➤ করের চাপে খরচ বাড়ছে মানুষের
➤ পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে ওয়াসা
➤ মোবাইল রিচার্জে ১০০ টাকায় কাটা যাবে ২৮ টাকা
➤ মেট্রো রেলে ১৫% ভ্যাটে ভাড়া বৃদ্ধির শঙ্কা
◉ মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ কষ্ট করছে। বাজেটে মূল্যোস্ফীতি কমিয়ে আনার বিষয় পরিষ্কার হয়নি- গোলাম রহমান, সভাপতি, ক্যাব
নতুন অর্থবছরে বেড়েছে খরচের চাপ। প্রতিদিনের জীবনযাপনে ব্যবহৃত হয় এরকম নানা পণ্য ও সেবার ওপর বাড়তি করে খরচের খড়গ নেমেছে সাধারণ মানুষের উপর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ায় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে জীবনযাত্রা। বর্তমানে ১০০ টাকার মূল্যের টকটাইম ও ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাহককে ১৩৩ টাকা ২৫ পয়সা খরচ করতে হয়। শুল্ক বাড়ানোয় এই খরচ বেড়ে হলো ১৩৯ টাকা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে ২৮ টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে ২৮ টাকা কেটে রাখা হবে। গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে যোগ হবে ৭২ টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মোবাইল ফোনের কল ও ইন্টারনেট সেবার সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এতে মোবাইল বিদ্যমান ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হবে। মোবাইল ফোনে রিচার্জ করার সময়ই এই টাকা কেটে নেওয়া হবে। এর আগে ২০১৫-১৬ বাজেটে মোবাইল ফোন কলের সম্পূরক শুল্ক চালু করা হয়েছিল। এই শুল্ক ৩ শতাংশ দিয়ে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। এবার তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হলো।
এই খাত সংশ্লিষ্টরা শুল্ক বাড়ানোয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত কিছুদিন ধরেই দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে। শুল্কভার বাড়ানোয় এই প্রবণতা গতি পেতে পারে। শুল্কহার বাড়িয়ে দেওয়ার ফল হিসেবে গ্রাহকরা কমিয়ে দিলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণ না-ও হতে পারে। এদিকে পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম নির্ধারণ করেছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য একই পরিমাণ পানির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সা, যা আগে ছিল ৪২ টাকা। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার সম্মানিত গ্রাহকগণের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক জানানো যাচ্ছে যে, ওয়াসা আইন ১৯৯৬ এর ২২ ধারা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করার লক্ষ্যে পানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত মিটারবিহীন হোল্ডিং, গভীর নলকূপ, নির্মাণাধীন ভবন ও ন্যূনতম বিলসহ সকল প্রকার (পানি ও পয়ঃ) অভিকরের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সর্বশেষ ২০২২ সালের জুলাইয়ে ঢাকা ওয়াসা পানির দাম পাঁচ শতাংশ বাড়িয়েছিল।
এদিকে মেট্রো রেলে ১৫ শতাংশ কর বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। তবে এখই ভাড়া বৃদ্ধি করছে না মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য করা চিঠির বিষয়ে এনবিআরের কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর তারা পায়নি। ফলে মেট্রো রেলের ভাড়া আপাতত বাড়ছে না। ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হলে মেট্রো রেলের ভাড়া বাড়বে; যা যাবে যাত্রীর পকেট থেকেই। রয়েছে জটিলতাও। মেট্রো রেলের বেশিরভাগ টিকিট ইস্যু হওয়ায় নগদ টাকার লেনদেন কম। ভাঙতি সুবিধার্থে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এর গুণিতক হিসাবে। ভ্যাট আরোপ হলে ২০ টাকার ভাড়া হবে ২৩ টাকা, ৩০ টাকার ভাড়া হবে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, ১০০ টাকার ভাড়া হবে ১১৫ টাকা। ১০ এর গুণিতক নয়, এমন অঙ্কের ভাড়া ভেন্ডিং মেশিনে আদায়ের সুযোগ নেই। এ সুবিধা চালু করতে পুরো প্রক্রিয়া বদলাতে হবে। ১০ এর গুণিতক ঠিক রাখতে হলে ভাড়া বাড়বে।
এবিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক বলেন, আমরা তাদের (এনবিআর) উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছি। যদি ভাড়ার ওপর ভ্যাট আরোপ করতে হয়ও, আমাদের কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ভ্যাট আইন অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গণপরিবহনের ভাড়ার ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। মেট্রো রেল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এর ভাড়ায় ভ্যাট চায় এনবিআর। গত এপ্রিলে সংস্থাটি জানিয়ে দেয়, মেট্রোরেলের ভাড়ায় জুলাই থেকে ভ্যাট দিতে হবে। ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য ১৯ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী আধা সরকারিপত্র (ডিও) দেন।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব গোলাম রহমান বলেন, এ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ কষ্ট করছে। এমন পরিস্থিতিতে এটি কমিয়ে আনার কথা বলা হলেও কীভাবে কমানো হবে তা পরিষ্কার হয়নি। আমি মনে করি, এ বাজেটে যে বড় ঘাটতি ধরা হয়েছে তার অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়া হবে তা উল্টো মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেবে।
























