০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার

 

▶যুদ্ধের মধ্যে জেলেনস্কির আয় বাড়ল তিনগুণ
▶ ইউক্রেনকে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ফ্রান্স

 

 

 

 

 

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ সামরিক বাহিনীর চালানো এসব হামলায় হয়েছে প্রাণহানিও। এদিকে রাশিয়ান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্যারিস ‘শতশত’ সাঁজোয়া যান এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বার্ষিক আয় তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

 

 

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, রাশিয়া রাতের আঁধারে ১২টি শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব ইউক্রেনে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছে, রাশিয়া আরো ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র, ৭৫টি বিমান হামলা এবং একাধিক রকেট লঞ্চার থেকে ৯৮টি হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন শনিবার বলেছেন, ইউক্রেনের আংশিক অধিকৃত দোনেৎস্ক প্রদেশে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুইজন নিহত ও আরো একজন আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের একটি অবকাঠামোতে ‘বেশ কিছু হামলা’ করা হয়েছে। যদিও এটি বিদ্যুৎ অবকাঠামো কি না তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি সেন্ট্রেনার্গো জানিয়েছে, পূর্ব খারকিভ অঞ্চলের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জিমিভ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গত সপ্তাহে রাশিয়ার গোলাবর্ষণের পর এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া গত ২২ মার্চ প্ল্যান্টটিতে হামলার পর সাত লাখ মানুষ বিদ্যুৎ পরিষেবার বাইরে চলে গেছে। মূলত সামম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে আক্রমণ বাড়িয়েছে এবং এতে করে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিও হয়েছে।

 

এদিকে গত শুক্রবার জেলেনস্কির ২০২২ সালের আয়ের ঘোষণা থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালে জেলেনস্কির বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় রিভনিয়া বা তিন লাখ ছয় হাজার ডলারে। এর আগের বছর তাঁর মোট আয় ছিল ৩৭ লাখ রিভনিয়া। সেই হিসাবে এক বছরে তার আয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

 

 

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রুশ। তখন থেকে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের সময়ে (২০২২ সালে) প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বেশ কিছু সরকারি বন্ড বিক্রি করে এবং নিজস্ব সম্পত্তির বাড়তি ভাড়া আদায় করে অতিরিক্ত আয় করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জেলেনস্কি ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়ের বেশির ভাগ সরকারি বেতন, ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদ এবং নিজস্ব সম্পত্তির ভাড়া থেকে এসেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও তার পরিবারের সদস্যরা ২০২২ সালে সরকারি বন্ড বিক্রি করে ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ইউক্রেনীয় রিভনিয়া আয় করেছেন। তবে এ সময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির স্থাবর সম্পত্তি কিংবা যানবাহন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়েনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাব প্রকাশের আহ্বান করে জেলেনস্কি বলেছেন, স্বচ্ছতা বাড়ানো ও দুর্নীতির লাগাম টানার উদ্যোগের অংশ হিসেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির কড়া শর্ত পূরণের চেষ্টায় এ উদ্যোগ নেন তিনি।

 

 

যুদ্ধকালে পশ্চিমা মিত্ররা জেলেনস্কি প্রশাসনকে অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দুর্নীতির লাগাম টানার উদ্যোগের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে জেলেনস্কি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

অন্যদিকে গত শনিবার ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, রাশিয়ান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্যারিস ‘শতশত’ সাঁজোয়া যান এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। বিস্তৃত ফ্রন্ট লাইন ধরে রাখার জন্য, ইউক্রেনের সৈন্যদের গতিশীলতার জন্য একেবারে অপরিহার্য আমাদের ভিএবি’র মতো যান ইউক্রেন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। আমরা ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাদের শত শত ভিএবি সরবরাহ সম্পর্কে কথা বলছি। এই গ্রীষ্মে ইউক্রেনে সরবরাহ শুরুর জন্য আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দূরপাল্লার অস্ত্রশস্ত্রও তৈরি করছি। ফ্রান্স বর্তমানে নতুন গ্রিফন সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি তার ভিএবি বহরকে উন্নয়ন করেছে, ভিএবি বহরের মধ্যে কিছু ৪০ বছরেরও বেশি পুরানো যা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নিচ্ছে। পুরানো মডেলগুলো ‘এখনো কার্যকর’। প্যারিস এসএএমপি/টি লঞ্চারগুলোর জন্য আরো অ্যাস্টার ৩০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে, এটি মার্কিন সরবরাহকৃত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা রাশিয়ার

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪

 

▶যুদ্ধের মধ্যে জেলেনস্কির আয় বাড়ল তিনগুণ
▶ ইউক্রেনকে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ফ্রান্স

