০৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জোর

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 39

জোনায়েদ মানসুর

#অবৈধ পথ বন্ধ না হওয়ায় আগস্টে কমেছে রেমিট্যান্স
#রফতানি আয় বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা
#অর্থ ডিজিটাল রূপান্তরে বাড়বে রেমিট্যান্স, কমবে হুন্ডি

দেশে ডলার-সংকটের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কমছে প্রবাসী আয়। রফতানি আয়ও তেমন বাড়ছে না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও গত কয়েক মাস ধরে কম। তাই রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়াতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গত জুন মাসের মতো জুলাইয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও আগস্টে সে ধারা অব্যাহত রাখা যায়নি। সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকায়। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯ শতাংশ কম রেমিট্যান্স এসেছে। জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রবাসী আয় প্রবাহের এসব চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে গত বছরের আগস্টে দেশে ২০৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এবছরের আগস্টে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কারণে সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া, অবৈধ পথে বিদেশে অর্থ পাচারও হচ্ছে। তা ঠেকাতে হবে সরকারের। আর রিজার্ভের ডলার নিজেদের খরচ করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, রিজার্ভের ডলার নিজেদের জন্য খরচ করা উচিত না। এই ডলার দেখিয়ে তারা বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারেন। তাই দেখানোর জন্যই রিজার্ভ সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। গত ২ সেপ্টেম্বর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) আয়োজিত ‘কনভারসেশন উইথ অধ্যাপক ড.ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ’ তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রিজার্ভ একটা সময়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তখন আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। রিজার্ভে প্রচুর ডলার ছিলো বলে যখন তখন বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিলো। তখন কোনো চিন্তা করা হয়নি, কারণ অনেক ডলার ছিলো। তবে এখন রিজার্ভ থেকে ডলার কমতে থাকায় চিন্তা বাড়ছে।
তিনি বলেন, তাদের অর্থনীতি মানব সম্পদে অনেক দুর্বল। অবকাঠামোর জন্য অর্থনীতি আটকে থাকবে না। এখানের মেধাবী মানবসম্পদ বিদেশে চলে যাচ্ছে। ভারত থেকেও অনেক মানবসম্পদ বাহিরে চলে গিয়েছিলো। তারা পরবর্তীতে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগিয়েছে। তবে তারা সেরকমভাবে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগাতে পারছেন না। তাই এদিক থেকে তাদের অর্থনীতি পিছিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তায়েবুল হক বলেন, ‘মূলত ডলার ক্রাইসিস টাইমে হুন্ডি ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িতরা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তারা সরাসরি দালালের মাধ্যমে প্রবাসীদের থেকে ডলার সংগ্রহ করে দেশে থাকা তাদের সহোচরদের মাধ্যমে তা প্রবাসীর ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেনে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় আর কালোবাজারিরা লাভবান হয়ে থাকেন। ডলার ক্রাইসিস থেকে উত্তরণের আগে প্রকৃত অর্থে এ সমস্যা বন্ধ হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশে অসৎ লোক বেড়ে যাওয়ায় এসব সমস্যা প্রাতিষ্ঠানিক আকার ধারণ করা শুরু করেছে। তবে সরকারকে এ বিষয়ে আরো কঠোর হতে হবে। অন্যথায় এসব অবৈধ লেনদেনের বিস্তার ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্স কেনার জন্য দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে গত মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিলো।
বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো দেশে। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো। গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিলো ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার এসেছিলো। টানা পাঁচ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে আর যেতে পারেনি। অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আসে ১৫৪ কোটি ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে এসেছিলো ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার আসে। মার্চ এসেছিলো ২০২ কোটি ২৪ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি ৪৯ লাখ এবং মে মাসে ১৬৯ কোটি ডলার আসে। সবশেষ ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জুন মাসে আসে ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভেও টান পড়ছে। নিট রিজার্ভ (আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি) কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে।
অর্থ ডিজিটাল রূপান্তরে বাড়বে রেমিট্যান্স, কমবে হুন্ডি : কাগজের অর্থ ডিজিটালে রূপান্তর হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্বিগুণ হতো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। একইসঙ্গে হুন্ডির ব্যবসায়ও কমে আসতো বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল
‘কাগজের অর্থ ডিজিটালে রূপান্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা গ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটি যৌথ আয়োজন করে স্কলারস বাংলাদেশ সোসাইটি, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড ও টিয়ার ওয়ান সলিউশন লিমিটেড। ২০২৪ সাল নাগাদ রফতানির আকার ৮০ বিলিয়নে পৌঁছানো সম্ভব হবে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্যে সরকার কাজ করছে। তারা তৈরি পোশাকের বাহিরে রফতানি আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য ৫-৬টি পণ্যে জোর দেয়া হচ্ছে। এ পণ্যগুলো থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানির চিন্তা সরকারের। জানা গেছে, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছিলো ৫৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর রফতানির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে পণ্য খাতে ৬২ বিলিয়ন আর সেবা খাতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে সরকার। দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে পোশাক খাত থেকে। গত অর্থবছর ৫৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ অথবা ৪৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০৩০ সাল নাগাদ পোশাক খাতে রফতানির আকার ১০০ বিলিয়নে উন্নীত করতে চান এ খাতের উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে চলতি বছর পোশাক খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠান।
রফতানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা হয়নি পূরণ : আগস্টে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য রফতানি বাবদ আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি। শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো, তা পূরণ হয়নি। ওই মাসে সরকারের রফতানি বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের আগস্ট মাসে রফতানি আয় বাড়লেও সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো সেটি পূরণ হয়নি। বিদায়ী মাসে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি আয় কম হয়েছে। যা শতাংশের হিসাবে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগস্টে সরকারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ইউএস ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ রফতানি আয় কমেছে।

ইবির বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট বন্ধ করে দিল প্রশাসন 

রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জোর

আপডেট সময় : ১০:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

জোনায়েদ মানসুর

#অবৈধ পথ বন্ধ না হওয়ায় আগস্টে কমেছে রেমিট্যান্স
#রফতানি আয় বাড়লেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা
#অর্থ ডিজিটাল রূপান্তরে বাড়বে রেমিট্যান্স, কমবে হুন্ডি

দেশে ডলার-সংকটের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে কমছে প্রবাসী আয়। রফতানি আয়ও তেমন বাড়ছে না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও গত কয়েক মাস ধরে কম। তাই রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়াতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গত জুন মাসের মতো জুলাইয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও আগস্টে সে ধারা অব্যাহত রাখা যায়নি। সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকায়। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯ শতাংশ কম রেমিট্যান্স এসেছে। জুলাই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রবাসী আয় প্রবাহের এসব চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে গত বছরের আগস্টে দেশে ২০৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এবছরের আগস্টে রেমিট্যান্স কমেছে ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কারণে সঠিক হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া, অবৈধ পথে বিদেশে অর্থ পাচারও হচ্ছে। তা ঠেকাতে হবে সরকারের। আর রিজার্ভের ডলার নিজেদের খরচ করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, রিজার্ভের ডলার নিজেদের জন্য খরচ করা উচিত না। এই ডলার দেখিয়ে তারা বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পারেন। তাই দেখানোর জন্যই রিজার্ভ সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। গত ২ সেপ্টেম্বর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) আয়োজিত ‘কনভারসেশন উইথ অধ্যাপক ড.ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ’ তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রিজার্ভ একটা সময়ে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তখন আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। রিজার্ভে প্রচুর ডলার ছিলো বলে যখন তখন বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিলো। তখন কোনো চিন্তা করা হয়নি, কারণ অনেক ডলার ছিলো। তবে এখন রিজার্ভ থেকে ডলার কমতে থাকায় চিন্তা বাড়ছে।
তিনি বলেন, তাদের অর্থনীতি মানব সম্পদে অনেক দুর্বল। অবকাঠামোর জন্য অর্থনীতি আটকে থাকবে না। এখানের মেধাবী মানবসম্পদ বিদেশে চলে যাচ্ছে। ভারত থেকেও অনেক মানবসম্পদ বাহিরে চলে গিয়েছিলো। তারা পরবর্তীতে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগিয়েছে। তবে তারা সেরকমভাবে ফিরিয়ে এনে কাজে লাগাতে পারছেন না। তাই এদিক থেকে তাদের অর্থনীতি পিছিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তায়েবুল হক বলেন, ‘মূলত ডলার ক্রাইসিস টাইমে হুন্ডি ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িতরা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তারা সরাসরি দালালের মাধ্যমে প্রবাসীদের থেকে ডলার সংগ্রহ করে দেশে থাকা তাদের সহোচরদের মাধ্যমে তা প্রবাসীর ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেনে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় আর কালোবাজারিরা লাভবান হয়ে থাকেন। ডলার ক্রাইসিস থেকে উত্তরণের আগে প্রকৃত অর্থে এ সমস্যা বন্ধ হবে না। তিনি আরো বলেন, দেশে অসৎ লোক বেড়ে যাওয়ায় এসব সমস্যা প্রাতিষ্ঠানিক আকার ধারণ করা শুরু করেছে। তবে সরকারকে এ বিষয়ে আরো কঠোর হতে হবে। অন্যথায় এসব অবৈধ লেনদেনের বিস্তার ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্স কেনার জন্য দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে গত মাসগুলোতে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছিলো।
