০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
পোশাক খাতে লক্ষ্যমাত্রা

রপ্তানি আয়ে ঘাটতি সাড়ে ৮০০ কোটি ডলার

➤গত বছর প্রাপ্তি ০.৪১ শতাংশ বেশি থাকলে চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়ে ৮.৩৮ শতাংশ কম
➤ডলার ও জ্বালানি সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা

 

❖তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরকারের আরও নজর বাড়ানো দরকার এস এম মান্নান কচি, সভাপতি, বিজিএমইএ

দেশে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বড় হোঁচট খেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প খাত। বছরজুড়ে ৫ হাজার ২২৭ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক শিল্পে বৈদেশিক আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলতি মাসে আসতে হবে আরও ৮৪২ কোটি ডলার। যা প্রায় অসম্ভব। কারণ এর আগে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ আয় এসেছে গত জানুয়ারিতে ৪৯৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলছে, খাতভিত্তিক সরকারের দূরদর্শী ও নীতি কৌশলের বড়ই অভাব রয়েছে। আর বৈশ্বিক অস্থিরতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের চাপ মোকাবিলা করে আগামীতে ভালো করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিজিএমইএ এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, এপ্রিল ২০২১ থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ছিল ৩৯.৪০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৪৬.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

আর এপ্রিল ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত এই খাতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৮.৯৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই রপ্তানি হয়েছে ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পোশাক। যা বিগত বছরগুলোর যেকোনো বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ এর ওই পরিসংখ্যান রিপোর্ট বলছে, করোনা মহামারির পূর্বে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ছিল ৪০.৫৪ বিলিয়ন ডলার। যেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪.১৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ পোশাক রপ্তানির শেয়ার ছিল ৮৪.২১%। সে বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৪৯%, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৫২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে পোশাক খাতের জন্য ১১.২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও মে (গতমাস) পর্যন্ত অর্জন ২.৮৬ শতাংশ। অথচ আগের অর্থবছর ৪ হাজার ৬৮০ কোটির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ খাতের আয় এসেছিল ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি ছিল ০.৪১ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে কাঁচামাল আমদানি করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। এদিকে এসব থেকে মুক্তি না পেলে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়ছে দেশের তৈরি পোশাক খাতেও। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরকারের আরও নজর বাড়ানো দরকার। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের এই প্রধান খাতটির (পোশাক খাত) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মূল প্রস্তাবগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তবে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য সহায়ক প্রস্তাবনাগুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

পোশাক খাতে লক্ষ্যমাত্রা

রপ্তানি আয়ে ঘাটতি সাড়ে ৮০০ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

➤গত বছর প্রাপ্তি ০.৪১ শতাংশ বেশি থাকলে চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়ে ৮.৩৮ শতাংশ কম
➤ডলার ও জ্বালানি সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা

 

❖তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরকারের আরও নজর বাড়ানো দরকার এস এম মান্নান কচি, সভাপতি, বিজিএমইএ

দেশে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বড় হোঁচট খেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প খাত। বছরজুড়ে ৫ হাজার ২২৭ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক শিল্পে বৈদেশিক আয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলতি মাসে আসতে হবে আরও ৮৪২ কোটি ডলার। যা প্রায় অসম্ভব। কারণ এর আগে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ আয় এসেছে গত জানুয়ারিতে ৪৯৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলছে, খাতভিত্তিক সরকারের দূরদর্শী ও নীতি কৌশলের বড়ই অভাব রয়েছে। আর বৈশ্বিক অস্থিরতা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারের চাপ মোকাবিলা করে আগামীতে ভালো করতে হলে সরকারকে উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিজিএমইএ এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, এপ্রিল ২০২১ থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ছিল ৩৯.৪০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৪৬.৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

আর এপ্রিল ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত এই খাতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৮.৯৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসেই রপ্তানি হয়েছে ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পোশাক। যা বিগত বছরগুলোর যেকোনো বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ এর ওই পরিসংখ্যান রিপোর্ট বলছে, করোনা মহামারির পূর্বে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় ছিল ৪০.৫৪ বিলিয়ন ডলার। যেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪.১৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ পোশাক রপ্তানির শেয়ার ছিল ৮৪.২১%। সে বছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৪৯%, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৫২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে পোশাক খাতের জন্য ১১.২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও মে (গতমাস) পর্যন্ত অর্জন ২.৮৬ শতাংশ। অথচ আগের অর্থবছর ৪ হাজার ৬৮০ কোটির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ খাতের আয় এসেছিল ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি ছিল ০.৪১ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে কাঁচামাল আমদানি করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। এদিকে এসব থেকে মুক্তি না পেলে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়ছে দেশের তৈরি পোশাক খাতেও। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরকারের আরও নজর বাড়ানো দরকার। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের এই প্রধান খাতটির (পোশাক খাত) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু নীতি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মূল প্রস্তাবগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তবে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য সহায়ক প্রস্তাবনাগুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই।