০৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন করে রোহিঙ্গা আসছে বাংলাদেশ : একদিনে অনুপ্রবেশ করেছে ৫০০

Oplus_131072

মায়ানমার থেকে এক দিনেই অনুপ্রবেশ করেছে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা। সীমান্তের ওপারে প্রবেশের অপেক্ষায় আরো হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ, শিশুরাও রয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার ভোর রাত থেকে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একদিনেই অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা প্রবেশ করে উখিয়া -টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে শুক্রবার কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে এসেছে আরও দুই শতাধিক। গত দুই সপ্তাহে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কমপক্ষে আট হাজার রোহিঙ্গা।
এ ছাড়া মিয়ানমারের মংডুর মনিপাড়া, সিকদারপাড়া ও আইরপাড়া এলাকায় অন্তত অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানাযায়।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, রাখাইনের মংডু টাউনশিপের বিপরীতে চার কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদ পেরোলেই বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলা। রাতের অন্ধকারে মংডু টাউনশিপের সুদাপাড়া, ফয়েজীপাড়া, সিকদারপাড়া ও নুরুল্লাপাড়া গ্রাম থেকে রোহিঙ্গারা নৌকা নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে সহজেই।
শনিবার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে ক্যাম্প-১-এর বি-ব্লকে আশ্রয় নিয়েছে সাব্বির আহমদ। তিনি জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে টেকনাফের জাদিমুড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। কোন রকম জীবন রক্ষার জন্য তারা সপরিবারে পালিয়ে এসেছেন বলেও জানান এই রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার থেকে শুক্রবার পালিয়ে ক্যাম্প ১এ আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ জাকের বলেন, স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন সীমান্তে দু’দিন অপেক্ষার পর শুক্রবার কৌশলে পার হয়ে ক্যাম্পে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, নতুন করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে চাঁদাবাজির টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিও হয়েছে।
একাধিক রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপকালে জানা যায় বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে জাদিমোরা, দমদমিয়া, কেরুনতলি, বরইতলি, নাইট্যংপাড়া, জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলারচর, খুরেরমুখ, আলীর ডেইল, মহেষখালীয়াপাড়া, লম্বরী, তুলাতলি, রাজারছড়া, বাহারছড়া সীমান্ত এবং উপকূল দিয়ে।
টেকনাফে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন বলেন, কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ঢুকে পড়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা যেন ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে আশ্রয়শিবিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। অনুপ্রবেশের সময় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নাফ নদ থেকে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ ‘জুলাই যোদ্ধা’ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন

নতুন করে রোহিঙ্গা আসছে বাংলাদেশ : একদিনে অনুপ্রবেশ করেছে ৫০০

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
মায়ানমার থেকে এক দিনেই অনুপ্রবেশ করেছে অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা। সীমান্তের ওপারে প্রবেশের অপেক্ষায় আরো হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী পুরুষ, শিশুরাও রয়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর, শনিবার ভোর রাত থেকে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে একদিনেই অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা প্রবেশ করে উখিয়া -টেকনাফের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে শুক্রবার কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে এসেছে আরও দুই শতাধিক। গত দুই সপ্তাহে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে কমপক্ষে আট হাজার রোহিঙ্গা।
এ ছাড়া মিয়ানমারের মংডুর মনিপাড়া, সিকদারপাড়া ও আইরপাড়া এলাকায় অন্তত অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানাযায়।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, রাখাইনের মংডু টাউনশিপের বিপরীতে চার কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদ পেরোলেই বাংলাদেশের টেকনাফ উপজেলা। রাতের অন্ধকারে মংডু টাউনশিপের সুদাপাড়া, ফয়েজীপাড়া, সিকদারপাড়া ও নুরুল্লাপাড়া গ্রাম থেকে রোহিঙ্গারা নৌকা নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে সহজেই।
শনিবার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে ক্যাম্প-১-এর বি-ব্লকে আশ্রয় নিয়েছে সাব্বির আহমদ। তিনি জানান, তাঁর দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে টেকনাফের জাদিমুড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। কোন রকম জীবন রক্ষার জন্য তারা সপরিবারে পালিয়ে এসেছেন বলেও জানান এই রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার থেকে শুক্রবার পালিয়ে ক্যাম্প ১এ আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ জাকের বলেন, স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজন সীমান্তে দু’দিন অপেক্ষার পর শুক্রবার কৌশলে পার হয়ে ক্যাম্পে এসেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, নতুন করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাছে চাঁদাবাজির টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিও হয়েছে।
একাধিক রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপকালে জানা যায় বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে জাদিমোরা, দমদমিয়া, কেরুনতলি, বরইতলি, নাইট্যংপাড়া, জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ, জালিয়াপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ঘোলারচর, খুরেরমুখ, আলীর ডেইল, মহেষখালীয়াপাড়া, লম্বরী, তুলাতলি, রাজারছড়া, বাহারছড়া সীমান্ত এবং উপকূল দিয়ে।
টেকনাফে আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন বলেন, কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ঢুকে পড়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা যেন ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে আশ্রয়শিবিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। অনুপ্রবেশের সময় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নাফ নদ থেকে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।