চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতে আলাওল হলে গাঁজা সেবনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাঁচ শিক্ষার্থী।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে সাড়ে ১২ টার দিকে আলাওল হলের ২৩৪ নম্বর রুম থেকে তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতিতে ৪ জন থেকে গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাইদ বিন কামাল।
এসময় ধরা পড়া পাঁচ শিক্ষার্থী হলো- রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো. আনোয়ারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মিজানুর রহমান, দর্শন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. টুটুল হাসান এবং ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. মানিক।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মোজাম্মেল হক বিভিন্ন হলের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে আলাওল হলের ২৩৪ নং কক্ষে নিয়মিত গাঁজার আসর বসান। সরেজমিনে দেখা যায়, তার সাথে আরো ৪ জন শিক্ষার্থী মাদক সেবন করছিলেন। ৪ জনের পকেটে পাওয়া গেছে মাদকের প্যাকেট।
হলে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২৩৪ নং রুমের পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় একধরনের দুর্গন্ধ পান। পরে প্রক্টরকে বিষয়টি জানালে দুজন সহকারী প্রক্টর রুমে গিয়ে তাদের হাতেনাতে ধরেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসকো (ডিসেবল স্টুডেন্ট সোসাইটি অব চিটাগাং ইউনিভার্সিটি) সভাপতি শিহাব উদ্দিন বলেন, আজকের ঘটনায় যে পাঁচজন অপরাধী ধরা পড়েছে তাদের দায় আমাদের সংগঠন (ডিসকো) নিবে না। আমাদের সংগঠন সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আজকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে তাতে আমাদের সংগঠনের কোনো আপত্তি নেই। তবে আমাদের একটাই দাবি শিক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে এর প্রভাব যেনো আমাদের উপর না পড়ে।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাদিম হোসেন বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের কিছু বিষয়ে ডিজেবল করে পাঠিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছে। আজকে গুটিকয়েকজনের জন্য শিক্ষার্থীরা যেনো আমাদের ভুল না বুঝে। আমরা সবসময় তাদের সহযোগিতা কামনা করি।
সহকারী প্রক্টর সাইদ বিন কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আমরা ৫ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে গাঁজা সেবনে ধরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী হল প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

























