“জেগেছেরে জেগেছে ছাত্র সমাজ জেগেছে”, “লেগেছেরে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে”- ইত্যাদি স্লোগানে নিয়ে অবরোধ করা হয়েছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে এ অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(বশেমুরবিপ্রবি)। দাবি আদায় না হলে অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানা যায়।
রবিবার(৭জুলাই) বিকেল ৫:৩০ঘটিকায় অবরোধ করা হয়েছে ঢাকা- খুলনা মহাসড়ক। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৫জুলাই(শুক্রবার) এবং ৬জুলাই(শনিবার) গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। টানা ৪ঘন্টা অবরোধ করে রাখে গোপালগঞ্জ-ঘোনাপাড়া সড়ক। আজকেও প্রায় ১ঘন্টা ঢাকা- খুলনা সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় মহাসড়কটিতে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট তৈরি হয়। গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ভোগান্তিতে ভোগে।
কোটা সংস্কার দাবি করে শিক্ষার্থীরা ঢাকা- খুলনা মহাসড়কটি অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে। এসময় সড়কে চলাচল যানবাহনগুলো বিক্ষোভ মিছিলে আটকে যায়। তৈরি হয় কোলাহল পূর্ন পরিস্থিতি। সাধারণ জনগন পড়ে যায় ভোগান্তিতে। “বাহান্নের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার”, “সারা বাংলায় খবর দে কোটা প্রথার কবর দে”-স্লোগানে মুখরিত সড়কটি।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, আমাদের দাবিগুলো খুবই সাধারন। আমরা মেধার পরিচয় দিয়ে চাকরী পেতে চাই। কোটা দিয়ে কেন চাকরী পেতে হবে! তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধ আন্দোলন করছিনা। আন্দোলন করছি বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে। পৃথিবীর কোনো দেশে বাংলাদেশের মত কোটা ব্যবস্থা নেই। কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক প্রকার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কি হবে যদি আমাকে কোটার মাধ্যমে যাচাই করা হয়! আমরা এই ব্যবস্থার সংস্কার চাই।
সড়ক অবরোধ নিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ওমর শরীফ সরকার বলেন, আমরা সাধারন জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলতে চাইনা। আমরা কোটা সংস্কার দাবি জানাচ্ছি। আমরা আশা করি সাধারন জনগন আমাদের দাবির বিপরীতে যাবেন না। তিনি বলেন, মেধার বিপরীতে যদি কোটা দিয়ে চাকরী পেতে হয় তাহলে আমরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি! আমাদের নানা কিংবা নানীরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, এটা কি আমাদের অপরাধ! আমরা কোটার সংস্কার চাই। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত কোটার সংস্কার না হবে ততদিন পর্যন্ত এই সড়ক অবরোধ থাকবে।


























