জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে শনিবার ভোর থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পুণ্যস্নান সম্পূর্ণ করেছেন আগতরা। হে মহা ভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর; এ মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় পূণ্যার্থীরা আদি ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানে অংশ নিচ্ছেন।
স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা , হরিতকি, ডাব, আম পাতা, কলা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদের জলে তর্পণ করছেন তারা। সকালে লগ্ন শুরুর পরপরই স্নানার্থীদের ঢল নামে ব্রহ্মপুত্র নদে। ধর্মীয় রীতি-রেওয়াজ অনুযায়ী স্নানে অংশ নিচ্ছেন তারা। এসময় ব্রহ্মপুত্র নদের আশেপাশে বিপুল পরিমান ডিবি ও পুলিশ নিরাপত্তা পালন করতে দেখা যায়।
এ পুণ্যস্নানে মেলান্দহ, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলাসহ শেরপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলার নিকটবর্তী উপজেলা থেকে আগত সনাতন সম্প্রদায়ের প্রায় ২০-২৫ হাজার পুণ্যার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ব্রহ্মপুত্রের তীরে সনাতনধর্মের পুণ্যার্থী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের এক মহামিলন মেলা শুরু হয়। অনেক স্নানার্থী জানান, এবার অষ্টমীস্নান করতে আসা লোকের সংখ্যা অনেক কম।
শেরপুর জেলা থেকে আসা লিপন দাস (৫৫) জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ মোচন হয়, ব্রহ্মার কৃপা লাভ করা যায়। তাই আমি প্রতি বছর স্নানোৎসবে আসি। আমি একা আসিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে স্বপরিবারে এসেছি। কিন্তু নদীতে জল নাই। আগামী বছর জল থাকবে কিনা জানি না। যেটুকু আছে ঘোলা জল, তারপরেও স্নান করে পূণ্য হলো মনে করি।
দয়াময়ী মন্দির কমিটির অনিল গৌড় জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে জল নেই তবু পূণ্যলাভের আশার ঘোলা জলে স্নান করছে পূণ্যার্থীরা। আগামীতে যদি নদীতে জল না থাককে তাহলে আশেপাশে ১৫-২০টি গভীর নলকূপ বসিয়ে দিবো। জল তুলে পূণ্যস্নান করবে। আর কি করার আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে অষ্টমীস্নান উপলক্ষে জামালপুর শহরের সাড়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী মন্দির এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমীমেলা।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের মোয়া, মুড়ি-মুড়কি, ঝুড়ি, গজা, দই-চিড়া, চিনি-গুড়ের তৈরি হাতি-ঘোড়া ও মাছ আকৃতির সাঁঝ, জিলাপি ও বিভিন্ন স্বাদের খাবারসহ শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালি দা-বটি, তৈজসপত্রের দোকান বসে। অষ্টমী মেলায় হিন্দুদের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের শিশু-কিশোর, গৃহীনিসহ অনেকেই ঘুরে দেখতে এবং কেনাকাটা করতে আসে।
মেলায় দোকানীরা জানান, এই অষ্টমী মেলা সাতদিন ব্যাপি হয়। কিন্তু এবার মেলায় লোকজন কম। হয়তো সাত করা যাবে না, তিনদিন পরেই হয়তো ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে হবে। মন্দিরের সাথে মেলার মাঠ ছিল। কিন্তু মাঠে গত সরকার সংস্কৃতি পল্লী করাতে দোকান নিয়ে বসার জায়গাও নাই।
শেরপুর জেলা থেকে আসা লিপন দাস (৫৫) জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে পাপ মোচন হয়, ব্রহ্মার কৃপা লাভ করা যায়। তাই তিনি প্রতি বছর স্নানোৎসবে অংশ নেন। আমি একা আসিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে স্বপরিবারে এসেছি।
কিন্তু নদীতে জল নাই। আগামী বছর জল থাকবে কিনা জানি না। যেটুকু আছে জল ঘোলা তারপরেও পূণ্য হলো।
দয়াময়ী মন্দির কমিটির অনিল গৌড় জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে জল নেই তবু পূণ্যলাভের আশার ঘোলা জলে স্নান করছে। নদীতে জল না থাকলে আশেপাশে ১৫-২০টি গভীর নলকূপ বসিয়ে দিবো। জল তুলে পূণ্যস্নান করবে। আর কি করার আছে।
প্রসঙ্গত, সনাতন ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, ঋষিমণি পরশুরাম নামে সত্যযুগে জন্ম গ্রহণের পর কুঠার দিয়ে তার মাকে হত্যা করেছিলেন। এ সময় অভিশাপে তার হাতে কুঠার লেগে থাকে। তিনি অনেক সাধনার পর অলৌকিকভাবে দৈববাণী পেয়ে যান। এর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, চৈত্র মাসে শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে সমস্ত জীবনের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তাই তিনি কালক্ষেপণ না করে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করেন। এ সময় তার হাতে লেগে থাকা অভিশপ্ত কুঠার ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে পড়ে যায়।
এ কারণে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন যুগ যুগ ধরে এ বিশ্বাস থেকে কুলনন্দন ব্রহ্মারপূত্র ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিবছর পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে পুণ্যস্নান করে থাকেন।




















