০৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

জামালপুরের সদর উপজেলায় বাঁশচড়া ইউনিয়নের বেলবেলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের পাশেই শ্রমিকেরা প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বড় ২টি মেহগনি কাটছে।

এ বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেবের নির্দেশে তারা এই গাছগুলো কাটছে।

স্থানীয়দের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, কেউ যেন এই গাছগুলো কাটতে বাধা দিতে না পারে সেজন্য তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে  থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। যার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। তবে কেউ কেউ জানান, গাছগুলি স্কুলের জমিতেই।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব সাথে বারবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার পর প্রায় চার ঘন্টা পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিটি আমার এইজন্য আমি শ্রমিকদের নির্দেশ দিয়ে এই গাছগুলো কাটিয়েছি।

জমির কাগজপত্র দেখিয়ে তার কাছে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,  আমি সকালে লেবারদের গাছ কাটার কথা নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা কেন গাছগুলো কেটেছে আমার জানা নেই।

স্কুলের জমির বি আর এস পর্চা অনুযায়ী দেখা যায় ২৩৯,  ২৪০  এবং ৩৫৬ নম্বর দাগের যথাক্রমে  ৩১.৩৩,   ০৮  ও  ১২.৬৭ শতাংশ  অর্থাৎ মোট ৫২  শতাংশ জমি বেলবেলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে যে গাছ দুটি কাটা হয়েছে সেগুলো বি আর এস ২৪০ নং দাগের ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং কিছু অংশ এলাকার সরকারী রাস্তায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব এর বিরুদ্ধে এর আগেও অত্র বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগসহ বি আর এস ৩৫৬ নং দাগের ১২.৬৭ শতাংশ জমি তিনি দীর্ঘদিন থেকে ভোগ দখল করে চাষাবাদ করছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক জানান, আমি এই গাছ কাটার বিষয়ে অবগত নই। যদি কেউ স্কুলের কোন গাছ কাটতে চায় তাহলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তা কাটতে হবে এবং যার মূল্য বন বিভাগ নির্ধারণ করবে। আমরা এর সঠিক তদন্ত করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

জামালপুরের সদর উপজেলায় বাঁশচড়া ইউনিয়নের বেলবেলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় স্কুলের পাশেই শ্রমিকেরা প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বড় ২টি মেহগনি কাটছে।

এ বিষয়ে শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেবের নির্দেশে তারা এই গাছগুলো কাটছে।

স্থানীয়দের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, কেউ যেন এই গাছগুলো কাটতে বাধা দিতে না পারে সেজন্য তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে  থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। যার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। তবে কেউ কেউ জানান, গাছগুলি স্কুলের জমিতেই।

প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব সাথে বারবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার পর প্রায় চার ঘন্টা পরে তিনি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন।
এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিটি আমার এইজন্য আমি শ্রমিকদের নির্দেশ দিয়ে এই গাছগুলো কাটিয়েছি।

জমির কাগজপত্র দেখিয়ে তার কাছে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,  আমি সকালে লেবারদের গাছ কাটার কথা নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা কেন গাছগুলো কেটেছে আমার জানা নেই।

স্কুলের জমির বি আর এস পর্চা অনুযায়ী দেখা যায় ২৩৯,  ২৪০  এবং ৩৫৬ নম্বর দাগের যথাক্রমে  ৩১.৩৩,   ০৮  ও  ১২.৬৭ শতাংশ  অর্থাৎ মোট ৫২  শতাংশ জমি বেলবেলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে যে গাছ দুটি কাটা হয়েছে সেগুলো বি আর এস ২৪০ নং দাগের ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে এবং কিছু অংশ এলাকার সরকারী রাস্তায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব এর বিরুদ্ধে এর আগেও অত্র বিদ্যালয়ের গাছ কাটার অভিযোগসহ বি আর এস ৩৫৬ নং দাগের ১২.৬৭ শতাংশ জমি তিনি দীর্ঘদিন থেকে ভোগ দখল করে চাষাবাদ করছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক জানান, আমি এই গাছ কাটার বিষয়ে অবগত নই। যদি কেউ স্কুলের কোন গাছ কাটতে চায় তাহলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তা কাটতে হবে এবং যার মূল্য বন বিভাগ নির্ধারণ করবে। আমরা এর সঠিক তদন্ত করব এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।