০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সর্বজনীন পেনশন তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করতে জোর তৎপরতা

◉স্কিম কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন
◉স্কিম রেজিস্ট্রেশনে সারা দেশে বুথ স্থাপন
◉এ পর্যন্ত পেনশনের আওতায় এক লাখ মানুষ
◉সরকারি ফান্ডে জমা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা
◉নিবন্ধনে এগিয়ে দরিদ্ররা, পিছিয়ে প্রবাসীরা
◉চলতি মাসে নিবন্ধন ৬০ হাজার

দেশের নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে (স্কিম) তৃণমূলের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতিবাচক-নেতিবাচক আলোচনার মধ্য দিয়েই সারা দেশে স্কিম বাস্তবায়নে চলছে জোর তৎপরতা। এরই মধ্যে এক লাখ মানুষ নিবন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন। স্কিম চালু হওয়ার সাড়ে নয় মাসে এমন মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে। যার মাধ্যমে সরকারি ফান্ডে জমা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা।

 

 

 

গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পেনশন স্কিমে যুক্ত ছিলেন ৫৪ হাজার ৬৪৭ জন ব্যক্তি। এর মাত্র ১৩ দিনের মাথায় যা গতকাল লাখ ছাড়িয়ে গেল। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো রাজশাহীতে পেনশন মেলা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ৭ বিভাগে বিভাগীয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। পেনশন কার্যক্রমে ইউনিয়ন ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে নিবন্ধন সংখ্যার মাইলফলক এক লাখ অর্জিত হয়েছে। সবার সহযোগিতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সর্বজনীন পেনশনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এর আগে নেত্রকোনা, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম রেজিস্ট্রেশন বুথ উদ্ধোধন করা হয়েছে। চার ক্যাটাগরিতে এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকরিজীবী, স্বকর্ম ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মী এবং স্বল্প আয়ের ব্যক্তিরা। এই কার্যক্রমের আওতায় আসতে পেরে খুশি উপকারভোগীরা। তারা বলছেন, বৃদ্ধ বয়সে আর কাজ করার সক্ষমতা থাকে না। ফলে অনেক চিন্তা করতে হয়। সরকারি পেনশন স্কিমের ফলে শেষ বয়সে সরকারিভাবে পেনশন পাবেন যা অত্যন্ত আনন্দের তাদের জন্য।

 

 

সূত্রমতে, বর্তমানে চালু থাকা চার স্কিমে চাঁদা পরিশোধকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জন। আর তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নিবন্ধন সম্পন্ন করে সব থেকে বেশি চাঁদা জমা দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। তাদের জন্য চালু করা প্রগতি স্কিমে এরই মধ্যে চাঁদা জমা পড়েছে ২৪ কোটি ২০ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশনে এখন পর্যন্ত যে চাঁদা জমা পড়েছে তার ৪৬ দশমিক ২০ শতাংশ জমা দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। এ স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮৪ জন।

 

 

 

অপরদিকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সব থেকে বেশি দরিদ্র মানুষ, যাদের বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। এ শ্রেণির মানুষের জন্য চালু হয়েছে সমতা স্কিম। এ স্কিমে চাঁদা দিয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৫৫ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৭ কোটি ২৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধনকারীদের ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ দরিদ্র মানুষ। এ স্কিমের মাসিক চাঁদার হার ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্কিম গ্রহণকারী চাঁদা দেবেন ৫০০ টাকা এবং বাকি ৫০০ টাকা দেবে সরকার।

 

 

চাঁদা দেওয়া এবং নিবন্ধন করা দু’দিক থেকেই সবার নিচে রয়েছে প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রবাস স্কিম। এ স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা দিয়েছেন ৬৩৩ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নিবন্ধনকারীদের মাত্র দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবাসী। আর মোট জমা পড়া চাঁদার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে।

 

 

 

চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন- অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন- কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি পেশার ব্যক্তিরা। তাদের জন্য চালু করা হয়েছে সুরক্ষা স্কিম। এ স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন ৩১ হাজার ৪৬৬ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ মোট চাঁদার ৩৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এসেছে এ স্কিমের মাধ্যমে।

 

 

সূত্র থেকে জানা যায়, প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম এবং সমতা স্কিম এ চার স্কিম নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার। পেনশন বিধিমালা বলছে, সর্বজনীন পেনশন প্রথায় যার যত টাকা জমা, মেয়াদ শেষে তার তত বেশি পেনশন। অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের মানুষদেরও বিমুখ করবে না এ উদ্যোগ। যারা মাসিক ৫০০ টাকা জমাবেন, তাদের জন্য শুরু থেকেই থাকবে সরকারের আরো ৫০০ টাকার ভর্তুকি। সব মিলিয়ে, সবার জন্যই থাকছে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাড়তি কয়েকগুণ মুনাফা।

 

 

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাস করা হয়।

 

এ বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ট্রেজারি বন্ডে এরই মধ্যে আমরা প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। বিনিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশাকরি শিগগির বিনিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন তিন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ

সর্বজনীন পেনশন তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করতে জোর তৎপরতা

