০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় শহীদের স্মৃতি

গ্রীষ্মের খরতাপে যখন প্রকৃতি ক্লান্ত, তখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাস যেন নতুন প্রাণে জেগে ওঠে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলের রঙিন ছোঁয়ায়। আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া আর বেগুনি জারুলের মিষ্টি মায়া মিলেমিশে এক অপূর্ব সৌন্দর্যরূপ দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কৃষ্ণচূড়া রোড’ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয়, এক টুকরো রঙিন বাংলাদেশের বুকেই হেঁটে যাচ্ছেন আপনি। দুই নাম্বার গেট থেকে শুরু করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠ, একাডেমিক ভবনের পেছনের পথ, সবখানেই রক্তিম কৃষ্ণচূড়া আর বেগুনি জারুল ফুল যেন প্রেম আর প্রতিবাদের নিঃশব্দ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এই অপরূপ প্রকৃতির মাঝেই আবেগ ছুঁয়ে যায় বেরোবির ইতিহাসের এক নির্মম স্মৃতি—শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ। তিনি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। এই ঘটনার পর রংপুরের পার্ক মোড়ের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আজও আবু সাঈদের স্মৃতি বুকে ধারণ করে চলেছেন। কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলের সৌন্দর্যের মাঝে তারা খুঁজে পান সেই আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। এই ফুলগুলো যেন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

আজ বেরোবির শিক্ষার্থীরা যখন কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে, যখন কেউ জারুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তখন তাদের চোখের কোণায় ভেসে ওঠে সেই ছেলেটির মুখ যে ছিল এক বিপ্লবের প্রতীক।

বেরোবি আজ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি স্মৃতি, সৌন্দর্য আর সাহসিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় তাই শুধুই প্রেম নয়, আছে প্রতিজ্ঞাও—আরও অনেক আবু সাঈদ তৈরি হবে, যাদের বুকেও ফুটে উঠবে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া।

জামালপুরে ট্রাক চালক শ্রমিকের পরিবারদের মাঝে চেক হস্তান্তর

রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় শহীদের স্মৃতি

আপডেট সময় : ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

গ্রীষ্মের খরতাপে যখন প্রকৃতি ক্লান্ত, তখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাস যেন নতুন প্রাণে জেগে ওঠে কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলের রঙিন ছোঁয়ায়। আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া আর বেগুনি জারুলের মিষ্টি মায়া মিলেমিশে এক অপূর্ব সৌন্দর্যরূপ দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কৃষ্ণচূড়া রোড’ দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হয়, এক টুকরো রঙিন বাংলাদেশের বুকেই হেঁটে যাচ্ছেন আপনি। দুই নাম্বার গেট থেকে শুরু করে স্বাধীনতা স্মারক মাঠ, একাডেমিক ভবনের পেছনের পথ, সবখানেই রক্তিম কৃষ্ণচূড়া আর বেগুনি জারুল ফুল যেন প্রেম আর প্রতিবাদের নিঃশব্দ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এই অপরূপ প্রকৃতির মাঝেই আবেগ ছুঁয়ে যায় বেরোবির ইতিহাসের এক নির্মম স্মৃতি—শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ। তিনি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। এই ঘটনার পর রংপুরের পার্ক মোড়ের নামকরণ করা হয় ‘শহীদ আবু সাঈদ চত্বর’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আজও আবু সাঈদের স্মৃতি বুকে ধারণ করে চলেছেন। কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলের সৌন্দর্যের মাঝে তারা খুঁজে পান সেই আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। এই ফুলগুলো যেন প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

আজ বেরোবির শিক্ষার্থীরা যখন কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে, যখন কেউ জারুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়, তখন তাদের চোখের কোণায় ভেসে ওঠে সেই ছেলেটির মুখ যে ছিল এক বিপ্লবের প্রতীক।

বেরোবি আজ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি স্মৃতি, সৌন্দর্য আর সাহসিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় তাই শুধুই প্রেম নয়, আছে প্রতিজ্ঞাও—আরও অনেক আবু সাঈদ তৈরি হবে, যাদের বুকেও ফুটে উঠবে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া।