০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্যা ও ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের হাজারো মানুষ

টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। বন্যা ও ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট কয়েক দিন ধরে খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নিম্না ল ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ও নিম্না ল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় দু’ হাজার পাঁচ শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশ কিছু স্থানে তিস্তার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে চর ও নিম্না লের আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষেত ও চলাচলের সড়ক। ভেসে গেছে মাছের পুকুর-খামার। অনেকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও টানা বৃষ্টিপাতে পানি বাড়ার ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি, বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার দশমিক ২ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ পয়েন্টে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে বিপদসীমা অতিক্রম করে। বাইশ পুকুর এলাকার বাবু মিয়া বলেন, আমাদের বাড়িতে পানি উঠেছে। এরকম পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদীন বলেন, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবগুলো জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় ডিমলা উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর বিভাগসহ দেশের বেশিভাগ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, তিস্তার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। আমরা খোঁজখবর রাখছি। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক দেখভাল করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা ও ভাঙন আতঙ্কে নদী পাড়ের হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ১০:৩০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করছে। পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। বন্যা ও ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট কয়েক দিন ধরে খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নিম্না ল ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ও নিম্না ল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় দু’ হাজার পাঁচ শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশ কিছু স্থানে তিস্তার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে চর ও নিম্না লের আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষেত ও চলাচলের সড়ক। ভেসে গেছে মাছের পুকুর-খামার। অনেকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও টানা বৃষ্টিপাতে পানি বাড়ার ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি, বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার দশমিক ২ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ পয়েন্টে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে বিপদসীমা অতিক্রম করে। বাইশ পুকুর এলাকার বাবু মিয়া বলেন, আমাদের বাড়িতে পানি উঠেছে। এরকম পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদীন বলেন, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবগুলো জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আব্দুস সবুর মিয়া বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় ডিমলা উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর বিভাগসহ দেশের বেশিভাগ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, তিস্তার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। আমরা খোঁজখবর রাখছি। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সার্বিক দেখভাল করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।