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

◉স্কিম কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন
◉স্কিম রেজিস্ট্রেশনে সারা দেশে বুথ স্থাপন
◉এ পর্যন্ত পেনশনের আওতায় এক লাখ মানুষ
◉সরকারি ফান্ডে জমা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা
◉নিবন্ধনে এগিয়ে দরিদ্ররা, পিছিয়ে প্রবাসীরা
◉চলতি মাসে নিবন্ধন ৬০ হাজার

দেশের নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে (স্কিম) তৃণমূলের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতিবাচক-নেতিবাচক আলোচনার মধ্য দিয়েই সারা দেশে স্কিম বাস্তবায়নে চলছে জোর তৎপরতা। এরই মধ্যে এক লাখ মানুষ নিবন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন। স্কিম চালু হওয়ার সাড়ে নয় মাসে এমন মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে। যার মাধ্যমে সরকারি ফান্ডে জমা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা।

 

 

 

গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পেনশন স্কিমে যুক্ত ছিলেন ৫৪ হাজার ৬৪৭ জন ব্যক্তি। এর মাত্র ১৩ দিনের মাথায় যা গতকাল লাখ ছাড়িয়ে গেল। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো রাজশাহীতে পেনশন মেলা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে ৭ বিভাগে বিভাগীয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। পেনশন কার্যক্রমে ইউনিয়ন ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে নিবন্ধন সংখ্যার মাইলফলক এক লাখ অর্জিত হয়েছে। সবার সহযোগিতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সর্বজনীন পেনশনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এর আগে নেত্রকোনা, বরিশাল, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম রেজিস্ট্রেশন বুথ উদ্ধোধন করা হয়েছে। চার ক্যাটাগরিতে এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকরিজীবী, স্বকর্ম ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মী এবং স্বল্প আয়ের ব্যক্তিরা। এই কার্যক্রমের আওতায় আসতে পেরে খুশি উপকারভোগীরা। তারা বলছেন, বৃদ্ধ বয়সে আর কাজ করার সক্ষমতা থাকে না। ফলে অনেক চিন্তা করতে হয়। সরকারি পেনশন স্কিমের ফলে শেষ বয়সে সরকারিভাবে পেনশন পাবেন যা অত্যন্ত আনন্দের তাদের জন্য।

 

 

সূত্রমতে, বর্তমানে চালু থাকা চার স্কিমে চাঁদা পরিশোধকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জন। আর তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নিবন্ধন সম্পন্ন করে সব থেকে বেশি চাঁদা জমা দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। তাদের জন্য চালু করা প্রগতি স্কিমে এরই মধ্যে চাঁদা জমা পড়েছে ২৪ কোটি ২০ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশনে এখন পর্যন্ত যে চাঁদা জমা পড়েছে তার ৪৬ দশমিক ২০ শতাংশ জমা দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। এ স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৮৪ জন।

 

 

 

অপরদিকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সব থেকে বেশি দরিদ্র মানুষ, যাদের বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। এ শ্রেণির মানুষের জন্য চালু হয়েছে সমতা স্কিম। এ স্কিমে চাঁদা দিয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৫৫ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৭ কোটি ২৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধনকারীদের ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ দরিদ্র মানুষ। এ স্কিমের মাসিক চাঁদার হার ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্কিম গ্রহণকারী চাঁদা দেবেন ৫০০ টাকা এবং বাকি ৫০০ টাকা দেবে সরকার।

 

 

চাঁদা দেওয়া এবং নিবন্ধন করা দু’দিক থেকেই সবার নিচে রয়েছে প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রবাস স্কিম। এ স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা দিয়েছেন ৬৩৩ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নিবন্ধনকারীদের মাত্র দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবাসী। আর মোট জমা পড়া চাঁদার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে।

 

 

 

চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন- অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন- কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি পেশার ব্যক্তিরা। তাদের জন্য চালু করা হয়েছে সুরক্ষা স্কিম। এ স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন ৩১ হাজার ৪৬৬ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ মোট চাঁদার ৩৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এসেছে এ স্কিমের মাধ্যমে।

 

 

সূত্র থেকে জানা যায়, প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম এবং সমতা স্কিম এ চার স্কিম নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার। পেনশন বিধিমালা বলছে, সর্বজনীন পেনশন প্রথায় যার যত টাকা জমা, মেয়াদ শেষে তার তত বেশি পেনশন। অন্যদিকে, স্বল্প আয়ের মানুষদেরও বিমুখ করবে না এ উদ্যোগ। যারা মাসিক ৫০০ টাকা জমাবেন, তাদের জন্য শুরু থেকেই থাকবে সরকারের আরো ৫০০ টাকার ভর্তুকি। সব মিলিয়ে, সবার জন্যই থাকছে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বাড়তি কয়েকগুণ মুনাফা।

 

 

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সর্বজনীন পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তনের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কর্তৃক ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩’ পাস করা হয়।

 

এ বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ট্রেজারি বন্ডে এরই মধ্যে আমরা প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। বিনিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশাকরি শিগগির বিনিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।