বিদায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে করোনাকালীন ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো দেশে। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিলো। গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিলো ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, আগস্টে ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার এসেছিলো। টানা পাঁচ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে আর যেতে পারেনি। অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আসে ১৫৪ কোটি ডলার, অক্টোবরে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে এসেছিলো ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার আসে। মার্চ এসেছিলো ২০২ কোটি ২৪ লাখ ডলার, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি ৪৯ লাখ এবং মে মাসে ১৬৯ কোটি ডলার আসে। সবশেষ ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জুন মাসে আসে ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
এদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভেও টান পড়ছে। নিট রিজার্ভ (আইএমএফ হিসাব পদ্ধতি) কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে।
অর্থ ডিজিটাল রূপান্তরে বাড়বে রেমিট্যান্স, কমবে হুন্ডি : কাগজের অর্থ ডিজিটালে রূপান্তর হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্বিগুণ হতো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। একইসঙ্গে হুন্ডির ব্যবসায়ও কমে আসতো বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল
‘কাগজের অর্থ ডিজিটালে রূপান্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা গ্রহণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটি যৌথ আয়োজন করে স্কলারস বাংলাদেশ সোসাইটি, ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড ও টিয়ার ওয়ান সলিউশন লিমিটেড। ২০২৪ সাল নাগাদ রফতানির আকার ৮০ বিলিয়নে পৌঁছানো সম্ভব হবে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্যে সরকার কাজ করছে। তারা তৈরি পোশাকের বাহিরে রফতানি আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ জন্য ৫-৬টি পণ্যে জোর দেয়া হচ্ছে। এ পণ্যগুলো থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানির চিন্তা সরকারের। জানা গেছে, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছিলো ৫৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর রফতানির আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে পণ্য খাতে ৬২ বিলিয়ন আর সেবা খাতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে সরকার। দেশের রফতানি আয়ের সিংহভাগই আসে পোশাক খাত থেকে। গত অর্থবছর ৫৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ অথবা ৪৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ২০৩০ সাল নাগাদ পোশাক খাতে রফতানির আকার ১০০ বিলিয়নে উন্নীত করতে চান এ খাতের উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে চলতি বছর পোশাক খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠান।
রফতানি আয়ে লক্ষ্যমাত্রা হয়নি পূরণ : আগস্টে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য রফতানি বাবদ আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলার বেশি। শতাংশের হিসেবে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে রফতানি আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো, তা পূরণ হয়নি। ওই মাসে সরকারের রফতানি বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের আগস্ট মাসে রফতানি আয় বাড়লেও সরকারের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো সেটি পূরণ হয়নি। বিদায়ী মাসে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি আয় কম হয়েছে। যা শতাংশের হিসাবে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগস্টে সরকারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪৮৭ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আয় হয়েছে ৪৭৮ কোটি ২১ লাখ ৯০ হাজার ইউএস ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ রফতানি আয় কমেছে।