০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ের নাটক সাজিয়ে প্রবাসীর ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ তরুণীর

মালয়েশিয়া প্রবাসীর সাথে মোবাইলে বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক তরুণীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসীর অভিযোগ, এখন সম্পর্ক অস্বীকার করে ওই তরুণী আরেক ছেলেকে বিয়েও করেছেন। বিয়ে প্রতারণায় তরুণীকে সহায়তা করেছেন তার মা বোন ও ভগ্নিপতি। তবে ওই তরুণী বলছেন, মিথ্যাচার করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। প্রতারণার শিকার জিয়াউর রহমান জিয়া যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের সাখাওয়াত আলী সরদারের ছেলে।
জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে আমার এক বন্ধু মিঠুনের মোবাইলের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের কাদের মোল্যার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার
রিয়ার সাথে প্রথম কথা হয়। ওই সময় রিয়া তার মোবাইল ফোনের নম্বর দেয়। পরে নিয়মিত কথা বলার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন মোটেও বুঝতে পারিনী রিয়া প্রেমের নামে ছলনা করছে। তার প্রেমে অন্ধ হয়ে ভিডিও কলে কথা বলার জন্য এন্ড্রয়েড ফোন কেনার টাকাও দিয়েছিলাম।
জিয়াউর জানান, ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে আমাকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলা হয়। এরপর হঠাৎ একদিন রিয়া আমার পাসপোর্টের ছবি চায়। এরপর ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোবাইলে তাকে বিয়ে করে। সে অনুযায়ী আমার কাছে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের কপির ছবিও পাঠিয়ে দেয়া হয়। তখন আমাকে জানানো হয়, আজ থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী। এভিডেভিডের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছে। আমি দেশে ফিরে গেলে বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিন করা হবে।
রিয়া এভাবে প্রেম ও বিয়ের নাটক সাজিয়ে ৫ বছরে আমার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার যথেষ্ট প্রমাণ আমার কাছে আছে। বিয়ে ও প্রতারণায় অর্থ হাতানোর কাজে রিয়াকে সহযোগিতা করেছেন মা ফরিদা বেগম, বোন রুবিনা ও ভগ্নিপতি শাওন। তারাও আমার সাথে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন। এখন বুঝতে পারছি বিয়ের নামে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান আরও জানান, মিষ্টি কথা বলে রিয়া আমাকে ফাঁদে ফেলেছে। তাকে বিশ্বাস করে লাখ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে তার আচরণে বুঝতে পেরেছি বিয়ের নাটক সাজিয়ে আমাকে ঠকানো হয়েছে। এখন শুনছি রিয়া অন্য ছেলেকে বিয়ে করেছে। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় তার সাথে এখন আমার দুরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না জন্য  মোবাইলে আমাকে শাসানো হচ্ছে। বিয়ের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিনি দেশে ফিরে মামলা করবেন বলে জানান জিয়াউর রহমান।
এদিকে, প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো কিছু
 ডকুমেন্টসে দেখা যায়, অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা (জিয়াউর+রিয়া) ভিড়িও কলে একে অপরের সাথে কথা বলছেন। বিকাশে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশটও রয়েছে।
এই বিষয়ে সুমাইয়া আক্তার রিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানকে কখনো বিয়ে করেননি। তবে তার সাথে মাঝে মধ্যে মোবাইলে কথা হতো। ভালোবেসে জিয়া আমাকে ২/৩ হাজার টাকা দিয়েছে। ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। জিয়াউর তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) বেলাল হোসাইন জানান, প্রবাসীদের টার্গেট করে একটি প্রতারক চক্র রীতিমতো  সক্রিয়। তারা বিয়ে ও প্রেমের নাটক সাজিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণের অভাবে চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে প্রবাসীদের সজাগ থাকতে হবে। সন্দেহজনক বা অপরিচিত কোন মেয়ের সাথে মোবাইলে সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক না। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

বিয়ের নাটক সাজিয়ে প্রবাসীর ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ তরুণীর

