০৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এমপি আনার হত্যা রহস্য!

২২০০ টাকায় কেনা হয় মাংস কিমার যন্ত্র

➤ এখনো মেলেনি অস্ত্র-ট্রলি, সংগ্রহ হয়নি পরিবারের ডিএনএ নমুনা
➤ তদন্তের ধীরগতি নিয়ে হতাশায় এমপিকন্যা ডরিন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার নিখোঁজের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও এখনো পুরোপুরি সেই রহস্যের জট খোলেনি। এখনো মেলেনি এমপি আনারের ব্যবহৃত রক্তমাখা পোশাক, চশমা, মোবাইল সেট এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও রহস্যময় সেই ট্রলি। কলকাতার আলোচিত সেই সঞ্জীভা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা খণ্ডিত মাংসের টুকরোগুলো মানবদেহের বলে ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এলেও বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হাড়গুলো একই ব্যক্তির কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি কলকাতা সিআইডি।

এছাড়া মানবদেহের খণ্ডিত মাংস ও হাড়গুলো এমপি আনারের কিনা তা নিশ্চিত করতে নিহতের পরিবারের কারো ডিএনএ নমুনা এখনো সংগ্রহ না করায় তার মৃত্যু নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন উঠছে। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এমপি আনার হত্যায় গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি বলছে, এমপি আনারকে হত্যার পর তার মাংস কিমা করার জন্য কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে ২২০০ টাকায় কিমা তৈরির মেশিন বা যন্ত্র কেনা হয়েছিল। কিন্তু পুরোপুরি কিমা না হওয়ায় তা টুকরো টুকরো করে কমোডে ফেলে গুম করার অপচেষ্টায় ফ্লাশ করা হয়। এমপি আনার হত্যার পর ডিএমপির ডিবি প্রথমে যে তৎপরতা দেখিয়ে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তদন্তের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন এমপিকন্যা ডরিন। তিনি বলেন, আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দুই দেশের তদন্ত সংস্থা এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে উদ্ধার করা মাংস ও হাড়গুলো আমার বাবার কি না তা আজো নিশ্চিত করেনি কেউ কারণ, তা নিশ্চিত করতে হলে আমার বাবার পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর কথা। কিন্তু কোনো সংস্থাই আমাদের কারো নমুনা সংগ্রহের জন্য ডাকেনি। এতে মামলার তদন্তে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় গণমাধ্যমসহ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি দাবি করেছে, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর তার শরীর কিমা তৈরির যন্ত্র দিয়ে কিমা করা হয়। আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতা নিউ মার্কেট থেকে ২২০০ টাকায় যন্ত্রটি কিনেছিলেন। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতার নিউ মার্কেটের একটি দোকান থেকে ২২০০ টাকা দিয়ে ওই যন্ত্র কিনেছিল। প্রমাণ লোপাটের জন্যই ওই কিমা করার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। সিআইডির একাংশের দাবি, তবে ওই যন্ত্রে পুরো মাংস কিমা করা যায়নি। তাই তারা লাশটিকে ছোট ছোট টুকরো করে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়। এর আগে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংস উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। পরে এই মাংস মানুষের কি না তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়। এদিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এমপি আজীমের মেয়ে ডরিনের ভারত সফর এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এমপি আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদের আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত কর্মকর্তা ডরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঈদের পর ভারতে যেতে হবে বলে জানান। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

এমপি আনারকন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, আমার বাবাকে হত্যার অভিযোগে দুই দেশের তদন্ত সংস্থা এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে উদ্ধার করা মাংস ও হাড়গুলো আমার বাবার কি না তা আজো নিশ্চিত করেনি কেউ। তা নিশ্চিত করতে হলে আমার বাবার পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর কথা। কিন্তু কোনো সংস্থাই আমাদের কারো নমুনা সংগ্রহের জন্য এখনো ডাকেনি। এতে মামলার তদন্তে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ওয়ারি জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ডরিনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তবে ভারতে যাওয়ার বিষয়ে ডরিন বলতে পারবে। এ বিষয়ে আমাদের টিম আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। ভারতীয় তদন্ত সংস্থার সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি আনার হত্যা রহস্য!

২২০০ টাকায় কেনা হয় মাংস কিমার যন্ত্র

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

➤ এখনো মেলেনি অস্ত্র-ট্রলি, সংগ্রহ হয়নি পরিবারের ডিএনএ নমুনা
➤ তদন্তের ধীরগতি নিয়ে হতাশায় এমপিকন্যা ডরিন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার নিখোঁজের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেও এখনো পুরোপুরি সেই রহস্যের জট খোলেনি। এখনো মেলেনি এমপি আনারের ব্যবহৃত রক্তমাখা পোশাক, চশমা, মোবাইল সেট এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও রহস্যময় সেই ট্রলি। কলকাতার আলোচিত সেই সঞ্জীভা গার্ডেনের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা খণ্ডিত মাংসের টুকরোগুলো মানবদেহের বলে ফরেনসিক প্রতিবেদনে উঠে এলেও বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হাড়গুলো একই ব্যক্তির কিনা তা এখনো নিশ্চিত করেনি কলকাতা সিআইডি।

এছাড়া মানবদেহের খণ্ডিত মাংস ও হাড়গুলো এমপি আনারের কিনা তা নিশ্চিত করতে নিহতের পরিবারের কারো ডিএনএ নমুনা এখনো সংগ্রহ না করায় তার মৃত্যু নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন উঠছে। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এমপি আনার হত্যায় গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতা সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি বলছে, এমপি আনারকে হত্যার পর তার মাংস কিমা করার জন্য কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে ২২০০ টাকায় কিমা তৈরির মেশিন বা যন্ত্র কেনা হয়েছিল। কিন্তু পুরোপুরি কিমা না হওয়ায় তা টুকরো টুকরো করে কমোডে ফেলে গুম করার অপচেষ্টায় ফ্লাশ করা হয়। এমপি আনার হত্যার পর ডিএমপির ডিবি প্রথমে যে তৎপরতা দেখিয়ে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তদন্তের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন এমপিকন্যা ডরিন। তিনি বলেন, আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দুই দেশের তদন্ত সংস্থা এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে উদ্ধার করা মাংস ও হাড়গুলো আমার বাবার কি না তা আজো নিশ্চিত করেনি কেউ কারণ, তা নিশ্চিত করতে হলে আমার বাবার পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর কথা। কিন্তু কোনো সংস্থাই আমাদের কারো নমুনা সংগ্রহের জন্য ডাকেনি। এতে মামলার তদন্তে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় গণমাধ্যমসহ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি দাবি করেছে, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর তার শরীর কিমা তৈরির যন্ত্র দিয়ে কিমা করা হয়। আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতা নিউ মার্কেট থেকে ২২০০ টাকায় যন্ত্রটি কিনেছিলেন। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার সিয়াম কলকাতার নিউ মার্কেটের একটি দোকান থেকে ২২০০ টাকা দিয়ে ওই যন্ত্র কিনেছিল। প্রমাণ লোপাটের জন্যই ওই কিমা করার যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। সিআইডির একাংশের দাবি, তবে ওই যন্ত্রে পুরো মাংস কিমা করা যায়নি। তাই তারা লাশটিকে ছোট ছোট টুকরো করে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয়। এর আগে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনে সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংস উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। পরে এই মাংস মানুষের কি না তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়। এদিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এমপি আজীমের মেয়ে ডরিনের ভারত সফর এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এমপি আজীমের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদের আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত কর্মকর্তা ডরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঈদের পর ভারতে যেতে হবে বলে জানান। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

এমপি আনারকন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, আমার বাবাকে হত্যার অভিযোগে দুই দেশের তদন্ত সংস্থা এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে উদ্ধার করা মাংস ও হাড়গুলো আমার বাবার কি না তা আজো নিশ্চিত করেনি কেউ। তা নিশ্চিত করতে হলে আমার বাবার পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর কথা। কিন্তু কোনো সংস্থাই আমাদের কারো নমুনা সংগ্রহের জন্য এখনো ডাকেনি। এতে মামলার তদন্তে আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ওয়ারি জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ডরিনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তবে ভারতে যাওয়ার বিষয়ে ডরিন বলতে পারবে। এ বিষয়ে আমাদের টিম আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। ভারতীয় তদন্ত সংস্থার সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন।