সারাদেশে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার বিচার দাবি করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা একদল শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগ ও পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদ সরকারের গণহত্যার সাথে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্তরে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য’ এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সেখানে তারা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য’ এর আহ্বায়ক মুতাছিম ভুঁইয়া রাফিদ বলেন, হাসিনা পালিয়েছে কিন্তু ফ্যাসিবাদ পালায় নাই। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো সরকারের বিভিন্ন জায়গায় বহাল তবিয়তে আছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড ছাত্রলীগকে দেশ থেকে পালাতে সহায়তা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা চিহ্নিত হওয়ার পরেও তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না। গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিবাদের দোসর ছাত্রলীগের বিচার না হলে আন্দোলনে শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানী করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য’ এর যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম আশরাফ অর্ণব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনী সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও আমরা দেখতে পাই না। নারকীয় তাণ্ডব চালানো পুলিশ অভিসারদেরকে কেন বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে না এ প্রশ্নের উত্তর আমরা রাষ্ট্রের কাছে চাই।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন-
1. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অপকর্মের তদন্ত করতে হবে।
2. তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাপোযুক্ত মামলা দিতে হবে।
3. ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বানিয়ে বিগত ১৫ বছরের সব অপকর্ম উন্মোচন করতে হবে।
4. গত ১৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে হবে। ফ্যাসিজমের দোসর যেসব শিক্ষক আছেন তাদের অপসারণ করতে হবে।
5. বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ম্যুরাল, স্থাপনার নামকরণ কিংবা এধরণের পদক্ষেপ নিতে হবে।
6. বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ বছরে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের বক্তব্য সামনে আনতে হবে এবং ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ সময় তারা জানান, মুতাসিম ভূঁইয়া রাফিদকে আহ্বায়ক এবং এস এম তানিম ও
তানজীম আশহাব অর্ণবকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য’ গঠন করা হয়েছে। তবে এখানো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।

























