রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসছে হকারদের দোকান ও অস্থায়ী বাজার। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিনিয়তই বিঘ্ন ঘটছে। সড়কের ওপর বাজার বসায় যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। ফলে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসছে হকারদের দোকান ও অস্থায়ী বাজার। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধে ওই পথ দিয়ে হাঁটাচলাও স্থানীয়দের অস্বস্তি তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় থানা বিএনপির কতিপয় নেতা শ্রেণিভেদে দৈনিক দোকানপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হারে চাঁদা তুলে হকারদের বসানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন। থানা কমিটির আহবায়ক, ১ম যুগ্ম আহবায়ক ও তাদের অনুসারি অন্যান্যরা নিয়মিত শতাধিক ফুটপাতের দোকান থেকে দৈনিক কয়েক লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন। এর একটি অংশ থানা, ফাঁড়ি, টহল পুলিশ এমনকি ডিএসসিসি’র অঞ্চল-৩ এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে ফ্যাসিস্টের তকমা লাগিয়ে পুলিশি হয়রানি ও হেনস্থা করা হয়। সড়কের ওপর দোকানপাট ও বাজার বসায় যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা। ফলে প্রায়ই এখানে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য হলেও তা এখন হকারদের দখলে রয়েছে । অনেক জায়গায় ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের ওপরও পসরা সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। এতে বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিকভাবে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে পরিদর্শনে আসেন। সেদিন তার ঝটিকা সফরকালে আজিমপুর সরকারি কোয়াটার ও আশপাশের সড়কে চরম অব্যবস্থাপনা বিশৃঙ্খলা দেখতে পেয়ে সরকারি কোয়াটার থেকে সাবলেট বাসিন্দাদের এবং সড়ক পরিছন্নতার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর সরকারি কোয়াটার থেকে সাবলেট বাসিন্দারা সরে গেলেও সড়ক পরিছন্নতার কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দুদিন পরেই সেই সড়কে আবারো নিত্যপণ্যের পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। আর মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে এদের মদদ দিচ্ছেন স্থানীয় লালবাগ থানার নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীরা।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গত ২৮ অক্টোবর গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে হকার বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি আরও বলেন, যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই নগরবাসীর স্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। জনগণের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্টসংখ্যক হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এমন বক্তব্যের পর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন এলাকার ফুটপাত এবং নিউমার্কেট-সাইন্সল্যাব, এলিফ্যান্ট রোডের সড়ক দখলমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, উচ্ছেদের পর যাতে আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখল না হয়, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। যখন উচ্ছেদ অভিযান চালাই তখন হকাররা চলে যায়, পরে আবার তারা বসে। এ বিষয়ে আমি নজরদারি করছি, তবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন যদি আমাদের উচ্ছেদে সহযোগিতা করে সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।