◉ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা বাড়াচ্ছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা
◉ নেতাকর্মীদের থানায় অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ
◉ জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে অভিযোগ জানানোর পরিকল্পনা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সারা দেশে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। দলের সভাপতি পালিয়ে যান দেশের বাইরে, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা আছেনর আত্মগোপনে না হয় কারাগারে। মামলা-হামলায় নাজেহাল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীরাও। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই দলটির ভবিষ্যতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনকালে বিরোধীদের দমন-পীড়ন ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকায় সামাজিকভাবেই বয়কটের মুখে দলটি ও দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে গোপনে সক্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে দলটির তৃণমূল কর্মীদের।
গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর তার সরকারি বাসভবন গণভবন দখল নেয় ছাত্র-জনতা। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, ধানমন্ডি ৩ এর দলীয় সভাপতির কার্যালয় এবং গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিন্যুয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এছাড়াও সারা দেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। সেদিনের পর থেকে আত্মগোপনে বা আড়ালে চলে যান আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পরে ১৫ আগস্ট শোক দিবস ঘিরে দলটি রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও ছাত্র-জনতার বাঁধার মুখে তা সফল হয়নি। এরপর অনেকটা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ দলটি।
গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের ফেরিফাইড পেজে দাবি করা হয়, দলের তৃণমূলের ৫০ হাজার কর্মী করুণ অবস্থায় আছে। ‘দুস্থ তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান’ শিরোনামে পোস্টে বলা হয়েছে, সারা দেশ থেকে অনলাইনেই জুলাই-আগস্ট পুরো মাস এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি, যা এখনো চলমান। এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুঃস্থ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। তৃণমূলের প্রায় ৫০ হাজার কর্মী ই-মেইলে ও মেসেজের মাধ্যমে তাদের করুণ অবস্থার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে অনুরোধ করেছেন তাদের পরিবারগুলোকে বাঁচাতে। অনেকেই মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে বাড়িতেও অবস্থান করতে পারছেন না।’
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এক পোস্টে নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের শিকার হওয়া আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের থানায় অভিযোগ দায়েরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। ফেসবুকের পোস্টে বলা হয়, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুসন্ধান টিম এখন বাংলাদেশে। তারা ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করবে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করবে। আপনার বা আপনার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিবরণ লিখে, থানায় অভিযোগ দিন, অভিযোগ না নিতে চাইলে সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করুন। যদি সাধারণ ডায়েরিও করতে না দেয় তাহলে আমরা জাতিসংঘের তদন্ত টিমের কাছে দলীয়ভাবে অভিযোগ দেব।





















