০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে  বিভিন্ন  হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ

গাজীপুরের  জেলায় বিভিন্ন  হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত রোগীদের পাঁয়তারা করছেন। রোগী দেখার সিরিয়ালে তদবির। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সিরিয়াল উলটপালট। পরিষ্কার না করে একই যন্ত্র দিয়ে একাধিক রোগীকে টেস্ট। প্রেসক্রিপশনে একাধিক অহেতুক  টেস্ট। এছাড়াও প্রেসক্রিপশনে টেস্ট ও ওষুধের নাম না বোঝা সহ একাধিক অভিযোগ করেন রোগীরা।

যার প্রথম তালিকায় আছেন, শফিপুরে অবস্থিত খাজা বদরোদ্দোজা মর্ডান হাসপাতাল,মৌচাক  এলাকায় অবস্থিত  তানহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল,বাসনের রাহাতুন্নেসা হাসপাতাল, নাওজোড়ের সিরাজ উদ্দিন হাসপাতাল, সহ ব্যাঙের ছাতার মতে গড়ে ওঠা ডায়গনিকস সেন্টার। গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর থেকে শুরু করে কালিয়াকৈরের পৌর  এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যানদের কারণে রোগীরা সিরিয়াল পান্না। ডাক্তারদের নানান ধরনের গিফট দিয়ে নিজেদের কোম্পানির ওষুধের নাম লিখিয়ে নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি মোটা অংকের টাকা হাতে নিচ্ছেন এলাকার ফার্মেসির মালিকগণ। হাসপাতালের বিভিন্ন সোর্স কাজ করছেন বাহিরে। কিছু কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টারনিরত ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে রোগীদের চেকআপ করান ও প্রেসক্রিপশন করান কর্মরত ডাক্তাররা। এতে করে রোগীদের মূল চিকিৎসা সেবা থেকে বিরত থাকছেন হাসপাতালগুলো।

রোগী সাইদুর রহমান অভিযোগ এনে বলেন, এই হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের ডাক্তার, আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি কাছে নাক ও গলা সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি টেস্ট যন্ত্র পরিষ্কার না করে একাধিক রোগীকে একই যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করছেন। বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন কোন সমস্যা নেই। আমি আপনার চেয়ে ভালো বুঝি। এছাড়াও, প্রেসক্রিপশনে যা লিখেছেন কোন ডাক্তার এবং কোন ফার্মেসির লোক সেটা বুঝতে অক্ষম। আর অহেতুক টেস্ট দিয়েছেন। এবং আমার নামটাও তিনি ঠিক মত লেখেননি। উনি রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়াও, রোগী দেখার সিরিয়ালে আশেপাশের এলাকার ফার্মেসি থেকে তদবির করা হয়। সিরিয়ালের রেজিস্টার খাতায় গোপন কোড নাম্বার লেখা থাকে যাতে করে সে পরিচয় বহন করে অনেক রোগী আগে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যান। সিরিয়ালের জন্য আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ডাক্তার আব্দুল মান্নান পাটোয়ায়ারীর ভিজিটিং কার্ডে লেখা সহযোগী অধ্যাপক, অথচ প্রেসক্রিপশনে লেখা অধ্যাপক। এতে করে আমি সহ এখানে আসা অনেক রোগীর সন্দেহ হচ্ছে উনি প্রকৃত ডাক্তার কিনা?উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে রোগীদের জিম্মি করে এ ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমার সাথে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ব্যাপারে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে  বলেন,  নাক কান গলা বিভাগের ডাক্তার আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বয়োজ্যেষ্ঠ থাকায় তাকে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভবিষ্যৎ এ  সংশোধন হবেন বলে জানান।

হাসপাতালটির পরিচালক প্রতিবাদককে ফোনে জানান, আপনি সাংবাদিক না হয়ে কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হলে ভালো বিষয়টা বুঝতে পারতেন। যে বিষয়ে জানানো হয়েছে সে বিষয়ে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

হাসপাতালের অনিয়ম ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে এবং ডাক্তারকে চিনি না।  তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,  উল্লেখিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ  এসেছে সেটা সরেজমিনে পরিদর্শন   ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে রাশিয়ান বিনিয়োগের আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

