০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হবে – রংপুরে বিএফইউজে মহাসচিব

সব ভয়-ভীতি ও লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে জাতির সামনে সত্য তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হবে। যাদের এই সাহস নেই তাদের জন্য সাংবাদিকতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিকতার নামে কী হয়েছে, সেটা সবার জানা। এমন পতন ও পচনমুখী সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ১১ জানুয়ারি শনিবার বিকালে রংপুর টাউন হলে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) আয়োজিত বিভাগীয় সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২৪ এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা ও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সদস্য শামসি আরা জামান কলি।

সমাবেশে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য দরকার সাংবাদিকের লড়াকু মন, গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকতা আর গণতান্ত্রিক শাসন। এই তিনটিরই অভাব রয়েছে। নানা কারণে সাংবাদিকরা এখন সাংবাদিকতাকে স্রেফ পেশা হিসেবে নিয়েছেন। সাংবাদিকতা আসলে কেবল তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহের পেশা নয়, এটির ভিত্তি হচ্ছে তথ্য যাচাই করাও। নিয়োগ আছে কিন্তু বেতন নেই, এমন গণমাধ্যম তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দু-একটি বাদ দিলে বেশির ভাগ গণমাধ্যম হাউসগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তারা সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ অবস্থানকে সমর্থন করতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুরক্ষাও দিতে পারে না। অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাস সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ¤¬ান করে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের হতে হবে পক্ষহীন। পক্ষপাতহীনতা মানে সাংবাদিক কোনো পক্ষে নেই। প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যম। গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসনের নিরন্তর সহযোগী। কাজেই যে সরকারই আসুক সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ভালো সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাসসের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মমতাজ শিরীন ভরসা প্রমুখ। সমাবেশে অতিথি ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফায়সাল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর জেলার আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ও মহানগরের মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার প্রমুখ।

বক্তাগণ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, ২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকসহ দেশের সব সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ, সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী সব আইন বাতিল, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান। রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমাবেশে রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হবে – রংপুরে বিএফইউজে মহাসচিব

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

সব ভয়-ভীতি ও লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে জাতির সামনে সত্য তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হবে। যাদের এই সাহস নেই তাদের জন্য সাংবাদিকতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সাংবাদিকতার নামে কী হয়েছে, সেটা সবার জানা। এমন পতন ও পচনমুখী সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ১১ জানুয়ারি শনিবার বিকালে রংপুর টাউন হলে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) আয়োজিত বিভাগীয় সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের উদ্বোধন করেন ২৪ এর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা ও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সদস্য শামসি আরা জামান কলি।

সমাবেশে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য দরকার সাংবাদিকের লড়াকু মন, গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকতা আর গণতান্ত্রিক শাসন। এই তিনটিরই অভাব রয়েছে। নানা কারণে সাংবাদিকরা এখন সাংবাদিকতাকে স্রেফ পেশা হিসেবে নিয়েছেন। সাংবাদিকতা আসলে কেবল তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহের পেশা নয়, এটির ভিত্তি হচ্ছে তথ্য যাচাই করাও। নিয়োগ আছে কিন্তু বেতন নেই, এমন গণমাধ্যম তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দু-একটি বাদ দিলে বেশির ভাগ গণমাধ্যম হাউসগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। তারা সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ অবস্থানকে সমর্থন করতে পারে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুরক্ষাও দিতে পারে না। অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাস সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ¤¬ান করে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের হতে হবে পক্ষহীন। পক্ষপাতহীনতা মানে সাংবাদিক কোনো পক্ষে নেই। প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত গণমাধ্যম। গণতন্ত্র, সুশাসন ও আইনের শাসনের নিরন্তর সহযোগী। কাজেই যে সরকারই আসুক সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ভালো সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাসসের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মমতাজ শিরীন ভরসা প্রমুখ। সমাবেশে অতিথি ছিলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফায়সাল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর জেলার আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ ও মহানগরের মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার প্রমুখ।

বক্তাগণ সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, ২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পাঁচ সাংবাদিকসহ দেশের সব সাংবাদিক হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ, সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী সব আইন বাতিল, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান। রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক সমাবেশে রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন।