নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি)’র কেন্দ্রীয় নেতারা পূর্ব ঘোষিত পথসভায় মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হতাশ হয়ে পথসভার স্থল ত্যাগ করেন নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, এনসিপি’র মাসব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদের সামনে এক পথসভার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টা থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন এনসিপি’র সোনারগাঁ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যা ৬টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাত ৮টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা সভাস্থলে না আসায় নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষোভ ও বিভিন্ন মন্তব্য করে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
পরে আয়োজক কমিটি ঘোষণা দেয়, কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জের জনসভা শেষে হাজীগঞ্জে জুলাই শহীদদের বিজয়স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান। সেখানে সময় বেশি লাগায় এবং রাত হয়ে যাওয়ায় তারা সোনারগাঁ পথসভায় অংশ নিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এনসিপির নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দু’দিন ধরে খুব কষ্ট করেছি। নির্ঘুম রাত কেটেছে। সারাদিন কতো উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সভাস্থলে ছিলাম। কিন্তু মহাসড়কের পাশে আমাদের সভাস্থল হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে একটু সময়ের জন্য সভাস্থলে আসেনি। তবে উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত না থাকলেও নেতা-কর্মীদের সান্তনা দিতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক শাকিল সাইফুল্লাহ বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সভা দীর্ঘ হওয়ায় এবং হাজীগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে সময়ের ঘাটতির কারণে কেন্দ্রীয় নেতারা আর সোনারগাঁ আসতে পারেনি।
এদিকে, জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মাহমুদের ছবি সম্বলিত কয়েকটি ব্যানার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা জামে মসজিদের উপর সাঁটানোর কারনে পুরো উপজেলায় চলছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। যার ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে দেখা যায় সভাস্থলের পাশে মসজিদে মাগরিবের নামাজ চলাকালীন সময়ে মাইকে এনসিপির নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিচ্ছে। এ নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসুল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।
এবিষয়ে মসজিদের মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশে মসজিদের দেয়ালে কেউ ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটাতে দেখিনি এবং নামাজের ব্যাঘাত ঘটিয়ে কখনো মাইকে শ্লোগান দিতে দেখিনি। যা আজ এনসিপির নেতাকর্মীরা দেখালো। এদেশে শিক্ষিত ব্যক্তিদের এমন মূর্খ কর্মকাণ্ড কখনো আশা করিনি।
এ ব্যাপারে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মাহমুদ জানান, মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময়ে শ্লোগান ও আমার ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগানোর বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার অনুপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
কেনো এনসিপি’র নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়নি প্রশ্নের এক জবাবে তিনি আরও বলেন, কিছু ইন্টারনাল বিষয় ছিলো যা বলতে চাচ্ছিনা। তবে এই পথযাত্রা শেষ হলেই সর্বপ্রথম সোনারগাঁয়ে সমাবেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের মন্তব্য, “এনসিপি” একটি নতুন দল। “দুইদিনের বৈরাগী, ভাতেরে কয় অন্ন”। বর্তমান এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এখনই তারা সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার কথা বলছে। ঘোষণাও দিয়ে দিচ্ছে, অমুককে সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত করার জন্য। তাদের এখনও ইউপি নির্বাচনে মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা হয়েছে কি না বা সেটা নিয়ে ভেবেছে কি না জানি না। তবে যারা সাংসদ হওয়ার আশায় মূর্খতার পরিচয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা সর্বমহলে লোক হাসানো কর্মকাণ্ড বা বিতর্ক ছাড়া আর কিছুই নয়। আগে তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ করুক, পরে না হয় জনগণ বিবেচনা করবে তাদেরকে নির্বাচনে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে।























