উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। আজ ২১ জুলাই সোমবার
সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয় ৫২
দশমিক শূন্য ৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে
তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি চাপ মোকাবিলায় ডালিয়া
তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নদীপাড়ের মানুষ বলেন,
ভারতের উজানে টানা বৃষ্টির কারণে হঠাৎ পানি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে তিস্তার পানি বাড়ছে। কয়েক দিন
ধরে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করলেও তা এখনো অতিক্রম করেনি।
তবে পানির প্রবল ঢলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলের
মাঠ তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা
ও ভেলা। ডুবে যেতে বসেছে আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল। পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মাছ ভেসে যাচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। রংপুরের
গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল পানিতে তলীয়ে গেছে। নীলফামারী জেলার
ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল পানিতে তলীয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধিতে নতুন
নতুন এলাকা ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের
শামসুল আলম বলেন, উজান থেকে প্রচুর পানি আসছে। ইতিমধ্যে নিচু এলাকায় পানি ঢুকেছে।
অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা
ইউনিয়নের গোবরধন গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, দুই দিন ধরে উজানের ঢলে পানি বাড়ছে। চরাঞ্চলের
কিছু ঘরে পানি উঠতে শুরু করেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে বড় বন্যার আশঙ্কা করছি।
ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মশিউর রহমান বলেন, বন্যা হলেই আমাদের
কয়েকটি ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এবারও তেমন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। পানি
উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি
আসায় তিস্তার পানি বাড়ছে। সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার
নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। অপর দিকে
নীলফামারী সদর উপজেলায় তিস্ত সেচ প্রকল্পের বামতীর বাঁধ ভেঙে রোপা আমনের ক্ষেতসহ বিস্তৃীর্ণ
এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত শনিবার সদর উপজেলার কালিতলা ভাট্টাতলি এলাকায় তিস্ত সেচ প্রকল্পের
বামতীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে তিস্তার দিনাজপুর সেচ খালের চাঁদেরহাট স্লুইচ গেট থেকে
নীলফামারী সদর, দিনাজপুরের খানসামা ও চিরিরবন্দর এলাকায় খরিপ-২ মৌসুমের সেচের পানি
প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ (পাউবোর) নির্বাহী প্রকৌশলী
আতিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধারণা করা হচ্ছে রাতে ভারী বৃষ্টিপাতের
কারণে পাড়ের মাটির ওপর চাপ পড়ে যায়। এতে ইঁদুরের গর্তে পানি ঢুকে পাড়ের ৩০ ফিট বিধ্বস্ত
হয়। প্রাথমিকভাবে সেখানে জিও ব্যাগ ও মাটি দিয়ে ভাঙা অংশে মেরামত করা হচ্ছে। কালিতলা
ভাট্টাতলি গ্রামের কৃষক ইউনুছ আলী বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত না থাকায় সেচের
পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে দিনাজপুর সেচ ক্যানেলে পানি চাপ বেড়ে যায়। ওই সেচের পানি
দিয়ে কৃষকরা রোপা আমন চারা রোপণ করছিল। গত শনিবার রাতে এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে
ইঁদুরের গর্তে ক্যানেল পাড়ের বাঁধে ফাটল ধরে। শনিবার সকালের দিকে হঠাৎ করে পানির চাপে এটি
বিধ্বস্ত হয়। এতে এলাকার প্রায় ৩০ একর রোপা আমন ক্ষেত এবং ঢ্যাঁড়শ, মরিচ, বিভিন্ন শাক-
সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
শিরোনাম
পানির চাপে খুলে দেওয়া হলো তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট, সেচ প্রকল্পের বাঁধ ভেঙে বিস্তৃীর্ণ এলাকা প্লাবিত
-
রংপুর ব্যুরো - আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- ।
- 112
জনপ্রিয় সংবাদ























