদ্দিন বলেন, আমার থাকার কথা ছিল তিন তলায়। তবে আমি এখন আছি বৃদ্ধাশ্রমে। আমার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে কেউ খোঁজ রাখে না। আমার সঙ্গে সবাই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। শুধু পরিবারই নয় আমার ভাই-ভাতিজারাও সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। এত কষ্ট পেয়েছি এখন আর কারো কথাই মনে পড়ে না। বৃদ্ধাশ্রমের খাবার খেতে কষ্ট হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানকার খাবার খেতে বিশেষ করে সকালের খিচুড়ি খেতে পারি না। কখনো কখনো মুড়ি ও চিড়া খেয়ে থাকি। তারপরও এখানে ভালো আছি। এখানে আমার দেখাশুনা ও সেবাযত্ন করার মানুষ আছে। এর চেয়ে এখন আর বেশি কিছু আশা করি না। জীবন সায়াহ্নে রইচ উদ্দিনের ঠাঁই হয়েছে রংপুর নগরীর ময়নাকুটি বকসা এলাকার বকসা বৃদ্ধাশ্রমে। এই বৃদ্ধাশ্রমে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংকার, হোমিও চিকিৎসক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা রয়েছেন। বর্তমানে এখানে রংপুর জেলার ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের আশ্রয় হয়েছে। সম্প্রতি একজন ভারতীয় নারীরও থাকার জায়গা হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। দুলালী সরকার নামে মানসিক ভারসাম্য হারানো ওই নারী ভারতের কোচবিহারের বাসিন্দা। বৃদ্ধাশ্রমটির একটি কক্ষ থেকে আরেকটি কক্ষে ঢুকতেই এক বয়স্ক ব্যক্তিকে বই পড়ে সময় কাটাতে দেখা যায়। আনোয়ার হোসেন নামে ওই ব্যক্তি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকার বাসিন্দা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় বৃদ্ধাশ্রমে এমন ঠাঁই হওয়ায় নিজেকে দোষারোপ করেন আনোয়ার। তিনি বলেন, এটা আমার কর্মের ফল। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। আমার ভাগ্যে এটাই লেখা ছিল। একটা সময় আমার কোনো কিছুর অভাব ছিল না। জীবনটা ছিল সাজানো গোছানো।

হঠাৎ করে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন আমার কেউ নেই। আমি বেঁচে আছি, এটাই এখন আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয়।পাঁচ বছর আগে জীবন সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে আনোয়ার। চাকরিজীবী সহধর্মিণী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন পিত্রালয়ে। সঙ্গে নিয়ে গেছেন সন্তানদেরও। এরপর নিঃসঙ্গ জীবনে ভিটেমাটি হারা হয়ে আনোয়ার চলে যান ঢাকায়। এক দুরারোগ্য ব্যধি থেকে মুক্তি মিললেও জীবনে আর স্বস্তি ফেরেনি তার। আপন স্বজনদের কারো কাছেই তার ঠাঁই হয়নি। এখন তার ঠিকানা বকসার বৃদ্ধাশ্রম। এখানে আসার মাত্র এক মাস হয়েছে। এরই মধ্যে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর ভুল বুঝতে পেরেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী আনোয়ার হোসেন। কতটা কষ্ট, নির্মমতা, বঞ্ছনা আর অবহেলা থেকে মানুষ নির্বাক হতে পারে তার প্রতিচ্ছবি আনোয়ার
হোসেন। জীবনগল্প এড়িয়ে সব প্রশ্নের জবাবে একটা কথাই বলেছেন বারবার এই পরিণতির জন্য আমি কাউকে দায়ী করব না। অথচ তার জল টলমলে চোখের ভাষা আর ঠোঁটের কোণে আটকে থাকা না বলা কথাগুলো যেন বুকে চেপে রাখা বেদনার বহিঃপ্রকাশ। রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকার সায়েরা
বেগম প্রায় এক বছর ধরে এই বৃদ্ধাশ্রমে আছেন। ষাটোর্ধ্ব বয়সী এই বৃদ্ধার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। কেউই সায়েরা বেগমকে তাদের সঙ্গে রাখেননি। তার ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। অশ্রুসিক্ত চোখে সায়েরা বেগম বলেন, ছেলেরা বিয়ে করেছে। সবাই বউ-বাচ্চা দিয়ে ভালো আছে। ব্যবসাও করছে। তাদের সঙ্গে শুধু আমার থাকার জায়গাটুকু নেই। কেউ কোনো খোঁজখবরও নেন না। আল্লাহর রহমতে আমার দিন কেটে যাচ্ছে। ইফতার-সেহরি করার সময় ছেলে-মেয়েদের কথা মনে পড়লে বুকটা কষ্টে ফেটে যেতে চায়। রাজধানী ঢাকার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সাকিলা বেগম থাকে বকসার এই বৃদ্ধাশ্রমে। তার বয়স শত বছরের কাছাকাছি। তার স্বামী বেঁচে নেই। একটিমাত্র ছেলে তার কাছে মাথা গোঁজার জায়গাটুকু হয়নি তার। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে সাকিলা বেগম বলেন, ছেলে থেকে লাভ কী? সে তো বউয়ের কথা শুনে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার কোনো কথা শোনেনি, বউয়ের কথাই বেশি শোনে। আমাকে বাড়ি বের করে একটা বাসে তুলে দিয়েছিল। আমি দিনাজপুরে চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে এনেছে। রংপুর নগরীর মিস্ত্রিপাড়ার সালেহা বেগম এই বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন । তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর হলো। দুটি ছেলে সন্তান, তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। রিকশা চালিয়ে নিজেদের সংসার সামলাতে পারলেও মাকে ধরে রাখতে পারেননি কেউই। সেই সন্তানদের কথা বলতেই হু হু করে কান্নায় ভেঙে পড়েন সালেহা।

