০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ফের গুলি নিহত বাংলাদেশী যুবক

লালমনিরহাট সীমান্তে ৫ দিনের ব্যবধানে আবারও বিএসএফের গুলিতে মুরুলী চন্দ্র বর্মণ নামে আরও এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও গুলিতে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহত মুরুলী চন্দ্র বর্মণ কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র বর্মণের ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন-একই ইউনিয়নের চন্দ্রপুর এলাকার মোঃ নুর ইসলামের ছেলে লিটন মিয়া(৪০) ও একই এলাকার মোঃ আজিমুদ্দিন ওরফে আজিমুলের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৩)। নিহত ও আহতদের পরিচিয় নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা বেগম, ইউপি সদস্য দিনো বন্ধু রায় ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াজ কবীর।
শনিবার(৩০ মার্চ) রাত ১টার পর লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৯১৩ এর ৪ নম্বর সাবপিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী সীমান্তের মেইন পিলার ৯২৩ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত লিটন মিয়া(১৯) নামে একজন বাংলাদেশি যুবক ভারতের কুচবিহার এমজেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে মারা যান। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় গোহাটি ফ্রন্টিয়ারের কোচবিহার জেলার গোপালপুর বিএসএফ সেক্টরের গোপালপুর-৭৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যের গুলিতে আবারও একজন বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হলো।
শনিবার(৩০ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াহ কবীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মার্চ) কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর(চারখুঁটি) সীমান্তের মেইন পিলার ৯১৩ এর ৪ নম্বর সাবপিলার এলাকা দিয়ে রাত ১টার দিকে ভারতীয় একদল গরু ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় বাংলাদেশি ১০/১৫ জন ব্যক্তি ভারত থেকে গরু পাচার করে আনার চেষ্টা করলে ভারতীয় গোহাটি ফ্রন্টিয়ারের কোচবিহার জেলার গোপালপুর বিএসএফ সেক্টরের গোপালপুর-৭৫ ব্যাটালিয়নের চিত্রাকোট ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে বিএসএফের গুলিতে উত্তর বালাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র বর্মণের ছেলে মুরুলী চন্দ্র বর্মণ(৪১) পিঠে গুলিবিদ্ধ এবং চন্দ্রপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে লিটন মিয়া(৪০) ও একই এলাকার আজিমুদ্দিন ওরফে আজিমুলের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৩) শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন। গরু পাচারকারী দলের অপর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে গোপনে রংপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। পরে মুরুলী চন্দ্র বর্মণের রংপুরে মৃত্যু হলে মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কাকিনা-মহিপুর সড়কের সিরাজুল মার্কেটের সামনে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করে লালমনিরহাট-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ উপজেলার মধ্যে আমার ইউনিয়নটি ভৌগলিক দিক থেকে দুর্গম ও প্রায় ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। এখানে চোরাকারবারী চক্র খুবই সক্রিয় ও শক্তিশালী। বিষয়টি র‌্যাব ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।’
লালমনিরহাট -১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতের ঘটনায় ভারতীয় ৭৫-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। পতাকা বৈঠকের আহবান জানিয়ে বিএসএফকে এ ঘটনায় কড়াপ্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও চোরাকারী চক্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে গুরু পাচারের কাজে জড়াচ্ছে। সীমান্তে চোরাকারবারী বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াজ কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গুরু পাচারকারী সদস্যরা বিএসএফের গুলিতে আহত মুরুলীকে সীমান্ত থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোপনে রংপুর নিয়ে যায়। রংপুরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে বাড়ী ফেরার পথে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহবাহী গাড়ীটি কাকিনা-মহিপুর সড়কের সিরাজুল মার্কেট এলাকা থেকে হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই গাড়ীতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কালীগঞ্জ থানা হেফাজতে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিটন মিয়া ও মিজানুর রহমান আহত বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। থানা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে ফের গুলি নিহত বাংলাদেশী যুবক

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
লালমনিরহাট সীমান্তে ৫ দিনের ব্যবধানে আবারও বিএসএফের গুলিতে মুরুলী চন্দ্র বর্মণ নামে আরও এক বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও গুলিতে দুই বাংলাদেশি গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহত মুরুলী চন্দ্র বর্মণ কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র বর্মণের ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন-একই ইউনিয়নের চন্দ্রপুর এলাকার মোঃ নুর ইসলামের ছেলে লিটন মিয়া(৪০) ও একই এলাকার মোঃ আজিমুদ্দিন ওরফে আজিমুলের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৩)। নিহত ও আহতদের পরিচিয় নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা বেগম, ইউপি সদস্য দিনো বন্ধু রায় ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াজ কবীর।
শনিবার(৩০ মার্চ) রাত ১টার পর লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৯১৩ এর ৪ নম্বর সাবপিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দীঘলটারী সীমান্তের মেইন পিলার ৯২৩ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত লিটন মিয়া(১৯) নামে একজন বাংলাদেশি যুবক ভারতের কুচবিহার এমজেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে মারা যান। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতীয় গোহাটি ফ্রন্টিয়ারের কোচবিহার জেলার গোপালপুর বিএসএফ সেক্টরের গোপালপুর-৭৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যের গুলিতে আবারও একজন বাংলাদেশি নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হলো।
শনিবার(৩০ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ ও কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াহ কবীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ মার্চ) কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর(চারখুঁটি) সীমান্তের মেইন পিলার ৯১৩ এর ৪ নম্বর সাবপিলার এলাকা দিয়ে রাত ১টার দিকে ভারতীয় একদল গরু ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় বাংলাদেশি ১০/১৫ জন ব্যক্তি ভারত থেকে গরু পাচার করে আনার চেষ্টা করলে ভারতীয় গোহাটি ফ্রন্টিয়ারের কোচবিহার জেলার গোপালপুর বিএসএফ সেক্টরের গোপালপুর-৭৫ ব্যাটালিয়নের চিত্রাকোট ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে বিএসএফের গুলিতে উত্তর বালাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র বর্মণের ছেলে মুরুলী চন্দ্র বর্মণ(৪১) পিঠে গুলিবিদ্ধ এবং চন্দ্রপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে লিটন মিয়া(৪০) ও একই এলাকার আজিমুদ্দিন ওরফে আজিমুলের ছেলে মিজানুর রহমান(৩৩) শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন। গরু পাচারকারী দলের অপর সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে গোপনে রংপুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। পরে মুরুলী চন্দ্র বর্মণের রংপুরে মৃত্যু হলে মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কাকিনা-মহিপুর সড়কের সিরাজুল মার্কেটের সামনে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করে লালমনিরহাট-২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ উপজেলার মধ্যে আমার ইউনিয়নটি ভৌগলিক দিক থেকে দুর্গম ও প্রায় ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। এখানে চোরাকারবারী চক্র খুবই সক্রিয় ও শক্তিশালী। বিষয়টি র‌্যাব ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।’
লালমনিরহাট -১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতের ঘটনায় ভারতীয় ৭৫-বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। পতাকা বৈঠকের আহবান জানিয়ে বিএসএফকে এ ঘটনায় কড়াপ্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও চোরাকারী চক্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে গুরু পাচারের কাজে জড়াচ্ছে। সীমান্তে চোরাকারবারী বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কালীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ ইমতিয়াজ কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গুরু পাচারকারী সদস্যরা বিএসএফের গুলিতে আহত মুরুলীকে সীমান্ত থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গোপনে রংপুর নিয়ে যায়। রংপুরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলে বাড়ী ফেরার পথে এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মরদেহবাহী গাড়ীটি কাকিনা-মহিপুর সড়কের সিরাজুল মার্কেট এলাকা থেকে হেফাজতে নিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়না তদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওই গাড়ীতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি কালীগঞ্জ থানা হেফাজতে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিটন মিয়া ও মিজানুর রহমান আহত বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। থানা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।