◉বিভিন্ন কলেজে খালি থাকবে ৮ লক্ষাধিক আসন
◉একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু হতে পারে ২৬ মে
◉সারা দেশের কলেজে একাদশে আসন ২৫ লাখ
◉পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন
◉মানসম্মত দুই শতাধিক কলেজে আসন প্রায় এক লাখ
ফল প্রকাশের পর এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকেই ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে কাক্সিক্ষত ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে অনেকে। কারণ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও অনেকে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে না। যদিও তুলনামূলক নিম্নমানের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ৮ লক্ষাধিক আসন খালিই থেকে যাবে।
সূত্রমতে, ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন। এক লাখ ৮২ হাজার ১৩২ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৩.০৪ শতাংশ। পাস করা এসব শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত রোববার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী এসএসসিতে পাস করা সবাই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও ৮ লাখ ২৭ হাজারের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। তবে এসব শিক্ষার্থীকে বিশেষ করে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করা শিক্ষার্থীদের ভালো কলেজগুলোয় ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে। ফলে ভর্তির ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতা থাকবে এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এর আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যও বলছে, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৫ লাখ। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ৫ লাখের বেশি আসন। এবার মাধ্যমিকে ১১টি বোর্ড মিলে পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন। সে হিসাবেও অন্তত আট লাখের বেশি আসন খালি থেকে যাবে।
জানা গেছে, চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে আবেদন শুরু হতে পারে মে মাসের শেষের দিকে। এ প্রক্রিয়া চলবে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেনি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। দু’একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নীতিমালা পেলে বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।
গতকাল সোমবার অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, এবার ২৫ লাখ আসন থাকলেও পাস করেছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার। সে হিসাবে ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকবে। তবে ভালো কলেজগুলোয় ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে। ভর্তির বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মানসম্পন্ন ও ভালো কলেজ হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দু’শতাধিক। এতে আসন আছে এক লাখের কাছাকাছি। এসব কলেজেই শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহ বেশি থাকবে। তবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে রাজধানীর দিকে। ঢাকায় মানসম্পন্ন কলেজের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০টি। এগুলো ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়।
যদিও এসব কলেজের যাদের স্কুল সংযুক্ত রয়েছে, তারা তাদের নিজস্ব শিক্ষার্থী আগে ভর্তি নেবে। এরপর বাকি আসনে বাইরের শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। ফলে রাজধানীর ভালো কলেজে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ নেই। অথচ জিপিএ-৫ পাওয়া এক লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে রাজধানীর নামীদামি কলেজ।
এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯ হাজার ১৯০ জন। বোর্ডের অধীন এবার পরীক্ষার্থী ছিল, চার লাখ সাত হাজার ৯৬১ জন। এর মধ্যে তিন লাখ ৪২ হাজার ৩৭৯ জন পাস করেছে। তারাও সবাই ঢাকার কলেজে ভর্তি হবেন।

























