রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) জমির হাজারো তাজা গাছ প্রকাশ্যে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে জমি ভরাটে নিয়োজিত ঠিকাদারকে দায়ী করছে এবং তাকে শোকজ করেছে।জানা যায়, সিলিন্দা মৌজার প্রায় ২০৫ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে রামেবি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জমিতে আম, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ ছিল। রামেবি প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী এসব গাছ দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির জন্য নাম্বারিং করা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। অথচ গোটা এলাকায় গাছ কাটার চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে প্রতিদিন গাছ কেটে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর কাটা গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এতে জমির বহু জায়গা এখন পুকুরের মতো দেখাচ্ছে। পাশের ড্রেন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রেও কয়েক শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয় নারী ববিতা বেগম বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে প্রতিদিন গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আমাদের বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় গাছ বিক্রি করেছে।’
অপর আরেক নারী নাসিমা খাতুন বলেন, ‘এই রকম মোটা মোটা গাছ ছিল, সব কেটে সাবাড় করে দিল। এমনকি আমাদের খড়িও নিতে দেয়নি।’
একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক ভিসি মোস্তাক আহমেদ তুহিন এর তত্ত্বাবধানে লিয়াজু প্রটোকল ও ভিসি টু পিএস ইসমাইল হোসেন তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা একর করা থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে আধিপত্য বিস্তার করে, এবং তার সাথে সংযুক্ত সেকশন অফিসার আরাফ ও বনী জড়িত আছে। তারা বর্তমানে প্রজেক্ট সাইডে কর্মরত আছে। তাদের তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয় এর লুটপাটের কাজে ব্যবহার করা হতো অফিস সহায়ক ইমরান হোসেন কে। আরো জানা যায় গাছ কাটার সঙ্গে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক দলের সাবেক ছাত্রনেতা, জমির ভাড়াটে দেখভালকারী হাফিজুল, ভরাটের ঠিকাদারের যোগসাজশ রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রামেবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. হাসিবুল হোসেন বলেন, ‘গাছ কাটার খবর আমি অফিশিয়ালি জানি না। তাই এ নিয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার প্রশ্নই আসে না।’
রামেবির উপপ্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর বলেন, ‘আমরা নয়, ঠিকাদার বেআইনিভাবে গাছ কেটেছে। এজন্য তাকে শোকজ করেছি। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার স্থানীয় ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা গাছ কাটিনি। যেখানে গাছ কাটা হয়েছে, সেদিকে আমাদের কোনো কাজই নেই।’

