চোখের পানি মুছতে মুছতে এই বৃদ্ধা মা বলেন, ছেলেরা বউ-বাচ্চার খাবার জোগাতে পারে, আমাকে খাওয়াতে পারে না। তারা কষ্ট করে আছে সঙ্গে আমাকেও তো রাখতে পারত। মায়ের কথা কোনো ছেলেই মনে রাখল না। আমি তাদের জন্য কত কষ্ট করেছি। আমার তাদের কাছে জায়গা হয় না। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি ওরা যেন সুখে থাকে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত (রিজার্ভ অফিসার) এসআই রেজাউল করিম দুই বছর আগে পৈতৃকভিটা রংপুর মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নাকুঠি বকসা এলাকার বিঘাখানেক জমিতে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন বকসা বৃদ্ধাশ্রম। নিজের বেতনের টাকা ছাড়াও পরিবারের সহযোগিতা রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনায়। সেখানে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবাদের থাকা খাওয়া, কর্মচারীর বেতন, অ্যাম্বুলেন্স খরচ, চিকিৎসা খরচ, ঔষধ ও কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে মাসে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়।

এলাকার অনেকেই বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী, ছেলেমেয়ের জন্মদিনসহ বিভিন্ন উপলক্ষ্যে বৃদ্ধাশ্রমে কখনো কখনো একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। অবকাঠামোগত সমস্যা আর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বৃদ্ধাশ্রমে নামাজ ঘর তৈরি করা হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা অবস্থায় কারো মৃত্যু হলে যদি পরিবারের লোকজন মরদেহ দাফন করতে অনীহা প্রকাশ করে তার জন্য বৃদ্ধাশ্রমের নিজস্ব কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবাদের সেবাযত্নে রেজাউল করিমের সবচেয়ে বড় নির্ভরতা তার স্ত্রী নাহিদ নুসরাত। আর তাদের সঙ্গে ছায়ার মতো সঙ্গী হয়েছে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস সাফল্য। পড়াশোনার পাশাপাশি অসহায় এসব বৃদ্ধ মা-বাবার সেবায় সাফল্য নিজেও নিবেদিত প্রাণ হয়ে গেছেন। জান্নাতুল ফেরদৌস সাফল্য বলেন, বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমে ৩২ জন মানুষ রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী এবং একজন এতিম শিশু রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা এসব মানুষের মধ্যে কাউকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা হয়েছে। আবার কারো কারো পরিবার থেকে এখানে রেখে গেছে। তবে পরিবার থেকে আসা মা-বাবাদের খোঁজখবর কেউ রাখে না। আমি সব সময় চেষ্টা করি সবাইকে হাসিখুশি রাখার। কারো কোনো আবদার থাকলে সেটা পূরণ করারও চেষ্টা করি। বয়সে সবার ছোট হওয়ায় সবাই আমাকে খুব আদর স্নেহ করেন। আর আমার মা-বাবা তো এখানকার মানুষদের জন্য একেবারে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। খাবার ও চিকিৎসাসেবার বিষয়ে সাফল্য বলেন, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মা-বাবাদের নিয়মিত তিন বেলা খাবার দেওয়া ছাড়াও অসুস্থদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে রুটি-চা, সকাল ১০টার দিকে খিচুড়ি, আবার দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া বিকালে হালকা নাস্তা এবং রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে রাতের খাবার দেওয়া হয়। যদি কেউ অসুস্থ হয় তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও রয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমের সেবক শহিদুল ইসলাম বলেন, একেকজনের জীবনের গল্পটা একেক রকম। আমি তাদের খাওয়া, গোসল করানো ও ঔষধ খাওয়ানো থেকে সব সেবা করি। যখন তাদের কষ্টের কথাগুলো শুনি তখন আমি আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। এসব মা-বাবাকে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। কখনো কখনো মনে হয় বুকটা হালকা করতে চিৎকার করে কাঁদতে থাকি। বকসা বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা এসআই রেজাউল করিম বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। অর্থাভাবে সেটি করতে পারছি না। এখন ঝড়-বৃষ্টি হলে একটু সমস্যা হচ্ছে। যদি অবকাঠামোগত দিক থেকে উন্নত করা যেত তাহলে পরিচ্ছন্ন
পরিবেশে এসব মা-বাবা আরও ভালো থাকতে পারতেন। তাদেরকে সপ্তাহে একদিন একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া দেওয়া হচ্ছে। আমি চাই প্রত্যেকটি মা-বাবা ভালো থাকুক। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো বৃদ্ধাশ্রমটিকে আরও সুন্দর পরিবেশে উন্নত করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বৃদ্ধাশ্রমটি পরিদর্শন করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। সেখানকার অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন তিনি। অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন বৃদ্ধাশ্রমে আসার নেপথ্যের জীবনগল্প।