০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাগরিকত্ব পেতে ৪৫ দিনে কেউই আবেদন করেনি

পাঁচ বছর টালবাহানার পর চলতি বছরের ১১ মার্চ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিধিনিয়ম তৈরির পর তা চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেদিন থেকেই নাগরিকত্ব পেতে অনলাইন আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থাৎ গত ৪৫ দিনে সারা দেশে একজনও ওই আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করেননি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, বাংলা কারও কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গদি উল্টানোর সময় এসেছে। অপরদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা ভালো পরিবেশে মসৃণভাবে চলছে এবং ভারত কখনোই মাথা নত করবে না। অন্যদিকে মোদির মন্তব্যের জবাবে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (মিম) প্রধান মাওলানা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, মোদি সরকারেরই তথ্য অনুসারে, মুসলমানদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রজনন হার কমে গেছে। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি কনডম (জন্মনিরোধক) ব্যবহার করে এবং এটা বলতে আমি লজ্জা বোধ করি না। এদিকে পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, সবাই বলে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি বলি বিজেপি একদমই মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা দেখান কোথায় বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে?

 

 

 

 

সিএএ আইন প্রণয়নের পর সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। ধর্মীয় কারণে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও বিজেপি বলেছিল, এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কাড়ার নয়। ওই সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত মন্তব্য করেছিলেন, এই আইনের কী দরকার, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

 

 

 

 

তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বিভাগের নাগরিকত্ব শাখার যুগ্ম সচিব রা মদয়াল মীনা এই কথা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও আইন গবেষক এবং তথ্য জানার অধিকারকর্মী বিশ্বনাথ গোস্বামীর দাখিল করা প্রশ্নের উত্তরে গত এপ্রিল তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ওই আইনে একজনও নাগরিকত্ব পেতে সরকারের কাছে আবেদন করেননি। আইনি ভাষায় উত্তর দিয়ে ওই যুগ্ম সচিব চিঠিতে লেখেন, ‘এই বিষয়ে তিনি নিজে থেকে কোনো তথ্য তৈরি বা সংকলন করতে পারেন না।’ যার অর্থ, বিজ্ঞপ্তি জারির ৪৫ দিন কেটে গেলেও আবেদনের সংখ্যা শূন্য।

 

 

 

গতকাল বিশ্বনাথ গোস্বামী বলেন, আমি অবাক দুটি কারণে। প্রথম কারণ, উত্তর এসেছে বলে। কারণ, এ ধরনের বিতর্কিত কোনো প্রশ্নের উত্তর সরকার সাধারণত দিতে পছন্দ করে না। নানাভাবে এড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ, এখনো পর্যন্ত একজনও আবেদন জানাননি বলে। অথচ লোকসভা ভোটের মুখে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে বিজেপি আইনটি বলবৎ করল। গোটা বিষয়টাই যে ভোটকেন্দ্রিক, তা পরিষ্কার। সিএএ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মতুয়া ও রাজবংশীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে বিজেপি শুরু থেকেই রাজনীতি করে আসছে। শর্তহীন নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েও আবেদনপত্রে একগাদা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আবেদন করে শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হবে কি না। বিদেশি চিহ্নিত হয়ে অনিশ্চয়তার জীবন কাটাতে হবে কি না। সম্ভবত সেই কারণেই এখনো কেউ সিএএ আইনে নাগরিকত্ব পেতে উৎসাহিত হচ্ছেন না।

 

 

মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও বলেছিলেন, তিনি আবেদন করবেন। ভোটে এ নিয়ে বিজেপি তাদের মতো করে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সরকারের উত্তর থেকে স্পষ্ট, একজনও আবেদন করেননি। মন্ত্রী শান্তনুও নন।’

 

 

 

এদিকে গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের জলিবাগান ও দীয়ার রানাঘাটের বগুলার কলেজ মাঠে বিজেপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, মমতার আমলে বাংলায় উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। ওরা কেন্দ্রের দেওয়া আবাস যোজনার অর্থ নিজেদের নামে চালিয়েছে। জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিয়েছে। বাংলায় দুর্নীতির আর কাটমানির রাজত্ব চালু করেছে। অথচ এই বাংলায় মোদি সরকার ছয় কোটি মানুষকে বিনা মূল্যে রেশন দিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরও এই রেশন অব্যাহত থাকবে। এই বাংলায় মমতার শাসনে মানুষ সুখে থাকতে পারেনি। আমরা সিএএ, এনআরসি ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল তৎপর।

 