গাজীপুরে  বিভিন্ন  হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

গাজীপুরের  জেলায় বিভিন্ন  হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত রোগীদের পাঁয়তারা করছেন। রোগী দেখার সিরিয়ালে তদবির। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সিরিয়াল উলটপালট। পরিষ্কার না করে একই যন্ত্র দিয়ে একাধিক রোগীকে টেস্ট। প্রেসক্রিপশনে একাধিক অহেতুক  টেস্ট। এছাড়াও প্রেসক্রিপশনে টেস্ট ও ওষুধের নাম না বোঝা সহ একাধিক অভিযোগ করেন রোগীরা।

যার প্রথম তালিকায় আছেন, শফিপুরে অবস্থিত খাজা বদরোদ্দোজা মর্ডান হাসপাতাল,মৌচাক  এলাকায় অবস্থিত  তানহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার হাসপাতাল,বাসনের রাহাতুন্নেসা হাসপাতাল, নাওজোড়ের সিরাজ উদ্দিন হাসপাতাল, সহ ব্যাঙের ছাতার মতে গড়ে ওঠা ডায়গনিকস সেন্টার। গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর থেকে শুরু করে কালিয়াকৈরের পৌর  এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যানদের কারণে রোগীরা সিরিয়াল পান্না। ডাক্তারদের নানান ধরনের গিফট দিয়ে নিজেদের কোম্পানির ওষুধের নাম লিখিয়ে নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি মোটা অংকের টাকা হাতে নিচ্ছেন এলাকার ফার্মেসির মালিকগণ। হাসপাতালের বিভিন্ন সোর্স কাজ করছেন বাহিরে। কিছু কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টারনিরত ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে রোগীদের চেকআপ করান ও প্রেসক্রিপশন করান কর্মরত ডাক্তাররা। এতে করে রোগীদের মূল চিকিৎসা সেবা থেকে বিরত থাকছেন হাসপাতালগুলো।

রোগী সাইদুর রহমান অভিযোগ এনে বলেন, এই হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের ডাক্তার, আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি কাছে নাক ও গলা সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি টেস্ট যন্ত্র পরিষ্কার না করে একাধিক রোগীকে একই যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করছেন। বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন কোন সমস্যা নেই। আমি আপনার চেয়ে ভালো বুঝি। এছাড়াও, প্রেসক্রিপশনে যা লিখেছেন কোন ডাক্তার এবং কোন ফার্মেসির লোক সেটা বুঝতে অক্ষম। আর অহেতুক টেস্ট দিয়েছেন। এবং আমার নামটাও তিনি ঠিক মত লেখেননি। উনি রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এছাড়াও, রোগী দেখার সিরিয়ালে আশেপাশের এলাকার ফার্মেসি থেকে তদবির করা হয়। সিরিয়ালের রেজিস্টার খাতায় গোপন কোড নাম্বার লেখা থাকে যাতে করে সে পরিচয় বহন করে অনেক রোগী আগে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যান। সিরিয়ালের জন্য আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। ডাক্তার আব্দুল মান্নান পাটোয়ায়ারীর ভিজিটিং কার্ডে লেখা সহযোগী অধ্যাপক, অথচ প্রেসক্রিপশনে লেখা অধ্যাপক। এতে করে আমি সহ এখানে আসা অনেক রোগীর সন্দেহ হচ্ছে উনি প্রকৃত ডাক্তার কিনা?উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে রোগীদের জিম্মি করে এ ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমার সাথে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ব্যাপারে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে  বলেন,  নাক কান গলা বিভাগের ডাক্তার আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বয়োজ্যেষ্ঠ থাকায় তাকে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভবিষ্যৎ এ  সংশোধন হবেন বলে জানান।

হাসপাতালটির পরিচালক প্রতিবাদককে ফোনে জানান, আপনি সাংবাদিক না হয়ে কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হলে ভালো বিষয়টা বুঝতে পারতেন। যে বিষয়ে জানানো হয়েছে সে বিষয়ে সংশোধন হওয়ার চেষ্টা করা হবে।

হাসপাতালের অনিয়ম ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে এবং ডাক্তারকে চিনি না।  তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন,  উল্লেখিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ  এসেছে সেটা সরেজমিনে পরিদর্শন   ও তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।