➤ রাশিয়ার তোপে কঠিন চাপে ইউক্রেন
➤ খারকিভের ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন’ স্বীকার জেলেনস্কির
➤ যুক্তরাজ্যের কূটনীতিককে মস্কো ছাড়তে বলল রাশিয়া
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় চলছে তুমুল লড়াই। রাশিয়ার জোরাল অভিযানে বেশ চাপে পড়েছে অস্ত্র ও সেনা সংকটে ভুগতে থাকা ইউক্রেন। এরই মধ্যে খারকিভ পরিদর্শনে গিয়ে, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন’ বলে অকপটে স্বীকার করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রাশিয়ার অব্যাহত হামলা ও গোলাবর্ষণে উত্তপ্ত ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের পরিস্থিতি। সম্প্রতি রুশ সেনারা ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে প্রবেশ করে নতুন স্থল অভিযান জোরদার করায় বিপাকে পড়ে জেলেনস্কি বাহিনী। বেশ কয়েকটি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর রুশ বাহিনী কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়ায়, টিকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। তবে রুশ বাহিনীকে প্রতিহতে সেনারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। পুতিন বাহিনীকে রুখতে ভোভচানেস্ক শহরের উপকণ্ঠে চলছে পাল্টা প্রতিরোধ। অবশ্য ইউক্রেনের সব ফ্রন্টেই রাশিয়া অগ্রসর হচ্ছে বলে দাবি মস্কোর। এদিকে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই খারকিভ পরিদর্শনে যান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অঞ্চলটি যে ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে’ রয়েছে সেটি অকপটে স্বীকার করেন তিনি। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের খারকিভ শহরে ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন’ চলছে। সেখানকার পরিস্থিতি ‘খুব কঠিন’ তবে তা ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে। ইউক্রেনীয় সেনারা রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধন করতে পেরেছে।
তবে সেখানে খুব কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা আমাদের ইউনিটকে আরো শক্তিশালী করছি। এ সময় যুদ্ধে জটিল পরিস্থিতির জন্য তিনি দায় চাপান গোটা বিশ্বের ওপর। বিশেষ করে পশ্চিমারা অস্ত্র সরবরাহে দেরি করায় রুশ বাহিনী এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। তাই সেনা ও গোলাবারুদ ঘাটতিতে থাকা ইউক্রেনের শক্তি বাড়াতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের প্রতি অস্ত্র সহায়তার আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এদিকে জেলেনস্কির আহ্বানে সাড়া দিয়ে, কিয়েভকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। খারকিভের গভর্নর ওলেগ সিনেগুবভ বলেছেন, এই অঞ্চলে ফ্রন্ট লাইনকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং রাশিয়ার অগ্রগতি আংশিকভাবে থামাতে সক্ষম হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাশিয়ার দক্ষিণে এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়া ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে ইউক্রেনের শধাতিক ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করেছে মস্কো। যুদ্ধের শুরুর পর থেকে এক রাতে এটিই ছিল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলার ঘটনা। গতকাল রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রিমিয়ায় ৫১টি, ক্রাসনোদার অঞ্চলে ৪৪টি, বেলগোরোড অঞ্চলে ৬টি, কৃষ্ণ সাগরের ওপরে ৬টি এবং কুরস্কে ১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।’ রুশ বাহিনী সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে নতুন এলাকা দখল নেওয়ায় গত ১৮ মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ সীমান্তে আকস্মিক অভিযান চালায় রুশ বাহিনী। এরই মধ্যে তারা বেশকিছু এলাকা দখল করে নিয়েছে।
গত সপ্তায় খারকিভ সীমান্তে হঠাৎ করেই বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখল করেছে মস্কো। তবে শীর্ষ ন্যাটো কমান্ডার মার্কিন জেনারেল ক্রিস্টোফার ক্যাভোলি বলেছিলেন, ইউক্রেনে একটি বড় অগ্রগতি করার মতো রাশিয়ার পর্যাপ্ত বাহিনী নেই। আমি আমাদের ইউক্রেনীয় সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে, তারা লড়াই চালিয়ে যাবে। তবে কিয়েভের গোলাবারুদ এবং জনবলের ঘাটতির জন্য ইউক্রেনের একাধিক ফ্রন্টে রাশিয়া তীব্র আক্রমণ চালাতে পেরেছে।
অপরদিকে রাশিয়া যুক্তরাজ্যের সামরিক কূটনীতিককে ‘পার্সোনা নন-গ্রাটা’ (নিজের দেশে ফেরত যেতে বলা) ঘোষণা করেছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে মস্কো ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সামরিক কূটনীতিকে বহিষ্কার করার জবাবে এ পদক্ষেপ নিল রাশিয়া। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মস্কোতে ব্রিটিশ দূতাবাসের একজন প্রতিনিধিকে তলব করেছে এবং লন্ডন থেকে রাশিয়ার কূটনীতিককে বহিষ্কার করার ঘটনায় কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমরা জোর দিয়ে বলছি যে, যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। যাতে দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরো অবনতি ঘটিয়েছে।
মস্কোতে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূতাবাসের সামরিক কূটনীতিক এ. টি. কগহিলকে পার্সোনা নন গ্রাটা ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে অবশ্যই এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। কগহিলকে বহিষ্কার করা রাশিয়ার এ সিদ্ধান্তকে বেপরোয়া বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব গ্রান্ট শ্যাপস। এর আগে যুক্তরাজ্য ৮ মে তাদের দেশে মস্কোর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অভিযানকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাক্সিম এলোভিককে বহিষ্কার করা। যিনি একজন রাশিয়ার কর্নেল এবং তাকে ব্রিটিশ সরকার একজন ‘অঘোষিত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা’ বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি সম্পত্তির কূটনৈতিক মর্যাদা প্রত্যাহার, এছাড়া রাশিয়ার কূটনৈতিক ভিসা এবং পরিদর্শনের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা। ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে রাশিয়ার পক্ষে যুক্তরাজ্যে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পরই এ পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাজ্য। এর আগেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাজ্য। তাছাড়া ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে সাইবার আক্রমণ এবং রাশিয়ার স্বার্থে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করার অভিযোগও রয়েছে।

