 

 

 

 

 

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ সামরিক বাহিনীর চালানো এসব হামলায় হয়েছে প্রাণহানিও। এদিকে রাশিয়ান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্যারিস ‘শতশত’ সাঁজোয়া যান এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বার্ষিক আয় তিনগুণের বেশি বেড়েছে।

 

 

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, রাশিয়া রাতের আঁধারে ১২টি শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব ইউক্রেনে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছে, রাশিয়া আরো ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র, ৭৫টি বিমান হামলা এবং একাধিক রকেট লঞ্চার থেকে ৯৮টি হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন শনিবার বলেছেন, ইউক্রেনের আংশিক অধিকৃত দোনেৎস্ক প্রদেশে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুইজন নিহত ও আরো একজন আহত হয়েছেন। এই অঞ্চলের একটি অবকাঠামোতে ‘বেশ কিছু হামলা’ করা হয়েছে। যদিও এটি বিদ্যুৎ অবকাঠামো কি না তা উল্লেখ করা হয়নি।

 

ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি সেন্ট্রেনার্গো জানিয়েছে, পূর্ব খারকিভ অঞ্চলের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জিমিভ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গত সপ্তাহে রাশিয়ার গোলাবর্ষণের পর এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ এখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া গত ২২ মার্চ প্ল্যান্টটিতে হামলার পর সাত লাখ মানুষ বিদ্যুৎ পরিষেবার বাইরে চলে গেছে। মূলত সামম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে আক্রমণ বাড়িয়েছে এবং এতে করে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিও হয়েছে।

 

এদিকে গত শুক্রবার জেলেনস্কির ২০২২ সালের আয়ের ঘোষণা থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালে জেলেনস্কির বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ইউক্রেনীয় রিভনিয়া বা তিন লাখ ছয় হাজার ডলারে। এর আগের বছর তাঁর মোট আয় ছিল ৩৭ লাখ রিভনিয়া। সেই হিসাবে এক বছরে তার আয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

 

 

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রুশ। তখন থেকে যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের সময়ে (২০২২ সালে) প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বেশ কিছু সরকারি বন্ড বিক্রি করে এবং নিজস্ব সম্পত্তির বাড়তি ভাড়া আদায় করে অতিরিক্ত আয় করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, জেলেনস্কি ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়ের বেশির ভাগ সরকারি বেতন, ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদ এবং নিজস্ব সম্পত্তির ভাড়া থেকে এসেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও তার পরিবারের সদস্যরা ২০২২ সালে সরকারি বন্ড বিক্রি করে ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ইউক্রেনীয় রিভনিয়া আয় করেছেন। তবে এ সময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির স্থাবর সম্পত্তি কিংবা যানবাহন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়েনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাব প্রকাশের আহ্বান করে জেলেনস্কি বলেছেন, স্বচ্ছতা বাড়ানো ও দুর্নীতির লাগাম টানার উদ্যোগের অংশ হিসেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির কড়া শর্ত পূরণের চেষ্টায় এ উদ্যোগ নেন তিনি।

 

 

যুদ্ধকালে পশ্চিমা মিত্ররা জেলেনস্কি প্রশাসনকে অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দুর্নীতির লাগাম টানার উদ্যোগের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে জেলেনস্কি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

অন্যদিকে গত শনিবার ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, রাশিয়ান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্যারিস ‘শতশত’ সাঁজোয়া যান এবং বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। বিস্তৃত ফ্রন্ট লাইন ধরে রাখার জন্য, ইউক্রেনের সৈন্যদের গতিশীলতার জন্য একেবারে অপরিহার্য আমাদের ভিএবি’র মতো যান ইউক্রেন সেনাবাহিনীর প্রয়োজন। আমরা ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাদের শত শত ভিএবি সরবরাহ সম্পর্কে কথা বলছি। এই গ্রীষ্মে ইউক্রেনে সরবরাহ শুরুর জন্য আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে দূরপাল্লার অস্ত্রশস্ত্রও তৈরি করছি। ফ্রান্স বর্তমানে নতুন গ্রিফন সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি তার ভিএবি বহরকে উন্নয়ন করেছে, ভিএবি বহরের মধ্যে কিছু ৪০ বছরেরও বেশি পুরানো যা পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নিচ্ছে। পুরানো মডেলগুলো ‘এখনো কার্যকর’। প্যারিস এসএএমপি/টি লঞ্চারগুলোর জন্য আরো অ্যাস্টার ৩০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে, এটি মার্কিন সরবরাহকৃত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো।