গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর জেলার নিম্নাঞ্চলের ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকরা। পীরগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে শাক সবজি ১২ হেক্টর, ভুট্টা ২ হেক্টর, ধান ৩৭ দশমিক ৫ হেক্টর, পাট ১ দশমিক ৫ হেক্টর, বাদাম ৩০ হেক্টর ও মরিচ ৫ হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, তারা বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব মরিচ, বাদাম ও সবজি উঠিয়ে নিচ্ছেন। উপজেলার অনন্তরাম গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক কষ্টে ২০ শতক জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। দুই দিনের বৃষ্টির পানিতে গাছ ডুবে গেছে। বাধ্য হয়ে গাছ তুলে ফেলেছি। চালুনিয়া গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া বলেন, ধান পেকে গেছে, কিন্তু শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারিনি। এখন বৃষ্টিতে ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত খরচ দিয়ে কাটতে হবে। লাভের চেয়ে লোকসানই হবে বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় জমিতে পানি থাকলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত জমি থেকে পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলায় ৮৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অপরদিকে গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে ১ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিকসংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকগণ। আইজল মিয়া নামে এক কৃষক বলেন, ধারদেনা করে ধান চাষ করেছি। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে পাকা ধান। পরিকল্পনা ছিল কিছু ধান বেচে ঋণের টাকা শোধ করবো। আর বাকি ধান দিয়ে সংসারের কয়েক মাসের খরচ জোগাবেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে বৈরী আবহাওয়া আর শ্রমিকের সংকট তাঁর সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঝাউবাড়ী গ্রামের মোস্তফা মিয়া বলেন, পানিতে তিন বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। ধান কাটতে না পারলে পানির নিচে গাঁজ ধরবে। ধান কাটা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। আরেক চাষি রন্জু মিয়া বলেন, তিন-চার দিনের ঝড়ে পাকা ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। আরেক কৃষক গোলজার আলী বলেন, ক্ষেতে পানি জমে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডুবে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিকেরা বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে। হামারে মতো অল্প জমিওয়ালা কৃষানের ধান কাটতে বাহানা শুরু করছে শ্রমিকরা। বাধ্য হয়ে বউ-ছল লিয়ে খ্যাতের ধান ক্যাটতে শুরু করছি। বাকি ধান খ্যাতেই পড়ে আছে। আর দুই-তিন দিন এভাবে বৃষ্টি হলে আর ধান ক্যাটতে না পারলে সব ধান খ্যাতেই নষ্ট হয়ে যাবে। গত তিন-চার দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার নিচু এলাকার পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জমির ধানগাছ পানিতে শুয়ে পড়ছে। এছাড়া অনেক জমিতে ধানগাছ গলা পানিতে উঁকি দিচ্ছে, সেই জমির ধানের শীষ আস্তে আস্তে ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে ধান কাটা শ্রমিকেরা বলেন, বৈরী আবহাওয়া, পানিতে ডুবে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং ঝড়ে ক্ষেতের ধান এলোমেলোভাবে নুয়ে পড়ায় ধান কাটতে বেশি পরিশ্রম হচ্ছে। পানিতে ডুবে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, এবার জেলায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২৪ থেকে ২৫ মণ করে ধানের ফলন হয়ে থাকে। তবে এবার বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে ঘন ঘন ঝড়-বৃষ্টিতে এ অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ব্লাস্ট রোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় অনেক ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ধানসহ শাক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। শাক সবজির ক্ষেতে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মাঠ পর্যায়ে তালিকা করা হচ্ছে।
এমআর/সব
শিরোনাম
রংপুর অঞ্চলে কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ফসল
-
রংপুর ব্যুরো - আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
- ।
- 77
জনপ্রিয় সংবাদ




















