০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

◉ নিহত ৭, আহত ৭৩৬ ও নিখোঁজ ৭৭
◉ ১০১ ঝাঁকুনি খেলো তাইওয়ান
◉ ফিলিপাইনে সুনামি সতর্কতা
◉ তাইওয়ান নিয়ে কথা হয়েছে বাইডেন-শির
◉ তাইওয়ানের ঘুরছে চীনের সামরিক বিমান

 

 

 

তাইওয়ানের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজন হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৭১১ জন। ৭৭ জন এখনও আটকা পড়ে আছেন। এদিকে প্রতিবেশী ফিলিপাইন সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। তাইওয়ানকে চীন, জাপান ও প্যারাগুয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব সমর্থন প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
দেশটির জাতীয় ফায়ার এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় সাত দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটির ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। ভূমিকম্পের পর জাপানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন শহরের ১৮ কিলোমিটার দূরে। গতকাল সকালের ওই ভূমিকম্পে শহরটির বেশ কিছু ভবন আংশিক ধসে গেছে এবং ঝুঁকে পড়তে দেখা গেছে।

 

এদিকে গতকাল সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে তাইওয়ানে গত ২৫ বছরে সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের বরাতে জানিয়েছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকাল তিনটা পর্যন্ত মোট ১০১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে তাইওয়ানে। মূল ভূমিকম্পের প্রভাবে পরবর্তী যে ঝাঁকুনি বা মৃদু কম্পন অনুভূত হয় তাকে আফটারশক বলা হয়। তাইওয়ানের এই ভূমিকম্পে এই পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন ৭ শতাধিক, নিখোঁজ আছেন ৭৭ জন।

 

ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো। চীন, জাপান ও প্যারাগুয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ানকে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব সমর্থন প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাইইং-ওয়েন এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এই সময়ে যখন ঘন ঘন আফটারশক হচ্ছে, সরকারকে অবশ্যই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় লোকদের সময়মতো সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে লোকেরা স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপদ বোধ করতে পারে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

 

প্রতিবেশী তাইওয়ানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশটির ভূমিকম্প ইনস্টিটিউটের পরামর্শে বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার জন্য জোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এলাকাগুলো হলো বাতানিস, কাগাইয়ান, ইলোকোস নর্তে এবং ইসাবেলা।

 

এদিকে গত মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গত নভেম্বরের পর এটাই তাদের মধ্যে সরাসরি কথা বলার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই নেতার মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলাপ হয়েছে। তবে গতকালের ফোনালাপে বিস্তারিত বিবরণ যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। কেননা সি চিন পিং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রেড লাইন অতিক্রম না করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ২১ সদস্যের এশিয়াপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন সি চিন পিং। এ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে বাইডেনের সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। তাইওয়ান ইস্যু ও প্রযুক্তির উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে থাকার পরও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে ওই সময় প্রশংসা করেছিলেন দুই নেতা।

 

গতকালের ফোনালাপের পর এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে অনানুষ্ঠানিক ও গঠনমূলক আলাপ করেছেন। এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় ছিল, বিরোধের বিষয়ও ছিল। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, ফোনালাপে বাইডনকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দুই দেশের উচিত বছরের জন্য ‘সংঘর্ষ নয়, বিরোধিতা নয়’Ñ এমন একটি ভিত্তিমূলক নীতি গ্রহণ করা। সেই সঙ্গে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ঝামেলাকে উসকে না দেওয়া, সীমা অতিক্রম না করা এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শি জিনপিং।
এদিকে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের ৩০টির মতো সামরিক বিমানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপটির চারপাশে চীনের ৩০টি সামরিক বিমানকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। চলতি বছরে তাইওয়ানের আকাশে এটাই একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চীনা সামরিক বিমানের উপস্থিতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন দ্বীপ মনে করলেও চীন বরাবরই একে তাদের মূল ভূখণ্ডের অংশ বলেই মনে করে। প্রায়ই তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে চীনা সামরিক বিমান। যদিও সরাসরি কখনও কোনো সামরিক অভিযানে তারা অংশ নেয়নি। কিন্তু এটা তাইওয়ানের জন্য বড় ধরনের একটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০টি চীনা সামরিক বিমান দ্বীপটির তথাকথিত এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (এডিআইজেড) প্রবেশ করেছে। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তাদের টহল বিমান, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে তাইওয়ানের আকাশে ৩৬টি চীনা বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চলতি বছর এটাই একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। চীন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধবিমান এবং নৌযান মোতায়েন করছে এবং দ্বীপের ওপর দিয়ে বেলুন উড়ানোর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ানে শক্তিশালী ভূমিকম্প

আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

◉ নিহত ৭, আহত ৭৩৬ ও নিখোঁজ ৭৭
◉ ১০১ ঝাঁকুনি খেলো তাইওয়ান
◉ ফিলিপাইনে সুনামি সতর্কতা
◉ তাইওয়ান নিয়ে কথা হয়েছে বাইডেন-শির
◉ তাইওয়ানের ঘুরছে চীনের সামরিক বিমান

 

 

 

তাইওয়ানের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজন হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৭১১ জন। ৭৭ জন এখনও আটকা পড়ে আছেন। এদিকে প্রতিবেশী ফিলিপাইন সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। তাইওয়ানকে চীন, জাপান ও প্যারাগুয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব সমর্থন প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
দেশটির জাতীয় ফায়ার এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় সাত দশমিক চার মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটির ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। ভূমিকম্পের পর জাপানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন শহরের ১৮ কিলোমিটার দূরে। গতকাল সকালের ওই ভূমিকম্পে শহরটির বেশ কিছু ভবন আংশিক ধসে গেছে এবং ঝুঁকে পড়তে দেখা গেছে।

 

এদিকে গতকাল সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে তাইওয়ানে গত ২৫ বছরে সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের বরাতে জানিয়েছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকাল তিনটা পর্যন্ত মোট ১০১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে তাইওয়ানে। মূল ভূমিকম্পের প্রভাবে পরবর্তী যে ঝাঁকুনি বা মৃদু কম্পন অনুভূত হয় তাকে আফটারশক বলা হয়। তাইওয়ানের এই ভূমিকম্পে এই পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন ৭ শতাধিক, নিখোঁজ আছেন ৭৭ জন।

 

ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো। চীন, জাপান ও প্যারাগুয়ে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ানকে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব সমর্থন প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাইইং-ওয়েন এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেছেন, এই সময়ে যখন ঘন ঘন আফটারশক হচ্ছে, সরকারকে অবশ্যই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় লোকদের সময়মতো সহায়তা প্রদান করতে হবে, যাতে লোকেরা স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপদ বোধ করতে পারে। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

 

প্রতিবেশী তাইওয়ানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশটির ভূমিকম্প ইনস্টিটিউটের পরামর্শে বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার জন্য জোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এলাকাগুলো হলো বাতানিস, কাগাইয়ান, ইলোকোস নর্তে এবং ইসাবেলা।

 

এদিকে গত মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গত নভেম্বরের পর এটাই তাদের মধ্যে সরাসরি কথা বলার ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই নেতার মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলাপ হয়েছে। তবে গতকালের ফোনালাপে বিস্তারিত বিবরণ যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। কেননা সি চিন পিং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রেড লাইন অতিক্রম না করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ২১ সদস্যের এশিয়াপ্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন সি চিন পিং। এ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁর সঙ্গে বাইডেনের সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। তাইওয়ান ইস্যু ও প্রযুক্তির উন্নয়নের মতো বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে থাকার পরও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে ওই সময় প্রশংসা করেছিলেন দুই নেতা।

 

গতকালের ফোনালাপের পর এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে অনানুষ্ঠানিক ও গঠনমূলক আলাপ করেছেন। এর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় ছিল, বিরোধের বিষয়ও ছিল। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, ফোনালাপে বাইডনকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দুই দেশের উচিত বছরের জন্য ‘সংঘর্ষ নয়, বিরোধিতা নয়’Ñ এমন একটি ভিত্তিমূলক নীতি গ্রহণ করা। সেই সঙ্গে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ঝামেলাকে উসকে না দেওয়া, সীমা অতিক্রম না করা এবং চীন-মার্কিন সম্পর্কে সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শি জিনপিং।
এদিকে তাইওয়ানের চারপাশে চীনের ৩০টির মতো সামরিক বিমানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপটির চারপাশে চীনের ৩০টি সামরিক বিমানকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। চলতি বছরে তাইওয়ানের আকাশে এটাই একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চীনা সামরিক বিমানের উপস্থিতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন দ্বীপ মনে করলেও চীন বরাবরই একে তাদের মূল ভূখণ্ডের অংশ বলেই মনে করে। প্রায়ই তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে চীনা সামরিক বিমান। যদিও সরাসরি কখনও কোনো সামরিক অভিযানে তারা অংশ নেয়নি। কিন্তু এটা তাইওয়ানের জন্য বড় ধরনের একটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০টি চীনা সামরিক বিমান দ্বীপটির তথাকথিত এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (এডিআইজেড) প্রবেশ করেছে। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তাদের টহল বিমান, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে গত মাসে তাইওয়ানের আকাশে ৩৬টি চীনা বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। চলতি বছর এটাই একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। চীন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধবিমান এবং নৌযান মোতায়েন করছে এবং দ্বীপের ওপর দিয়ে বেলুন উড়ানোর ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।