০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাইলেই মৃত্যুদণ্ড

● চীনের এমন পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উসকানি হিসেবে কাজ করবে : তাইওয়ান

তাইওয়ানের বিষয়ে আরো রক্ষণশীল মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে চীন। দেশটি ভূখণ্ডের চারিপাশে একের পর এক নৌ-মহড়া চালানোর পর এবার কট্টর আইন পাস করেছে। ভূখণ্ডের স্বাধীনতা চাইলেই মৃত্যুদণ্ডের আইন করেছে চীন। গত শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষকে সমর্থনকারীদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিষয়টি বিচারিক নির্দেশিকায় যুক্ত করেছে চীন। ফৌজদারি অপরাধের বিশেষ গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

চিনহুয়া জানিয়েছে, গত শুক্রবার বেইজিংয়ের জারি করা নির্দেশনায় দেশকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্নতা উসকে দেওয়ার জন্য তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থিদের শাস্তির কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া ভূখণ্ডের স্বাধীনতার প্রচেষ্টায় মূল ভূমিকা পালনকারী এবং রাষ্ট্র ও জনগণের ক্ষতিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, যারা তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষ নেবেন তাদের ১০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

চীনের এমন আদেশ জারির পর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, বেইজিং পুরো তাইওয়ানে কোনো আইনি এখতিয়ার রাখে না। এছাড়া বেইজিং নিয়ম মানতে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা তাইওয়ানের জনগণের জন্য মানা বাধ্যতামূলক নয়। চীনের এমন পদক্ষেপ তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে জনগণের মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উসকানি হিসেবে কাজ করবে। এ পদক্ষেপ বেইজিং ও তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক উন্নয়নে সহায়ক নয়।

চিনহুয়া জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে নির্দেশ দেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে বেইজিং এমন নির্দেশনা দিয়েছে। শুক্রবার থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশিকা তুলে ধরে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সান পিং বলেন, এই নির্দেশনা অনুসারে অভিযুক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর আইনি পদক্ষেপের ধারালো খড়্গ সবসময় উঁচুতে ঝুলবে। তাইওয়ানের সব জনগণকে লক্ষ করে এটি জারি করা হয়নি। কেবল তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে ওকালতি করা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে এটি জারি করা হয়েছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে চীন। ফলে এ ভূখণ্ডকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে শক্তিপ্রয়োগের কথাও জানিয়ে আসছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভূখণ্ডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে তারা। এমনকি তাইওয়ানের আশপাশে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়াও দিয়েছে চীন। গত মাসে তাওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বশেষ মহড়া চালায় তারা।
গত ২০ মে তাইওয়ানের ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য লাই ক্ষমতায় আসেন। তিনি তাইওয়ান নিয়ে তাঁর পূর্বসূরি সাই ইং ওয়েনের অবস্থানের পক্ষে অবিচল রয়েছেন। সাই ইং ওয়েন মনে করতেন, তাইওয়ান এরই মধ্যে কার্যকরভাবে স্বাধীন, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর ঘোষণার প্রয়োজন নেই। বেইজিং লাইকে বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাইপের সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে শীর্ষ স্তরের কোনো যোগাযোগ রাখেনি বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত তাইওয়ান প্রণালি যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের নজরদারিতে রাখা হয়। গত মাসেই তাইওয়ান ঘিরে জয়েন্ট সোর্ড-২০২৪এ নামের একটি তিন দিনের মহড়া করেছে বেইজিং। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ মহড়া ছিল দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ দখল করার ক্ষমতার একটি পরীক্ষা।

সিএনএন’র বিশ্লেষণ – হামলা না করেই তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
চীনের সামরিক বাহিনী তাইওয়ানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে বেইজিংয়ের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে একটি গুলিও চালাতে হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রখ্যাত এক থিংক ট্যাংক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কমিউনিস্ট পার্টি হয়তো তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী একদিন তাইওয়ান প্রয়োজনে জোরপূর্বক দখলে নেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের স্বায়ত্তশাসিত দেশটির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতির বিষয়টি সেই ভয়কে আরও জোরালো করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষক এবং সামরিক কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে চীনের ব্যাপারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবছেন। আর তা হলো- পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ অথবা সামরিক অবরোধ। কিন্তু ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) একজন থিংক ট্যাংক এ ব্যাপারে সতর্ক দিয়ে তৃতীয় একটি পন্থার কথা বলছেন। এই পন্থাটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সমমনা মিত্রদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হবে। আর সেটি হলো তাইওয়ানকে কোয়ারেন্টাইন বা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

তাইওয়ানের স্বাধীনতা চাইলেই মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪

● চীনের এমন পদক্ষেপ জনগণের মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উসকানি হিসেবে কাজ করবে : তাইওয়ান

তাইওয়ানের বিষয়ে আরো রক্ষণশীল মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে চীন। দেশটি ভূখণ্ডের চারিপাশে একের পর এক নৌ-মহড়া চালানোর পর এবার কট্টর আইন পাস করেছে। ভূখণ্ডের স্বাধীনতা চাইলেই মৃত্যুদণ্ডের আইন করেছে চীন। গত শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষকে সমর্থনকারীদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিষয়টি বিচারিক নির্দেশিকায় যুক্ত করেছে চীন। ফৌজদারি অপরাধের বিশেষ গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

চিনহুয়া জানিয়েছে, গত শুক্রবার বেইজিংয়ের জারি করা নির্দেশনায় দেশকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্নতা উসকে দেওয়ার জন্য তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থিদের শাস্তির কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া ভূখণ্ডের স্বাধীনতার প্রচেষ্টায় মূল ভূমিকা পালনকারী এবং রাষ্ট্র ও জনগণের ক্ষতিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, যারা তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষ নেবেন তাদের ১০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

চীনের এমন আদেশ জারির পর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, বেইজিং পুরো তাইওয়ানে কোনো আইনি এখতিয়ার রাখে না। এছাড়া বেইজিং নিয়ম মানতে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা তাইওয়ানের জনগণের জন্য মানা বাধ্যতামূলক নয়। চীনের এমন পদক্ষেপ তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে জনগণের মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য উসকানি হিসেবে কাজ করবে। এ পদক্ষেপ বেইজিং ও তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক উন্নয়নে সহায়ক নয়।

চিনহুয়া জানিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত এবং রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে নির্দেশ দেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ করে বেইজিং এমন নির্দেশনা দিয়েছে। শুক্রবার থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্দেশিকা তুলে ধরে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সান পিং বলেন, এই নির্দেশনা অনুসারে অভিযুক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর আইনি পদক্ষেপের ধারালো খড়্গ সবসময় উঁচুতে ঝুলবে। তাইওয়ানের সব জনগণকে লক্ষ করে এটি জারি করা হয়নি। কেবল তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে ওকালতি করা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে এটি জারি করা হয়েছে।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে চীন। ফলে এ ভূখণ্ডকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করতে শক্তিপ্রয়োগের কথাও জানিয়ে আসছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভূখণ্ডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে তারা। এমনকি তাইওয়ানের আশপাশে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়াও দিয়েছে চীন। গত মাসে তাওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট লাই চিং তে দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বশেষ মহড়া চালায় তারা।
গত ২০ মে তাইওয়ানের ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য লাই ক্ষমতায় আসেন। তিনি তাইওয়ান নিয়ে তাঁর পূর্বসূরি সাই ইং ওয়েনের অবস্থানের পক্ষে অবিচল রয়েছেন। সাই ইং ওয়েন মনে করতেন, তাইওয়ান এরই মধ্যে কার্যকরভাবে স্বাধীন, তাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর ঘোষণার প্রয়োজন নেই। বেইজিং লাইকে বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাইপের সঙ্গে ২০১৬ সাল থেকে শীর্ষ স্তরের কোনো যোগাযোগ রাখেনি বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত তাইওয়ান প্রণালি যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের নজরদারিতে রাখা হয়। গত মাসেই তাইওয়ান ঘিরে জয়েন্ট সোর্ড-২০২৪এ নামের একটি তিন দিনের মহড়া করেছে বেইজিং। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ মহড়া ছিল দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ দখল করার ক্ষমতার একটি পরীক্ষা।

সিএনএন’র বিশ্লেষণ – হামলা না করেই তাইওয়ান দখলে নিতে পারে চীন
চীনের সামরিক বাহিনী তাইওয়ানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে বেইজিংয়ের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে একটি গুলিও চালাতে হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রখ্যাত এক থিংক ট্যাংক। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কমিউনিস্ট পার্টি হয়তো তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী একদিন তাইওয়ান প্রয়োজনে জোরপূর্বক দখলে নেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের স্বায়ত্তশাসিত দেশটির বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতির বিষয়টি সেই ভয়কে আরও জোরালো করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষক এবং সামরিক কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে চীনের ব্যাপারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবছেন। আর তা হলো- পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ অথবা সামরিক অবরোধ। কিন্তু ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) একজন থিংক ট্যাংক এ ব্যাপারে সতর্ক দিয়ে তৃতীয় একটি পন্থার কথা বলছেন। এই পন্থাটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার সমমনা মিত্রদের জন্য অনেক বেশি কঠিন হবে। আর সেটি হলো তাইওয়ানকে কোয়ারেন্টাইন বা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।