০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশে ডেথ রিভিউয়ে আগ্রহ কম

• হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহে ডেথ রিভিউ নিয়মিত চালু না থাকায় রোগ নির্ণয় ও পরবর্তী চিকিৎসায় বিঘ্ন হচ্ছে
• ডেথ রিভিউ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নেই কোনো উদ্যোগ হয়নি এখনো নীতিমালা
• এটি চালু হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো উন্নত ও আধুনিক হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

উন্নত দেশগুলোতে রোগীর মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে ডেথ রিভিউ কার্যকরী ভূমিকা পালন করলেও বাংলাদেশে এখনো ডেথ রিভিউ সেভাবে কাজ করে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর চর্চা খুব স্বল্প পরিসরে শুরু হলে তা মোট মৃত্যুর খুবই সামান্য অংশ। নগরীর কয়েকটি হাসপাতালে মাসিক মৃত্যুর তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা রিভিউ করলে এমন পদ্ধতি দেশের সবগুলো হাসপাতালে চালু হয়নি। তবে, এই উদ্যোগ অবিলম্বে চালু করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা সারা দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চালু হলে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসাক্ষেত্রে অসততা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার বিষয়গুলো কাটিয়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও আরো উন্নত করা সম্ভব হবে। আর এ কারণে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ডেথ রিভিউয়ের বিষয়টি চালু হওয়া জরুরি। একজন রোগীর মৃত্যুর পর তার মৃত্যু ঠিক কী কী কারণে হয়েছে এটি খুঁজে বের হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৮ জন, মেয়ে শিশু ৭ জন, পল্লি অঞ্চলে মেয়ে শিশু ৭ জন, ছেলে শিশু ৮ জন, করাই হচ্ছে ডেথ রিভিউ। এই মাধ্যমে বোঝা যায়, কোন মৃত্যুটি স্বাভাবিক কোনটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। ডেথ রিভিউ থেকে চিকিৎসকেরা এমন কিছু তথ্য বের করতে পারেন যার ফলে পরবর্তী কোনো রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে তা কাজে দেয়। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতি হাজারে জাতীয় পর্যায়ে পুরুষের মৃত্যুর হার ছয় দশমিক আট, নারীর মৃত্যুহার ৫ দশমিক আট শতাংশ, পল্লি অঞ্চলে প্রতি হাজারে পুরুষের মৃত্যুর হার সাত, নারীর মৃত্যুহার ৫ দশমিক শূন্য আট, শহরাঞ্চলে পুরুষের মৃত্যুর হার পাঁচ দশমিক নয় ভাগ এবং নারীর মৃত্যুর হার চার দশমিক পাঁচ। এক বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৩০ জন, মেয়ে শিশু ২৪ জন। গ্রামাঞ্চলে ছেলে শিশু ৩০ জন, মেয়ে শিশু ২৫ জন। শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ২৮ জন, মেয়ে শিশু ২১ জন। এক মাসের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ২২ জন, মেয়ে শিশু ১৭ জন। পল্লি অঞ্চলে ছেলে শিশু ২৩ জন, মেয়ে শিশু ২৭ জন। শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ১৯ জন, মেয়ে শিশু ১৪ জন। ১ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ৯ জন, মেয়ে শিশু ৭ জন। ১-৪ বছর বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে ছেলে ১.৪ জন ও মেয়ে ১.৪ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জন্ম শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৩৫ জন, মেয়ে শিশু ৩০ জন। প্রতি লাখ জীবিত জন্ম শিশুর বিপরীতে মাতৃমৃত্যুর হার জাতীয় পর্যায়ে ১৩৬ জন, পল্লি অঞ্চলে ১৫৭ জন এবং শহরাঞ্চলে ৫৬ জন। দেশে এখন সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। এরপরেই আছে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যকৃতের ক্যানসার, সাধারণ জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, নিউমোনিয়া, হৃদ্‌ রোগ ও ডায়াবেটিস। বিবিএস এর ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২৩: গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল’ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ১ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ মানুষ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছে শূন্য দশমিক ছয় চার শতাংশ। যকৃতের ক্যান্সারে মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই সাত শতাংশ, অ্যাজমায় মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই সাত শতাংশ, সাধারণ জ্বরে মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই তিন শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে শূন্য দশমিক দুই দুই শতাংশ, নিউমোনিয়ায় শূন্য দশমিক দুই দুই শতাংশ, হৃদরোগে শূন্য দশমিক দুই এক শতাংশ, ডায়াবেটিসে শূন্য দশমিক দুই এক শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এর ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪৫১০টি মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তারা যে বিষয়গুলো দেখেছে, মৃত্যুর তারিখ, রোগীর সঙ্গীর যোগাযোগের নম্বর, রোগীর মৃত্যুর সময় তার যোগাযোগের নম্বর, ইমেইল এড্রেস ও ফ্যাক্স নম্বর, নির্দিষ্ট তালিকা নম্বর, মৃত্যুর ধরণ (প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত অথবা দূর্ঘটনা), মৃত্যুর কারণ, মৃত্যুর স্থান, গত তিন মাসে হাসপাতালে ভর্তির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), মৃত্যুর সময়ের চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা, মৃতর বসবাসের স্থানের ধরণ (কারো বাড়িতে থাকা, নিজের বাড়িতে থাকা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা)।

পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো যাচাই করে তথ্য সংগ্রহের পর যদি কোনো ধরনের নিপীড়ন বা অনীহার তথ্য প্রমাণ পায় তাৎক্ষণিকভাবে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিবে। পাশাপাশি এই ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে ঠিক কী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেটিও পর্যালোচনা করেছে। বিশেষ করে, রোগীর সেবাযত্ন কেমন হওয়া উচিত ছিল তার ওষুধগুলো ঠিক ছিল কি না এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা করা এবং সেটি কোনো জার্নালে প্রকাশের মতো ঘটনা ঘটেনি। যদিও দেশে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল এককভাবে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা করে থাকে। এদের মধ্যেরাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতাল অন্যতম। এখানে ২০২৪ সালের ডেথ রিভিউ পর্যালোচনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কমিটির প্রধান হচ্ছেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাজিউর রহমান, দ্বিতীয় দায়িত্বে আছেন যুগ্ম-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজিমুল ইসলাম। এছাড়া প্রতি মাসে একজন করে চিকিৎসক এই ডেথ রিভিউ দলের দায়িত্বে আছেন। যারা মাসে একদিন বৈঠক করে ঐ মাসে যতজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাদের মৃত্যুর কারণ সনাক্ত করেন। বারডেমে মার্চ মাসের রিভিউ টিমে আছেন বারডেম-২ এর গাইনী অ্যান্ড অবস ইউনিট-৩ এর সহকারী অধ্যাপক ডা. নওশাবা তারান্নুম মাহতাব। মাতৃমৃত্যু নিয়ে গবেষণা রিপোর্ট আছে: ক্ষুদ্র পরিসরে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু নিয়ে ডেথ রিভিউ করার পর গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এটি তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যাটারনাল হেলথ প্রোগ্রাম। ২০২২ সালে পরিচালিত ‘ম্যাটারনাল অ্যান্ড পেরিন্যাটাল ডেথ সার্ভিলেন্স অ্যান্ড রেসপন্স (এমপিডিএসআর) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই জরিপে দেখা যায়, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণের (পিপিএইচ) কারণে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এটি মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ। এরপর একলাম্পসিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ মায়ের, ১১ দশমিক সাত শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়েছে দেরিতে