০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু

► বাস ও লঞ্চে আগাম ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে
► রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু
► বাসের অগ্রিম টিকিটের চাহিদা বাড়ছে

 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঈদ সার্ভিস শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় এই যাত্রা। এরই মধ্যে বিশেষ ট্রেনে ঢাকা ছেড়েছেন অনেকে। ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে প্রথম বিশেষ ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) সকাল ৬টায় ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যায়। এছাড়া শুরু হয়েছে রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি। ভোগান্তি এড়াতে বাস ও লঞ্চে আগেভাগে ঢাকা ছাড়া শুরু করেছেন অনেকে। এদিকে শুরুতে সাড়া না মিললেও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ার পর বাসের অগ্রিম টিকিটেরও চাহিদা বেড়েছে।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিনা টিকিটে যাত্রা বন্ধ করতে দুই ধাপে চেক করা হচ্ছে। টিকিট স্ক্যান করে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই যাত্রীদের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। স্টেশনে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রথম অস্থায়ী গেট। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ের কর্মীরা। পরে প্লাটফর্মের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের আগেও যাত্রীদের থেকে টিকিট দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের কেউ টিকিট প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছে কেউ আবার মোবাইলেই টিকিট দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন।

প্রথমদিনের পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রবেশের জন্য ভিড় না থাকলে আশা করা যায় ঈদের শেষ ট্রেন পর্যন্ত সব কিছু শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে। আশা করি, যাত্রীদের জন্য একটি সুন্দর ঈদযাত্রা আমরা উপহার দিতে পারবো।

 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফিরতি যাত্রার টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হয় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট এবং দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট। এদিন আন্তঃনগর ট্রেনের ১৩ এপ্রিলের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হয়। ১৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে আজ বৃহস্পতিবার; ১৫ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৫ এপ্রিল; ১৬ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৬ এপ্রিল; ১৭ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৭ এপ্রিল; ১৮ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৮ এপ্রিল এবং ১৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৯ এপ্রিল। এছাড়া যাত্রীসাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।

এদিকে ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। গতকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, শুরুতে ট্রেনের টিকিটের জন্য বাসের টিকিটের চাহিদা ছিল না। তবে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ায় বাসরে অগ্রিম টিকিট নেওয়া শুরু করেছেন অনেকে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসের অগ্রমি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়াও ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ও যাত্রাপথে ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে টার্মিনালে আসছেন।

এছাড়া সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও যাত্রীদের লক্ষণীয় উপস্থিতি দেখা গেছে এদিন। লঞ্চ শ্রমিকরা জানান, সদরঘাটে যাত্রী বাড়তে শুরু করেছে। স¦াভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়ছেন তারা। সময়ের সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

► বাস ও লঞ্চে আগাম ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে
► রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু
► বাসের অগ্রিম টিকিটের চাহিদা বাড়ছে

 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঈদ সার্ভিস শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় এই যাত্রা। এরই মধ্যে বিশেষ ট্রেনে ঢাকা ছেড়েছেন অনেকে। ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে প্রথম বিশেষ ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) সকাল ৬টায় ঢাকা স্টেশন ছেড়ে যায়। এছাড়া শুরু হয়েছে রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি। ভোগান্তি এড়াতে বাস ও লঞ্চে আগেভাগে ঢাকা ছাড়া শুরু করেছেন অনেকে। এদিকে শুরুতে সাড়া না মিললেও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ার পর বাসের অগ্রিম টিকিটেরও চাহিদা বেড়েছে।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিনা টিকিটে যাত্রা বন্ধ করতে দুই ধাপে চেক করা হচ্ছে। টিকিট স্ক্যান করে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই যাত্রীদের ভেতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। স্টেশনে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রথম অস্থায়ী গেট। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ের কর্মীরা। পরে প্লাটফর্মের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের আগেও যাত্রীদের থেকে টিকিট দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের কেউ টিকিট প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছে কেউ আবার মোবাইলেই টিকিট দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন।

প্রথমদিনের পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিনা টিকিটের যাত্রীদের প্রবেশের জন্য ভিড় না থাকলে আশা করা যায় ঈদের শেষ ট্রেন পর্যন্ত সব কিছু শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে। আশা করি, যাত্রীদের জন্য একটি সুন্দর ঈদযাত্রা আমরা উপহার দিতে পারবো।

 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফিরতি যাত্রার টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হয় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট এবং দুপুর ২টায় বিক্রি শুরু হয় পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট। এদিন আন্তঃনগর ট্রেনের ১৩ এপ্রিলের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হয়। ১৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে আজ বৃহস্পতিবার; ১৫ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৫ এপ্রিল; ১৬ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৬ এপ্রিল; ১৭ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৭ এপ্রিল; ১৮ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৮ এপ্রিল এবং ১৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৯ এপ্রিল। এছাড়া যাত্রীসাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।

এদিকে ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। গতকাল রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, শুরুতে ট্রেনের টিকিটের জন্য বাসের টিকিটের চাহিদা ছিল না। তবে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ায় বাসরে অগ্রিম টিকিট নেওয়া শুরু করেছেন অনেকে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসের অগ্রমি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়াও ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ও যাত্রাপথে ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে টার্মিনালে আসছেন।

এছাড়া সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও যাত্রীদের লক্ষণীয় উপস্থিতি দেখা গেছে এদিন। লঞ্চ শ্রমিকরা জানান, সদরঘাটে যাত্রী বাড়তে শুরু করেছে। স¦াভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়ছেন তারা। সময়ের সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলেও প্রত্যাশা তাদের।