আপডেট সময় : ১১:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪
মালয়েশিয়া প্রবাসীর সাথে মোবাইলে বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক তরুণীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসীর অভিযোগ, এখন সম্পর্ক অস্বীকার করে ওই তরুণী আরেক ছেলেকে বিয়েও করেছেন। বিয়ে প্রতারণায় তরুণীকে সহায়তা করেছেন তার মা বোন ও ভগ্নিপতি। তবে ওই তরুণী বলছেন, মিথ্যাচার করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। প্রতারণার শিকার জিয়াউর রহমান জিয়া যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামের সাখাওয়াত আলী সরদারের ছেলে।
জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে আমার এক বন্ধু মিঠুনের মোবাইলের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের কাদের মোল্যার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার
রিয়ার সাথে প্রথম কথা হয়। ওই সময় রিয়া তার মোবাইল ফোনের নম্বর দেয়। পরে নিয়মিত কথা বলার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন মোটেও বুঝতে পারিনী রিয়া প্রেমের নামে ছলনা করছে। তার প্রেমে অন্ধ হয়ে ভিডিও কলে কথা বলার জন্য এন্ড্রয়েড ফোন কেনার টাকাও দিয়েছিলাম।
জিয়াউর জানান, ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে আমাকে বিয়ের প্রলোভনে ফেলা হয়। এরপর হঠাৎ একদিন রিয়া আমার পাসপোর্টের ছবি চায়। এরপর ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোবাইলে তাকে বিয়ে করে। সে অনুযায়ী আমার কাছে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের কপির ছবিও পাঠিয়ে দেয়া হয়। তখন আমাকে জানানো হয়, আজ থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী। এভিডেভিডের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছে। আমি দেশে ফিরে গেলে বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিন করা হবে।
রিয়া এভাবে প্রেম ও বিয়ের নাটক সাজিয়ে ৫ বছরে আমার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার যথেষ্ট প্রমাণ আমার কাছে আছে। বিয়ে ও প্রতারণায় অর্থ হাতানোর কাজে রিয়াকে সহযোগিতা করেছেন মা ফরিদা বেগম, বোন রুবিনা ও ভগ্নিপতি শাওন। তারাও আমার সাথে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন। এখন বুঝতে পারছি বিয়ের নামে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান আরও জানান, মিষ্টি কথা বলে রিয়া আমাকে ফাঁদে ফেলেছে। তাকে বিশ্বাস করে লাখ লাখ টাকা পাঠিয়েছি। কিন্তু কয়েকদিন আগে তার আচরণে বুঝতে পেরেছি বিয়ের নাটক সাজিয়ে আমাকে ঠকানো হয়েছে। এখন শুনছি রিয়া অন্য ছেলেকে বিয়ে করেছে। বিষয়টির প্রতিবাদ করায় তার সাথে এখন আমার দুরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না জন্য  মোবাইলে আমাকে শাসানো হচ্ছে। বিয়ের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিনি দেশে ফিরে মামলা করবেন বলে জানান জিয়াউর রহমান।
এদিকে, প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো কিছু
 ডকুমেন্টসে দেখা যায়, অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা (জিয়াউর+রিয়া) ভিড়িও কলে একে অপরের সাথে কথা বলছেন। বিকাশে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশটও রয়েছে।
এই বিষয়ে সুমাইয়া আক্তার রিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জিয়াউর রহমানকে কখনো বিয়ে করেননি। তবে তার সাথে মাঝে মধ্যে মোবাইলে কথা হতো। ভালোবেসে জিয়া আমাকে ২/৩ হাজার টাকা দিয়েছে। ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। জিয়াউর তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) বেলাল হোসাইন জানান, প্রবাসীদের টার্গেট করে একটি প্রতারক চক্র রীতিমতো  সক্রিয়। তারা বিয়ে ও প্রেমের নাটক সাজিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণের অভাবে চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে প্রবাসীদের সজাগ থাকতে হবে। সন্দেহজনক বা অপরিচিত কোন মেয়ের সাথে মোবাইলে সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক না। এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।