০৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট চোরাচালানের পিছনে থাকা খলনায়কদের রক্ষাকর্তা কারা

সিলেটে সীমান্ত এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থকর্মকর্তারা দফায়-
দফায় মিটিংয়ে বসছেন। তবুও চোরাকারবারিদের লাগান টানা যাচ্ছেনা। সীমান্ত এলাকার চোরাচারালান বন্ধ করতে
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, সিলেট এসএমপি কমিশনার, চোরাচালান বিরোধী
ট্রাক্সফোর্স, চোরাচালান মনিটরিংসেল প্রতিমাসে করছেন একাধিক সভা। তবে দিন শেষে ফলাফল জিরো। সূত্র
বলছে পদস্থ কর্মকর্তা চোরাচালান বন্ধে তৎপর হলেও তাদের অধিনস্থ ওসি-দারোগারা জড়িয়ে পড়ছেন চোরাচালানের
সাথে। সীমান্ত এলাকার থানার ওসিরা দিনে ডিআইজি, কমিশনার, এসপির মিটিংয়ে অংশ নিলেও রাতে থানায়
ঠিকই বসেন চোরাচালানের লাইনম্যানদের নিয়ে। এসব মিটিং হলে থানার ওসিরা ঘুষের রেইট বৃদ্ধি সুযোগ পান।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী চারটি থানার ওসি ও জেলা ডিবি (ওসি উত্তর) সরাসরি
জড়িত এসব চোরাচালানের সাথে। চোরাচালানের ল্যাইন নিয়োগ দিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার
তোফায়েল আহমদে মাসিক প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। এই থানার সব কয়টি ভিট অফিসার
চোরাচালান থেকে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে চোরাকারবারিদের সহযোগীতা করে থাকেন।
জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদারুজ্জামান তিনি প্রতি মাসে চোরাচালান থেকে প্রতিমাসে
প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এই থানা এলাকায় সিলেটের শীর্ষ চোরাকাবারীদের বাড়ি ওচোরাচালানের সর্বচ্চ
ঘাঁটি হরিপুর ও দরবস্ত বাজার অবস্থিত। কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল তিনি চোরাচালান থেকে প্রতি
মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তার থানা এলাকার ভিতর দিয়ে সীমান্তের চোরাইপন্য নিরাপদে সিলেট
শহরে পৌঁছে বলে চোরাকারবারিরা নিশ্চিত করেন। জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না চোরাচালান থেকে
প্রতি মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। সিলেট জেলা ডিবি (উত্তরের ডিসি) ওসি আলী আশরাফ
প্রতিমাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তিনি প্রতিমাসে নতুন-নতুন লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে
থাকেন। এসব ঘুষের টাকা চোরাকারবারিরা পুলিশের নিয়োগকৃত লাইনম্যানের মাধ্যমে থানায় প্রতি সপ্তাহে
পৌঁছেদেন। পুলিশের পাশাপাশি পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররাও জড়িত
রয়েছেন এসব চোরাচালানের সাথে। তাদেরও রয়েছে নিয়োগকৃত নিজস্ব লাইনম্যান। সীমান্তের পর সিলেট
এসএমপি দক্ষিণ জোনের শাহপরান থানার ওসি মনির হোসেন, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান,
মোগলাবাজার থানার ওসি ফয়সাল আহমদ চোরাচালান থেকে প্রতি সপ্তাহে বড় অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে লাইন
ক্লিয়ার দিয়ে থাকেন। বিগত সরকারে আমলে চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,
ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। পট পরিবর্তনের পরে তা নিয়ন্ত্রন করছেন কতিপয় নামধারী কিছু বিএনপি,
যুবদল,ছাত্রদলে নেতাকর্মীরা। চোরাচালান ব্যবসায় পুরাতনদের সাথে নতুন কিছু লোক জড়িত হয়েছে। সিলেটের
গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শতাধিক স্থান দিয়ে
চোরাই পণ্য দিনে রাতে প্রকাশ্যে প্রবেশ করছে শহরে। সে সব পন্য আবার সারাদেশে পাঠানো হচ্ছে কাভার্ড ভ্যান,
বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে। ভারত থেকে এসব পণ্য স্থানীয় ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত। এই‘বুঙ্গার মালে’
সয়লাব এখন সিলেটের বিভিন্ন বাজার। কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের কাছে দাম আকাশচুম্বি ও ক্রেতাদের নাগালের
বাহিরে। সীমান্ত দিয়ে যে সবল চোরাইপণ্যে দেশে আসে সেগুলোর মধ্যে টিনি, কসমেটিক্স-কিট, মাদক, শাড়ী,
থ্রিপিছ, আপেল, কম্বল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য। চোরাকারবারির ভাষ্যমতে, আগে প্রতিদিন গড়ে
দেড় থেকে দুই কোটি টাকার চিনি আসত। বর্তমানে ৫-৭ কোটি টাকায় বেড়েছে। এসব চিনি তামাবিল-
জৈন্তাপুর-সিলেট, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, সিলেট সুনামগঞ্জ, গোয়াইনঘাট এয়ারপোর্ট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও
ভোলাগঞ্জ-কোম্পানীগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সিলেট নগরীর পাইকারি বাজার কালীঘাটসহ দেশের
বিভিন্ন স্থানে যায়। মহাসড়ক দিয়ে এখন প্রতি ট্রাক চিনি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় পার করিয়ে দিচ্ছে
কয়েকটি সিন্ডিকেট। একই ভাবে অন্যান্য পণ্যের প্রকার অনুযায়ী ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।
তবে বিজিবি ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এখন পাশাপাশি র‌্যাব-৯ ও চোরাইপন্য মাদকদ্রব্য উদ্ধারে
কাজ করছে। এরপরও কিছু চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবার চালাচ্ছেন। এদিকে
সিলেট সীমান্তে প্রতিদিন ধরা পড়ছে কোটি-কোটি টাকার চোরাই পন্য আবার উপরের চাপে মাঝে মধ্যে অভিযুক্ত
ওসিরা আইওয়াশ হিসাবে উপর মহলকে শান্ত রাখতে দু-একটি অভিযান চালাচ্ছেন। তবে এবার সবচেয়ে বেশী
চোরাচালানেরপণ্য আটক করছে বিজিবির সদস্যরা। গত ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত সিলেট ও
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার চোরাচালানকৃত পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ,
বিজিবি, র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য তাদের হাতে ধরা পড়েনি কোন শীর্ষ চোরাকারবারী। কারণ মামলা
দায়েরের আগেই মূলকারবারীরা থানার ওসির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে আটক মাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ব্যার্থ হলে
মামলায় যেনো নিজের নাম আসে সেই জন্য বড় অংকের ঘুষ প্রদান করা হয় সেই থানার ওসিকে। এসব
চোরাকারবারে সিলেটের প্রভাবশালী অনেক কোটিপতি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি বিনিয়োগ করে থাকেন।
এজেন্ট ও নিম্ন আয়ের মানুষ দিয়ে কৌশলে তারা এই কারবার চালিয়ে যান। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান
পর্দার আড়ালে থাকা রাগবোয়ালরা। মাঝে মধ্যে অভিযানকালে যারা ধরা পড়েন তাদের বেশিরভাগই পরিবহন চালক, হেলপার
কিংবা চালানের বাহক।

চোরাচালান প্রতিরাধে নিয়ে কি ভাবছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ কতর্মকর্তারা: গত ২৩ ডিসেম্বর
সোমবার সিলেট রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উঠে আসে সীমান্তের চোরাচালানের বিষয়টি। সভায়
উপস্তিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো‌ঃ মুশফেকুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার এসপিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
সভায় ডিআইজি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান
করে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের নির্দেশ প্রদান করেন। একই দিন এসএমপি
পুলিশের কমিশনারের নেতৃত্বে হয় তাদের ডিসেম্বর মাসের কল্যান সভা। উপস্তিত ছিলেন দুটি জোনের ডিসিরা
এবং বিভিন্ন ইউনিটের পদস্থ কর্মকর্তারা। সেই সভায়ও উঠে আসে চোরাচালানের বিষয়টি। দেওয়া হয় কঠোর
নির্দেশেনা। এর আগের দিন ২২ ডিসেম্বর ছিলো জেলা চোরাচালান মামলা মনিটরিং সেলর মাসিক সভা,জেলা
ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে সেই সভায় উপস্তিত ছিলেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিজির
কর্মকর্তারা, কাস্টমসের বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে। কিন্তু তার পরেই বন্ধ হয়নি সীমান্তের চোরাচালান।
এবিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক, শেরই মাহবুব মুরাদ বলেন, পট পরিবর্তনের পর প্রায় শত কোটি টাকার চোরাইপন্য
পুলিশ ও বিজিবি আটক করেছে। মুলহুতাদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। চোরাচালান
প্রতিরোধে জিরোটলারেন্সনীতি অবলম্বন করতে আমাদের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
সিলেট বিজিবির ৪৮ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত
এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং প্রচুর চোরাইপন্য আটক করেছে। এছাড়া মুলহুতাদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্ধা
তৎপরতা বৃদ্ধি পাশাপাশি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত থানার ওসিররা কেউ ই কোন রকম বক্তব্য দিতে রাজি না
হওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট চোরাচালানের পিছনে থাকা খলনায়কদের রক্ষাকর্তা কারা

আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

সিলেটে সীমান্ত এখন চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। চোরাচালান বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থকর্মকর্তারা দফায়-
দফায় মিটিংয়ে বসছেন। তবুও চোরাকারবারিদের লাগান টানা যাচ্ছেনা। সীমান্ত এলাকার চোরাচারালান বন্ধ করতে
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি, সিলেট এসএমপি কমিশনার, চোরাচালান বিরোধী
ট্রাক্সফোর্স, চোরাচালান মনিটরিংসেল প্রতিমাসে করছেন একাধিক সভা। তবে দিন শেষে ফলাফল জিরো। সূত্র
বলছে পদস্থ কর্মকর্তা চোরাচালান বন্ধে তৎপর হলেও তাদের অধিনস্থ ওসি-দারোগারা জড়িয়ে পড়ছেন চোরাচালানের
সাথে। সীমান্ত এলাকার থানার ওসিরা দিনে ডিআইজি, কমিশনার, এসপির মিটিংয়ে অংশ নিলেও রাতে থানায়
ঠিকই বসেন চোরাচালানের লাইনম্যানদের নিয়ে। এসব মিটিং হলে থানার ওসিরা ঘুষের রেইট বৃদ্ধি সুযোগ পান।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী চারটি থানার ওসি ও জেলা ডিবি (ওসি উত্তর) সরাসরি
জড়িত এসব চোরাচালানের সাথে। চোরাচালানের ল্যাইন নিয়োগ দিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার
তোফায়েল আহমদে মাসিক প্রায় ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। এই থানার সব কয়টি ভিট অফিসার
চোরাচালান থেকে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়ে চোরাকারবারিদের সহযোগীতা করে থাকেন।
জৈন্তাপুর থানার ওসি আবুল বাসার মোহাম্মদ বদারুজ্জামান তিনি প্রতি মাসে চোরাচালান থেকে প্রতিমাসে
প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এই থানা এলাকায় সিলেটের শীর্ষ চোরাকাবারীদের বাড়ি ওচোরাচালানের সর্বচ্চ
ঘাঁটি হরিপুর ও দরবস্ত বাজার অবস্থিত। কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল তিনি চোরাচালান থেকে প্রতি
মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তার থানা এলাকার ভিতর দিয়ে সীমান্তের চোরাইপন্য নিরাপদে সিলেট
শহরে পৌঁছে বলে চোরাকারবারিরা নিশ্চিত করেন। জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না চোরাচালান থেকে
প্রতি মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। সিলেট জেলা ডিবি (উত্তরের ডিসি) ওসি আলী আশরাফ
প্রতিমাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। তিনি প্রতিমাসে নতুন-নতুন লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে
থাকেন। এসব ঘুষের টাকা চোরাকারবারিরা পুলিশের নিয়োগকৃত লাইনম্যানের মাধ্যমে থানায় প্রতি সপ্তাহে
পৌঁছেদেন। পুলিশের পাশাপাশি পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প কামান্ডাররাও জড়িত
রয়েছেন এসব চোরাচালানের সাথে। তাদেরও রয়েছে নিয়োগকৃত নিজস্ব লাইনম্যান। সীমান্তের পর সিলেট
এসএমপি দক্ষিণ জোনের শাহপরান থানার ওসি মনির হোসেন, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান,
মোগলাবাজার থানার ওসি ফয়সাল আহমদ চোরাচালান থেকে প্রতি সপ্তাহে বড় অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে লাইন
ক্লিয়ার দিয়ে থাকেন। বিগত সরকারে আমলে চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলো আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,
ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। পট পরিবর্তনের পরে তা নিয়ন্ত্রন করছেন কতিপয় নামধারী কিছু বিএনপি,
যুবদল,ছাত্রদলে নেতাকর্মীরা। চোরাচালান ব্যবসায় পুরাতনদের সাথে নতুন কিছু লোক জড়িত হয়েছে। সিলেটের
গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শতাধিক স্থান দিয়ে
চোরাই পণ্য দিনে রাতে প্রকাশ্যে প্রবেশ করছে শহরে। সে সব পন্য আবার সারাদেশে পাঠানো হচ্ছে কাভার্ড ভ্যান,
বালু ভর্তি ট্রাক দিয়ে। ভারত থেকে এসব পণ্য স্থানীয় ভাবে ‘বুঙ্গার মাল’ নামে পরিচিত। এই‘বুঙ্গার মালে’
সয়লাব এখন সিলেটের বিভিন্ন বাজার। কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের কাছে দাম আকাশচুম্বি ও ক্রেতাদের নাগালের
বাহিরে। সীমান্ত দিয়ে যে সবল চোরাইপণ্যে দেশে আসে সেগুলোর মধ্যে টিনি, কসমেটিক্স-কিট, মাদক, শাড়ী,
থ্রিপিছ, আপেল, কম্বল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, গরুসহ বিভিন্ন পণ্য। চোরাকারবারির ভাষ্যমতে, আগে প্রতিদিন গড়ে
দেড় থেকে দুই কোটি টাকার চিনি আসত। বর্তমানে ৫-৭ কোটি টাকায় বেড়েছে। এসব চিনি তামাবিল-
জৈন্তাপুর-সিলেট, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, সিলেট সুনামগঞ্জ, গোয়াইনঘাট এয়ারপোর্ট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও
ভোলাগঞ্জ-কোম্পানীগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সিলেট নগরীর পাইকারি বাজার কালীঘাটসহ দেশের
বিভিন্ন স্থানে যায়। মহাসড়ক দিয়ে এখন প্রতি ট্রাক চিনি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় পার করিয়ে দিচ্ছে
কয়েকটি সিন্ডিকেট। একই ভাবে অন্যান্য পণ্যের প্রকার অনুযায়ী ট্রাক প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়।
তবে বিজিবি ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন এখন পাশাপাশি র‌্যাব-৯ ও চোরাইপন্য মাদকদ্রব্য উদ্ধারে
কাজ করছে। এরপরও কিছু চক্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবার চালাচ্ছেন। এদিকে
সিলেট সীমান্তে প্রতিদিন ধরা পড়ছে কোটি-কোটি টাকার চোরাই পন্য আবার উপরের চাপে মাঝে মধ্যে অভিযুক্ত
ওসিরা আইওয়াশ হিসাবে উপর মহলকে শান্ত রাখতে দু-একটি অভিযান চালাচ্ছেন। তবে এবার সবচেয়ে বেশী
চোরাচালানেরপণ্য আটক করছে বিজিবির সদস্যরা। গত ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারী পর্যন্ত সিলেট ও
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার চোরাচালানকৃত পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ,
বিজিবি, র‌্যাব সদস্যরা। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য তাদের হাতে ধরা পড়েনি কোন শীর্ষ চোরাকারবারী। কারণ মামলা
দায়েরের আগেই মূলকারবারীরা থানার ওসির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে আটক মাল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। ব্যার্থ হলে
মামলায় যেনো নিজের নাম আসে সেই জন্য বড় অংকের ঘুষ প্রদান করা হয় সেই থানার ওসিকে। এসব
চোরাকারবারে সিলেটের প্রভাবশালী অনেক কোটিপতি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি বিনিয়োগ করে থাকেন।
এজেন্ট ও নিম্ন আয়ের মানুষ দিয়ে কৌশলে তারা এই কারবার চালিয়ে যান। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান
পর্দার আড়ালে থাকা রাগবোয়ালরা। মাঝে মধ্যে অভিযানকালে যারা ধরা পড়েন তাদের বেশিরভাগই পরিবহন চালক, হেলপার
কিংবা চালানের বাহক।

চোরাচালান প্রতিরাধে নিয়ে কি ভাবছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ কতর্মকর্তারা: গত ২৩ ডিসেম্বর
সোমবার সিলেট রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উঠে আসে সীমান্তের চোরাচালানের বিষয়টি। সভায়
উপস্তিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো‌ঃ মুশফেকুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার এসপিসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
সভায় ডিআইজি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান
করে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের নির্দেশ প্রদান করেন। একই দিন এসএমপি
পুলিশের কমিশনারের নেতৃত্বে হয় তাদের ডিসেম্বর মাসের কল্যান সভা। উপস্তিত ছিলেন দুটি জোনের ডিসিরা
এবং বিভিন্ন ইউনিটের পদস্থ কর্মকর্তারা। সেই সভায়ও উঠে আসে চোরাচালানের বিষয়টি। দেওয়া হয় কঠোর
নির্দেশেনা। এর আগের দিন ২২ ডিসেম্বর ছিলো জেলা চোরাচালান মামলা মনিটরিং সেলর মাসিক সভা,জেলা
ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে সেই সভায় উপস্তিত ছিলেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিজির
কর্মকর্তারা, কাস্টমসের বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে। কিন্তু তার পরেই বন্ধ হয়নি সীমান্তের চোরাচালান।
এবিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসক, শেরই মাহবুব মুরাদ বলেন, পট পরিবর্তনের পর প্রায় শত কোটি টাকার চোরাইপন্য
পুলিশ ও বিজিবি আটক করেছে। মুলহুতাদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। চোরাচালান
প্রতিরোধে জিরোটলারেন্সনীতি অবলম্বন করতে আমাদের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
সিলেট বিজিবির ৪৮ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত
এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং প্রচুর চোরাইপন্য আটক করেছে। এছাড়া মুলহুতাদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্ধা
তৎপরতা বৃদ্ধি পাশাপাশি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত থানার ওসিররা কেউ ই কোন রকম বক্তব্য দিতে রাজি না
হওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।