প্রসবের কারণে, ৫ দশমিক চার শতাংশ প্রসবজনিত ট্রমায় মৃত্যু হয়েছে। প্লাজেন্টা প্রিভিয়ার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা) কারণে মৃত্যু হয়েছে চার দশমিক সাত শতাংশ মায়ের। নির্ধারিত ২০টি জেলার মৃত্যুতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। একলাম্পসিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, আট দশমিক দুই শতাংশ মৃত্যু হয়েছে বিলম্বিত প্রসবের কারণে। আট দশমিক নয় শতাংশ মৃত্যু রক্তশূন্যতায়, তিন দশমিক চার শতাংশ গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্তক্ষরণ, দুই দশমিক এক শতাংশ প্রসবোত্তর সংক্রমণে, প্রসবকালীন জটিলতায় ছয় দশমিক ২ শতাংশ, ১২ দশমিক তিন শতাংশ বর্ণনা করা যায় না এমন কারণে মৃত্যু হয়েছে। এক্সপার্টদের বক্তব্য: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিয়র, রিহ্যাব ও প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতি বুধবার আমরা ডেথ রিভিউ করি। এটা প্রতি সপ্তাহে একবার করা হয়। কয়টা মৃত্যু ঘটল। কেন মৃত্যু ঘটল। এটা জাস্টিফাই ছিল কি না? কি রোগ নিয়ে এসেছিল? কি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল? সে সমস্ত ওষুধের ডোজ ঠিক ছিল কি না সেগুলো আমরা সব ফরেনসিক করি। তবে, এগুলো জার্নালে প্রকাশ করা হয়না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর তত্ত্বকথা কাউকে আমরা জানাতে পারি না। এগুলো রোগীর গোপনীয় তথ্য। আমরা এই তথ্যগুলো জমা রাখি। এগুলো রেকর্ডরুমে জমা থাকে। শুধু যদি কোর্ট কখনো কোনো রোগীর ব্যাপারে তথ্য চায় সেটা আমরা দিতে পারি। স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের দেশে এখনো নিয়মিত পোস্টমর্টেম হয় না। পোস্ট মর্টেম করতে গেলে রোগীর আত্মীয়দের মতামত নিতে হয়। কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে বা নেগলেজেন্সির অভিযোগ উঠলে তখন পোস্টমর্টেম করা হয়। এছাড়া পোস্টমর্টেম করা সম্ভব হয় না। তবে, ইদানিং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম হচ্ছে। আগে এটুকুও হতো না। ডেথ রিভিউয়ের যদি আমরা জরিপ করতে চাই তাহলে এর জন্য সব ধরনের তথ্য নিয়ে রিভিউ করতে হবে। রোগীর কি রোগ ছিল, রোগের জন্য কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে, ওষুধ কি দেওয়া হয়েছে? কেন তার মৃত্যু হয়েছে এই বিষয়গুলো দেখা হয়। যদি দেখা যায়, নেগলেজেন্সির জন্য কোনো রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাহলে সেটা বিচারের জন্য কোর্টে যায়। ডেথ রিভিউটা ঠিকমতো থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর লোকেরা বিচার পায়। যখন কোনো রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে অভিযোগ আসে তখন দুটি বিষয় দেখা হয়।

বিষয়টি ইথিক্যাল ছিল কি না আর তার ব্যাপারে কোনো নেগলিজেন্সি ছিল কি না? রোগী মৃত্যুর অভিযোগের ক্ষেত্রে এখন যেটা বাড়ছে, অদক্ষকর্মী, আনএথিক্যাল প্র্যাকটিস, ব্যাকআপ ঠিকমতো না থাকা। যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলো টনসিল কেটে ফেলার সে আদৌ এই কাজের জন্য দক্ষ ছিল কি না? চিকিৎসক টিম লিডার সেক্ষেত্রে তার লজিস্টিক সাপোর্টগুলো কেমন ছিল? প্রতিষ্ঠান তাকে সবকিছু ঠিকমতো দিয়েছে কি না তা দেখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ডেথ রিভিউ তখনই দেখা হচ্ছে যখন রোগীর আত্মীয়রা ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ করছে। তারা দ্রুত সমাধান চাইছে। বিচারের আওতায় গেলে এই সমাধান দ্রুত আসার সম্ভাবনা। আমাদের পাশের দেশ ভারতে ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি এখনো সিভিল লতেই আছে। সেখানে সময় বেশি লাগে তাই রোগীর আত্মীয়রা আন্ডার টেবিল সমস্যার সমাধান করে ফেলছে। চিকিৎসা দেওয়া কোনো অপরাধমূলক কাজ না। এটা এখনো কেউই বুঝতে চাইছে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন কত রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং কত রোগী মৃত্যুবরণ করছে সেই হিসাবটা রাখা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ডেথ রিভিউয়ে আগ্রহ কম

আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

• হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহে ডেথ রিভিউ নিয়মিত চালু না থাকায় রোগ নির্ণয় ও পরবর্তী চিকিৎসায় বিঘ্ন হচ্ছে
• ডেথ রিভিউ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নেই কোনো উদ্যোগ হয়নি এখনো নীতিমালা
• এটি চালু হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো উন্নত ও আধুনিক হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

উন্নত দেশগুলোতে রোগীর মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে ডেথ রিভিউ কার্যকরী ভূমিকা পালন করলেও বাংলাদেশে এখনো ডেথ রিভিউ সেভাবে কাজ করে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর চর্চা খুব স্বল্প পরিসরে শুরু হলে তা মোট মৃত্যুর খুবই সামান্য অংশ। নগরীর কয়েকটি হাসপাতালে মাসিক মৃত্যুর তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা রিভিউ করলে এমন পদ্ধতি দেশের সবগুলো হাসপাতালে চালু হয়নি। তবে, এই উদ্যোগ অবিলম্বে চালু করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা সারা দেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চালু হলে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসাক্ষেত্রে অসততা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মৃত্যু, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার বিষয়গুলো কাটিয়ে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও আরো উন্নত করা সম্ভব হবে। আর এ কারণে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে ডেথ রিভিউয়ের বিষয়টি চালু হওয়া জরুরি। একজন রোগীর মৃত্যুর পর তার মৃত্যু ঠিক কী কী কারণে হয়েছে এটি খুঁজে বের হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৮ জন, মেয়ে শিশু ৭ জন, পল্লি অঞ্চলে মেয়ে শিশু ৭ জন, ছেলে শিশু ৮ জন, করাই হচ্ছে ডেথ রিভিউ। এই মাধ্যমে বোঝা যায়, কোন মৃত্যুটি স্বাভাবিক কোনটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। ডেথ রিভিউ থেকে চিকিৎসকেরা এমন কিছু তথ্য বের করতে পারেন যার ফলে পরবর্তী কোনো রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে তা কাজে দেয়। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতি হাজারে জাতীয় পর্যায়ে পুরুষের মৃত্যুর হার ছয় দশমিক আট, নারীর মৃত্যুহার ৫ দশমিক আট শতাংশ, পল্লি অঞ্চলে প্রতি হাজারে পুরুষের মৃত্যুর হার সাত, নারীর মৃত্যুহার ৫ দশমিক শূন্য আট, শহরাঞ্চলে পুরুষের মৃত্যুর হার পাঁচ দশমিক নয় ভাগ এবং নারীর মৃত্যুর হার চার দশমিক পাঁচ। এক বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৩০ জন, মেয়ে শিশু ২৪ জন। গ্রামাঞ্চলে ছেলে শিশু ৩০ জন, মেয়ে শিশু ২৫ জন। শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ২৮ জন, মেয়ে শিশু ২১ জন। এক মাসের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ২২ জন, মেয়ে শিশু ১৭ জন। পল্লি অঞ্চলে ছেলে শিশু ২৩ জন, মেয়ে শিশু ২৭ জন। শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ১৯ জন, মেয়ে শিশু ১৪ জন। ১ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি শহরাঞ্চলে ছেলে শিশু ৯ জন, মেয়ে শিশু ৭ জন। ১-৪ বছর বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে প্রতি হাজার জীবিত শিশুর বিপরীতে ছেলে ১.৪ জন ও মেয়ে ১.৪ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জীবিত জন্ম শিশুর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে ছেলে শিশু ৩৫ জন, মেয়ে শিশু ৩০ জন। প্রতি লাখ জীবিত জন্ম শিশুর বিপরীতে মাতৃমৃত্যুর হার জাতীয় পর্যায়ে ১৩৬ জন, পল্লি অঞ্চলে ১৫৭ জন এবং শহরাঞ্চলে ৫৬ জন। দেশে এখন সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। এরপরেই আছে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যকৃতের ক্যানসার, সাধারণ জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, নিউমোনিয়া, হৃদ্‌ রোগ ও ডায়াবেটিস। বিবিএস এর ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২৩: গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল’ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ১ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ মানুষ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেছে শূন্য দশমিক ছয় চার শতাংশ। যকৃতের ক্যান্সারে মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই সাত শতাংশ, অ্যাজমায় মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই সাত শতাংশ, সাধারণ জ্বরে মারা গেছে শূন্য দশমিক দুই তিন শতাংশ, উচ্চরক্তচাপে শূন্য দশমিক দুই দুই শতাংশ, নিউমোনিয়ায় শূন্য দশমিক দুই দুই শতাংশ, হৃদরোগে শূন্য দশমিক দুই এক শতাংশ, ডায়াবেটিসে শূন্য দশমিক দুই এক শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এর ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪৫১০টি মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তারা যে বিষয়গুলো দেখেছে, মৃত্যুর তারিখ, রোগীর সঙ্গীর যোগাযোগের নম্বর, রোগীর মৃত্যুর সময় তার যোগাযোগের নম্বর, ইমেইল এড্রেস ও ফ্যাক্স নম্বর, নির্দিষ্ট তালিকা নম্বর, মৃত্যুর ধরণ (প্রত্যাশিত, অপ্রত্যাশিত অথবা দূর্ঘটনা), মৃত্যুর কারণ, মৃত্যুর স্থান, গত তিন মাসে হাসপাতালে ভর্তির তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), মৃত্যুর সময়ের চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা, মৃতর বসবাসের স্থানের ধরণ (কারো বাড়িতে থাকা, নিজের বাড়িতে থাকা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা)।

পরবর্তীতে এই তথ্যগুলো যাচাই করে তথ্য সংগ্রহের পর যদি কোনো ধরনের নিপীড়ন বা অনীহার তথ্য প্রমাণ পায় তাৎক্ষণিকভাবে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিবে। পাশাপাশি এই ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে ঠিক কী কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেটিও পর্যালোচনা করেছে। বিশেষ করে, রোগীর সেবাযত্ন কেমন হওয়া উচিত ছিল তার ওষুধগুলো ঠিক ছিল কি না এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা করা এবং সেটি কোনো জার্নালে প্রকাশের মতো ঘটনা ঘটেনি। যদিও দেশে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল এককভাবে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে ডেথ রিভিউ পর্যালোচনা করে থাকে। এদের মধ্যেরাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতাল অন্যতম। এখানে ২০২৪ সালের ডেথ রিভিউ পর্যালোচনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কমিটির প্রধান হচ্ছেন ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাজিউর রহমান, দ্বিতীয় দায়িত্বে আছেন যুগ্ম-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজিমুল ইসলাম। এছাড়া প্রতি মাসে একজন করে চিকিৎসক এই ডেথ রিভিউ দলের দায়িত্বে আছেন। যারা মাসে একদিন বৈঠক করে ঐ মাসে যতজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাদের মৃত্যুর কারণ সনাক্ত করেন। বারডেমে মার্চ মাসের রিভিউ টিমে আছেন বারডেম-২ এর গাইনী অ্যান্ড অবস ইউনিট-৩ এর সহকারী অধ্যাপক ডা. নওশাবা তারান্নুম মাহতাব। মাতৃমৃত্যু নিয়ে গবেষণা রিপোর্ট আছে: ক্ষুদ্র পরিসরে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু নিয়ে ডেথ রিভিউ করার পর গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এটি তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যাটারনাল হেলথ প্রোগ্রাম। ২০২২ সালে পরিচালিত ‘ম্যাটারনাল অ্যান্ড পেরিন্যাটাল ডেথ সার্ভিলেন্স অ্যান্ড রেসপন্স (এমপিডিএসআর) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই জরিপে দেখা যায়, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণের (পিপিএইচ) কারণে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এটি মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ। এরপর একলাম্পসিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ মায়ের, ১১ দশমিক সাত শতাংশ মায়ের মৃত্যু হয়েছে দেরিতে প্রসবের কারণে, ৫ দশমিক চার শতাংশ প্রসবজনিত ট্রমায় মৃত্যু হয়েছে। প্লাজেন্টা প্রিভিয়ার (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা) কারণে মৃত্যু হয়েছে চার দশমিক সাত শতাংশ মায়ের। নির্ধারিত ২০টি জেলার মৃত্যুতালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ মাতৃমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। একলাম্পসিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, আট দশমিক দুই শতাংশ মৃত্যু হয়েছে বিলম্বিত প্রসবের কারণে। আট দশমিক নয় শতাংশ মৃত্যু রক্তশূন্যতায়, তিন দশমিক চার শতাংশ গর্ভাবস্থার শুরুতে রক্তক্ষরণ, দুই দশমিক এক শতাংশ প্রসবোত্তর সংক্রমণে, প্রসবকালীন জটিলতায় ছয় দশমিক ২ শতাংশ, ১২ দশমিক তিন শতাংশ বর্ণনা করা যায় না এমন কারণে মৃত্যু হয়েছে। এক্সপার্টদের বক্তব্য: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ট ফেইলিয়র, রিহ্যাব ও প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হারিসুল হক দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতি বুধবার আমরা ডেথ রিভিউ করি। এটা প্রতি সপ্তাহে একবার করা হয়। কয়টা মৃত্যু ঘটল। কেন মৃত্যু ঘটল। এটা জাস্টিফাই ছিল কি না? কি রোগ নিয়ে এসেছিল? কি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল? সে সমস্ত ওষুধের ডোজ ঠিক ছিল কি না সেগুলো আমরা সব ফরেনসিক করি। তবে, এগুলো জার্নালে প্রকাশ করা হয়না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর তত্ত্বকথা কাউকে আমরা জানাতে পারি না। এগুলো রোগীর গোপনীয় তথ্য। আমরা এই তথ্যগুলো জমা রাখি। এগুলো রেকর্ডরুমে জমা থাকে। শুধু যদি কোর্ট কখনো কোনো রোগীর ব্যাপারে তথ্য চায় সেটা আমরা দিতে পারি। স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের দেশে এখনো নিয়মিত পোস্টমর্টেম হয় না। পোস্ট মর্টেম করতে গেলে রোগীর আত্মীয়দের মতামত নিতে হয়। কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে বা নেগলেজেন্সির অভিযোগ উঠলে তখন পোস্টমর্টেম করা হয়। এছাড়া পোস্টমর্টেম করা সম্ভব হয় না। তবে, ইদানিং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম হচ্ছে। আগে এটুকুও হতো না। ডেথ রিভিউয়ের যদি আমরা জরিপ করতে চাই তাহলে এর জন্য সব ধরনের তথ্য নিয়ে রিভিউ করতে হবে। রোগীর কি রোগ ছিল, রোগের জন্য কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে, ওষুধ কি দেওয়া হয়েছে? কেন তার মৃত্যু হয়েছে এই বিষয়গুলো দেখা হয়। যদি দেখা যায়, নেগলেজেন্সির জন্য কোনো রোগীর মৃত্যু হয়েছে তাহলে সেটা বিচারের জন্য কোর্টে যায়। ডেথ রিভিউটা ঠিকমতো থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর লোকেরা বিচার পায়। যখন কোনো রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে অভিযোগ আসে তখন দুটি বিষয় দেখা হয়।

বিষয়টি ইথিক্যাল ছিল কি না আর তার ব্যাপারে কোনো নেগলিজেন্সি ছিল কি না? রোগী মৃত্যুর অভিযোগের ক্ষেত্রে এখন যেটা বাড়ছে, অদক্ষকর্মী, আনএথিক্যাল প্র্যাকটিস, ব্যাকআপ ঠিকমতো না থাকা। যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলো টনসিল কেটে ফেলার সে আদৌ এই কাজের জন্য দক্ষ ছিল কি না? চিকিৎসক টিম লিডার সেক্ষেত্রে তার লজিস্টিক সাপোর্টগুলো কেমন ছিল? প্রতিষ্ঠান তাকে সবকিছু ঠিকমতো দিয়েছে কি না তা দেখে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ডেথ রিভিউ তখনই দেখা হচ্ছে যখন রোগীর আত্মীয়রা ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ করছে। তারা দ্রুত সমাধান চাইছে। বিচারের আওতায় গেলে এই সমাধান দ্রুত আসার সম্ভাবনা। আমাদের পাশের দেশ ভারতে ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এটি এখনো সিভিল লতেই আছে। সেখানে সময় বেশি লাগে তাই রোগীর আত্মীয়রা আন্ডার টেবিল সমস্যার সমাধান করে ফেলছে। চিকিৎসা দেওয়া কোনো অপরাধমূলক কাজ না। এটা এখনো কেউই বুঝতে চাইছে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন কত রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং কত রোগী মৃত্যুবরণ করছে সেই হিসাবটা রাখা হয়।