 

 

 

অপরদিকে মালদহের সুজাপুরে তৃণমূল আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচার সভায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা কারও কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না। বাংলাকেও কেউ অবদমিত করে রাখতে পারে না। বাংলা নিজস্ব স্বকীয়তায় জ্বলছে। তাই এবার মোদির গদির উল্টানোর সময় এসেছে। আপনারা (জণগণ) সংঘবদ্ধ হয়ে মোদির গদি উল্টিয়ে দিন। বাংলা তার নিজের দাবি ছিনিয়ে আনবে। মোদির গদি উল্টে দেবে। এনআরসি, সিএএ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এই বাংলায় কার্যকর হবে না। কার্যকর হতে দেব না। মোদির বিভেদের রাজনীতি এবার এই বাংলার এবার বন্ধ করে দেবে। আমরা চাকরি দিই, বিজেপি চাকরি খায়। এবার তার জবাব দেওয়া হবে। বিজেপি দেশটাকে ভেঙে দেবে, বাংলার সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ঐক্যকে স্তব্ধ করে দেবে। তাই এবার সময় এসেছে মোদি হটানোর। বাংলাকে বাঁচানোর। তাই মমতা সভামঞ্চ থেকে ডাক দেন, ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’।

 

 

 

অপরদিকে আহমেদাবাদে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারণা অংশ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা ভালো পরিবেশে মসৃণভাবে চলছে এবং ভারত কখনোই মাথা নত করবে না। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠেছে ভারত এবং তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারত এখন আর দুর্বল কোনো রাষ্ট্র নয়। সামরিক দিক থেকেও ভারত একটি শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। ভারত ও চীনের মধ্যে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা মসৃণ এবং ভালো পরিবেশে চলছে। বুঝতে পারছি, আমাদের আলোচনার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, ভারত কোথাও মাথা নত করেনি, কখনো মাথা নত করবেও না।

 

 

অন্যদিকে কংগ্রেসের সম্পদ বণ্টনের ইশতেহারের প্রতিক্রিয়ায় মুসলমানদের ভারতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও বেশি সন্তান গ্রহণকারী বলে খোঁচা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রোববার এক নির্বাচনী সভায় মোদির মন্তব্যের জবাবে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (মিম) প্রধান মাওলানা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র নিশ্চয়তা হলো দলিত ও মুসলমানদের ঘৃণা করা। কেন এই ভয় সৃষ্টি করছেন যে, মুসলমানরা বেশি সন্তান জন্ম দেয়? মোদি সরকারেরই তথ্য অনুসারে, মুসলমানদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রজনন হার কমে গেছে। মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি কনডম (জন্মনিরোধক) ব্যবহার করে এবং এটা বলতে আমি লজ্জা বোধ করি না। মোদি হিন্দুদের মধ্যে ভয় জাগিয়ে তুলছেন যে, মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ে পরিণত হবে। আর কত দিন আপনারা (বিজেপি) মুসলমানদের নিয়ে ভয় তৈরি করবেন? আমাদের ধর্ম আলাদা কিন্তু আমরা এই দেশেরই। এখনো পর্যন্ত বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রী মোদি কেউই ওয়াইসির এ মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যকার বাগ্যুদ্ধে শামিল হলেন।

 

 

 

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দরজিৎ সিংয়ের সমর্থনে রোড শো শেষ করে আসানসোলের একটি হোটেলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, এটা সনাতনী দেশ। সবাই গর্ব করে বলে আমি সনাতনী। আমি জন্মেছি সনাতনী মরবোও সনাতনী। সবাই বলে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি বলি বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা দেখান কোথায় বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে? মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন টুপি পরে ঘোরে, আমি তাদের সম্মান করি। তারা গর্ব করে বলে আমি মুসলিম। আমরা কপালে টিকা লাগালেই কি জিহাদি হয়ে গেলাম। কেন? আমাদের প্রার্থী একজন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা যদি ভেদাভেদ বিশ্বাস করতাম তাহলে তিনি আমাদের প্রার্থী হতে পারতেন? আর সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষরা এসবে বিশ্বাস করে না। আমরা সবাই এক। মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি, আপনারা বিশ্বাস করেন যে বিজেপি আপনাদের পছন্দ করে না, এটা ভুল। বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আমি তার জিম্মা নিয়ে বলছি।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

নাগরিকত্ব পেতে ৪৫ দিনে কেউই আবেদন করেনি

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

পাঁচ বছর টালবাহানার পর চলতি বছরের ১১ মার্চ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিধিনিয়ম তৈরির পর তা চালুর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেদিন থেকেই নাগরিকত্ব পেতে অনলাইন আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত অর্থাৎ গত ৪৫ দিনে সারা দেশে একজনও ওই আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করেননি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, বাংলা কারও কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গদি উল্টানোর সময় এসেছে। অপরদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা ভালো পরিবেশে মসৃণভাবে চলছে এবং ভারত কখনোই মাথা নত করবে না। অন্যদিকে মোদির মন্তব্যের জবাবে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (মিম) প্রধান মাওলানা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, মোদি সরকারেরই তথ্য অনুসারে, মুসলমানদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রজনন হার কমে গেছে। মুসলমানরাই সবচেয়ে বেশি কনডম (জন্মনিরোধক) ব্যবহার করে এবং এটা বলতে আমি লজ্জা বোধ করি না। এদিকে পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, সবাই বলে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি বলি বিজেপি একদমই মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা দেখান কোথায় বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে?

 

 

 

 

সিএএ আইন প্রণয়নের পর সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। ধর্মীয় কারণে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছিল ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। যদিও বিজেপি বলেছিল, এই আইনে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কাড়ার নয়। ওই সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত মন্তব্য করেছিলেন, এই আইনের কী দরকার, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

 

 

 

 

তথ্য জানার অধিকার আইনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বিভাগের নাগরিকত্ব শাখার যুগ্ম সচিব রা মদয়াল মীনা এই কথা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও আইন গবেষক এবং তথ্য জানার অধিকারকর্মী বিশ্বনাথ গোস্বামীর দাখিল করা প্রশ্নের উত্তরে গত এপ্রিল তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ওই আইনে একজনও নাগরিকত্ব পেতে সরকারের কাছে আবেদন করেননি। আইনি ভাষায় উত্তর দিয়ে ওই যুগ্ম সচিব চিঠিতে লেখেন, ‘এই বিষয়ে তিনি নিজে থেকে কোনো তথ্য তৈরি বা সংকলন করতে পারেন না।’ যার অর্থ, বিজ্ঞপ্তি জারির ৪৫ দিন কেটে গেলেও আবেদনের সংখ্যা শূন্য।

 

 

 

গতকাল বিশ্বনাথ গোস্বামী বলেন, আমি অবাক দুটি কারণে। প্রথম কারণ, উত্তর এসেছে বলে। কারণ, এ ধরনের বিতর্কিত কোনো প্রশ্নের উত্তর সরকার সাধারণত দিতে পছন্দ করে না। নানাভাবে এড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় কারণ, এখনো পর্যন্ত একজনও আবেদন জানাননি বলে। অথচ লোকসভা ভোটের মুখে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে বিজেপি আইনটি বলবৎ করল। গোটা বিষয়টাই যে ভোটকেন্দ্রিক, তা পরিষ্কার। সিএএ নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোরগোল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মতুয়া ও রাজবংশীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে বিজেপি শুরু থেকেই রাজনীতি করে আসছে। শর্তহীন নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েও আবেদনপত্রে একগাদা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আবেদন করে শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হবে কি না। বিদেশি চিহ্নিত হয়ে অনিশ্চয়তার জীবন কাটাতে হবে কি না। সম্ভবত সেই কারণেই এখনো কেউ সিএএ আইনে নাগরিকত্ব পেতে উৎসাহিত হচ্ছেন না।

 

 

মতুয়া সমাজকে আশ্বস্ত করতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও বলেছিলেন, তিনি আবেদন করবেন। ভোটে এ নিয়ে বিজেপি তাদের মতো করে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সরকারের উত্তর থেকে স্পষ্ট, একজনও আবেদন করেননি। মন্ত্রী শান্তনুও নন।’

 

 

 

এদিকে গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুরের জলিবাগান ও দীয়ার রানাঘাটের বগুলার কলেজ মাঠে বিজেপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, মমতার আমলে বাংলায় উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। ওরা কেন্দ্রের দেওয়া আবাস যোজনার অর্থ নিজেদের নামে চালিয়েছে। জঙ্গিদের প্রশ্রয় দিয়েছে। বাংলায় দুর্নীতির আর কাটমানির রাজত্ব চালু করেছে। অথচ এই বাংলায় মোদি সরকার ছয় কোটি মানুষকে বিনা মূল্যে রেশন দিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরও এই রেশন অব্যাহত থাকবে। এই বাংলায় মমতার শাসনে মানুষ সুখে থাকতে পারেনি। আমরা সিএএ, এনআরসি ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর এর বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও তৃণমূল তৎপর।

