০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে কৃচ্ছ্রসাধনই প্রধান কৌশল

চলমান রেকর্ড তাপদাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। দেশের তাপমাত্র উঠলো ৪৩ ডিগ্রিতে। মৃদু, মাঝারি আবার কোথাও চলছে দাবদাহ। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা এখন। এদিকে রেকর্ড উৎপাদন করেও বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

 

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় মাত্রা ছাড়িয়েছে লোডশেডিংয়ের। ফলে গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে রাখলেও চলতি সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে বিভিন্ন জায়গায়। রাজধানীতে যেমন তেমন গ্রামের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে। গত সোমবার দুপুর ২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হয়েছে ৩ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট।

 

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামছে না। কখনো কখনো তা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রোববার রাত ৯টায় চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। এ সময় উৎপাদিত হয়েছে ১৫ হাজার ৮১৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট। গত রোববার বিকাল ৪টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট। সোমবার রাত ১টা থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়তে থাকে। এ সময় লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৮৩২ মেগাওয়াট। সকাল ৮টার পর লোডশেডিং ২ হাজার ১০৮ মেগাওয়াট থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আর উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট।

 

ঢাকা পাওয়ার এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) সূত্র জানায়, গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় তারা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ফলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেচ ও গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়বে দেশ। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। গ্যাস অনুসন্ধানে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলে জ্বালানি খাত এতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ত না। দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে।

 

রাজধানীর সাভার এলাকায় দিনে ও রাতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেখানকার বাসিন্দ শাহানা আক্তার শান্তা বলেন, একদিকে তীব্র খরতাপ অন্যদিকে লোডশেডিং। এতে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগতপ্রায়। এদিকে শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঠিকঠাক ঘুমাতেও পারছে না এলাকার মানুষ।

 

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গরমে বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক বেড়েছে, কিন্তু জ্বালানির অভাবে চাহিদানুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় তারাও উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে না। এ জন্য কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। গরম কমলে লোডশেডিংও কমে যাবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া দিন দিন বেড়েই চলেছে। চলমান ডলার সংকট এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ছাড়ে শ্লথগতির কারণে বকেয়া শোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে পিডিবিকে। বকেয়া পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে।

 

এদিকে চলমান তাপদাহ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকগণের প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ ৮ নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। সম্প্রতি প্রকাশিত এই আহ্বানে বলা হয়, বিগত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও চলমান তাপদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং একই সঙ্গে গ্রাহকদের আরো পরিমিত ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে আহ্বান জানাচ্ছে। চলমান তাপদাহ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গ্রাহকগণের সহযোগিতা কামনা করে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

 

নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, রাত ৮টার পর শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখুন। নিম্নহারে বিদ্যুৎ বিল সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে দোকান, শপিং মল, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত বাতি ব্যবহারে বিরত থাকুন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হলিডে স্ট্যাগারিং প্রতিপালন করুন। এসি’র তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা এর উপরে রাখুন। দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে হুকিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিরত থাকুন। বেআইনিভাবে ইজিবাইক ও মটর চালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জিং থেকে বিরত থাকুন। বিদ্যুতের অপচয় রোধে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন। সর্বোপরি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হউন। এতে আপনার লাভ তথা দেশের লাভ।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নুর তাপসও রাত আটটার মধ্যে শপিংমল বন্ধের নির্দেশ জারি করেন। তিনি বলেন, তীব্র তাপদাহের মধ্যে জনসাধারণের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতে রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে রাত ৮টার পর শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট খোলা রাখলে ডিপিডিসিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ রাখার এ নিয়ম যে নতুন নয়, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েক বছর আগেই এ ঘোষণা দিয়েছি। আমরা অভিযান পরিচালনা করব। এখন থেকে প্রত্যেক অঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

এর আগের সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তাপদাহ কমে গেলে লোডশেডিং থাকবে না।

বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে কৃচ্ছ্রসাধনই প্রধান কৌশল

আপডেট সময় : ০৮:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪

চলমান রেকর্ড তাপদাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। দেশের তাপমাত্র উঠলো ৪৩ ডিগ্রিতে। মৃদু, মাঝারি আবার কোথাও চলছে দাবদাহ। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা এখন। এদিকে রেকর্ড উৎপাদন করেও বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

 

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় মাত্রা ছাড়িয়েছে লোডশেডিংয়ের। ফলে গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে রাখলেও চলতি সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে বিভিন্ন জায়গায়। রাজধানীতে যেমন তেমন গ্রামের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন-রাতে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে। গত সোমবার দুপুর ২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড হয়েছে ৩ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট।

 

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নামছে না। কখনো কখনো তা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রোববার রাত ৯টায় চাহিদা ছিল সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। এ সময় উৎপাদিত হয়েছে ১৫ হাজার ৮১৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট। গত রোববার বিকাল ৪টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট। সোমবার রাত ১টা থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়তে থাকে। এ সময় লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৮৩২ মেগাওয়াট। সকাল ৮টার পর লোডশেডিং ২ হাজার ১০৮ মেগাওয়াট থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আর উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট।

 

ঢাকা পাওয়ার এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) সূত্র জানায়, গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় তারা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ফলে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেচ ও গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়বে দেশ। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। গ্যাস অনুসন্ধানে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলে জ্বালানি খাত এতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ত না। দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে।

 

রাজধানীর সাভার এলাকায় দিনে ও রাতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেখানকার বাসিন্দ শাহানা আক্তার শান্তা বলেন, একদিকে তীব্র খরতাপ অন্যদিকে লোডশেডিং। এতে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগতপ্রায়। এদিকে শিক্ষার্থীদেরও নিয়মিত পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঠিকঠাক ঘুমাতেও পারছে না এলাকার মানুষ।

 

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গরমে বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক বেড়েছে, কিন্তু জ্বালানির অভাবে চাহিদানুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় তারাও উৎপাদন বাড়াতে চাচ্ছে না। এ জন্য কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। গরম কমলে লোডশেডিংও কমে যাবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া দিন দিন বেড়েই চলেছে। চলমান ডলার সংকট এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ছাড়ে শ্লথগতির কারণে বকেয়া শোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে পিডিবিকে। বকেয়া পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে উৎপাদনে।

 

এদিকে চলমান তাপদাহ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকগণের প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ ৮ নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। সম্প্রতি প্রকাশিত এই আহ্বানে বলা হয়, বিগত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও চলমান তাপদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং একই সঙ্গে গ্রাহকদের আরো পরিমিত ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে আহ্বান জানাচ্ছে। চলমান তাপদাহ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গ্রাহকগণের সহযোগিতা কামনা করে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের প্রতি সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।

 

নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, রাত ৮টার পর শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখুন। নিম্নহারে বিদ্যুৎ বিল সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে দোকান, শপিং মল, পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত বাতি ব্যবহারে বিরত থাকুন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হলিডে স্ট্যাগারিং প্রতিপালন করুন। এসি’র তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা এর উপরে রাখুন। দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে হুকিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিরত থাকুন। বেআইনিভাবে ইজিবাইক ও মটর চালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জিং থেকে বিরত থাকুন। বিদ্যুতের অপচয় রোধে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন। সর্বোপরি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হউন। এতে আপনার লাভ তথা দেশের লাভ।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নুর তাপসও রাত আটটার মধ্যে শপিংমল বন্ধের নির্দেশ জারি করেন। তিনি বলেন, তীব্র তাপদাহের মধ্যে জনসাধারণের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতে রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে রাত ৮টার পর শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট খোলা রাখলে ডিপিডিসিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ রাখার এ নিয়ম যে নতুন নয়, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েক বছর আগেই এ ঘোষণা দিয়েছি। আমরা অভিযান পরিচালনা করব। এখন থেকে প্রত্যেক অঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

এর আগের সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমে বলেছেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তাপদাহ কমে গেলে লোডশেডিং থাকবে না।