 

 

 

 

অপরদিকে মালদহের সুজাপুরে তৃণমূল আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচার সভায় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা কারও কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না। বাংলাকেও কেউ অবদমিত করে রাখতে পারে না। বাংলা নিজস্ব স্বকীয়তায় জ্বলছে। তাই এবার মোদির গদির উল্টানোর সময় এসেছে। আপনারা (জণগণ) সংঘবদ্ধ হয়ে মোদির গদি উল্টিয়ে দিন। বাংলা তার নিজের দাবি ছিনিয়ে আনবে। মোদির গদি উল্টে দেবে। এনআরসি, সিএএ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এই বাংলায় কার্যকর হবে না। কার্যকর হতে দেব না। মোদির বিভেদের রাজনীতি এবার এই বাংলার এবার বন্ধ করে দেবে। আমরা চাকরি দিই, বিজেপি চাকরি খায়। এবার তার জবাব দেওয়া হবে। বিজেপি দেশটাকে ভেঙে দেবে, বাংলার সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী ঐক্যকে স্তব্ধ করে দেবে। তাই এবার সময় এসেছে মোদি হটানোর। বাংলাকে বাঁচানোর। তাই মমতা সভামঞ্চ থেকে ডাক দেন, ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’।

 

 

 

অপরদিকে আহমেদাবাদে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারণা অংশ নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে আলোচনা ভালো পরিবেশে মসৃণভাবে চলছে এবং ভারত কখনোই মাথা নত করবে না। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠেছে ভারত এবং তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারত এখন আর দুর্বল কোনো রাষ্ট্র নয়। সামরিক দিক থেকেও ভারত একটি শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। ভারত ও চীনের মধ্যে যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা মসৃণ এবং ভালো পরিবেশে চলছে। বুঝতে পারছি, আমাদের আলোচনার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, ভারত কোথাও মাথা নত করেনি, কখনো মাথা নত করবেও না।

 

 

অন্যদিকে কংগ্রেসের সম্পদ বণ্টনের ইশতেহারের প্রতিক্রিয়ায় মুসলমানদের ভারতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও বেশি সন্তান গ্রহণকারী বলে খোঁচা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রোববার এক নির্বাচনী সভায় মোদির মন্তব্যের জবাবে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (মিম) প্রধান মাওলানা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র নিশ্চয়তা হলো দলিত ও মুসলমানদের ঘৃণা করা। কেন এই ভয় সৃষ্টি করছেন যে, মুসলমানরা বেশি সন্তান জন্ম দেয়? মোদি সরকারেরই তথ্য অনুসারে, মুসলমানদের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রজনন হার কমে গেছে। মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি কনডম (জন্মনিরোধক) ব্যবহার করে এবং এটা বলতে আমি লজ্জা বোধ করি না। মোদি হিন্দুদের মধ্যে ভয় জাগিয়ে তুলছেন যে, মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ে পরিণত হবে। আর কত দিন আপনারা (বিজেপি) মুসলমানদের নিয়ে ভয় তৈরি করবেন? আমাদের ধর্ম আলাদা কিন্তু আমরা এই দেশেরই। এখনো পর্যন্ত বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রী মোদি কেউই ওয়াইসির এ মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের মধ্যকার বাগ্যুদ্ধে শামিল হলেন।

 

 

 

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দরজিৎ সিংয়ের সমর্থনে রোড শো শেষ করে আসানসোলের একটি হোটেলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, এটা সনাতনী দেশ। সবাই গর্ব করে বলে আমি সনাতনী। আমি জন্মেছি সনাতনী মরবোও সনাতনী। সবাই বলে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমি বলি বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আপনারা দেখান কোথায় বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে? মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন টুপি পরে ঘোরে, আমি তাদের সম্মান করি। তারা গর্ব করে বলে আমি মুসলিম। আমরা কপালে টিকা লাগালেই কি জিহাদি হয়ে গেলাম। কেন? আমাদের প্রার্থী একজন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা যদি ভেদাভেদ বিশ্বাস করতাম তাহলে তিনি আমাদের প্রার্থী হতে পারতেন? আর সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষরা এসবে বিশ্বাস করে না। আমরা সবাই এক। মুসলমানদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি, আপনারা বিশ্বাস করেন যে বিজেপি আপনাদের পছন্দ করে না, এটা ভুল। বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়। আমি তার জিম্মা নিয়ে বলছি।